রফিকুল ইসলাম ফুলাল প্রতিনিধি দিনাজপুর :
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সাবেক ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে হত্যা চেষ্টা মামলার একমাত্র আসামী রবিউল ইসলাম (৪২)কে ১০ বছর কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত। এছাড়াও ১৩ হাজার টাকা অর্থ জরিমানা করেছে। অনাদায় আরো তের মাস কারাদন্ডে দন্ডিত করে রায় ঘোষনা করেন বিজ্ঞ আদালত।
৮ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় মামলার রায় ঘোষনা করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত এবং স্পেশাল ট্রাইবু্নাল-৩ এর বিচারক সাদিয়া সুলতানা। দিনাজপুর জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউশন পিপি এ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রবি রায় ঘোষনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও হত্যা চেষ্টা মামলায় দন্ডবিধি ৩০৭ ধারায় ১০ বছর সশ্রম কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদন্ড এবং দন্ডবিধি ৩২৫ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ৩ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদন্ডে দন্ডিত করেছেন বিজ্ঞ বিচারক।
তিনি জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ওই মামলাটির যে যুক্তিতর্ক শেষ হয়। আজ ৮ নভেম্বর একমাত্র আসামীর উপস্থিতিতে এই মামলার রায় ঘোষনা করা হয়। তিনি আরও জানান, মামলাটিতে মোট ৫৩ জন সাক্ষী দিয়েছেন। মামলায় একমাত্র আসামি ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের বরখাস্ত মালি রবিউল ইসলাম উচ্চতর আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন তবে তার উপস্থিতিতেই আদালতে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি ডাক বাংলাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় তাদেরকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দুপুর ১টায় হেলিকপ্টার যোগে ওয়াহিদা খানমকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ ও র্ যাব কয়েক জনকে আটক করেন। ১১ সেপ্টেম্বর রাতে জেলার বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের বিজোড়া গ্রামের খতিব উদ্দীনের ছেলে ও ঘোড়াঘাটের ইউএনও বাসভবনের সাবেক কর্মচারী রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়।
২০ সেপ্টেম্বর তাকে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৭ এর বিচারক ইসমাইল হোসেনের এজলাসে উপস্থিত করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।