মোঃ ইসমাইল ভোলা :
সাম্য ও সামাজিক ন্যায় বিচার ও মানবিক মর্যাদা না পাওয়ার কারেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিল। শুধু যে অস্ত্রধারণ করেছে তা কিন্তু নয়, যুদ্ধে বিজয়ও অর্জন করেছে বাংলার মানুষ। কিন্তু স্বাধীনতার ৫১ বছর পরও সে অধিকার আজও বাস্তাবয়ন হয়নি। তাহলে কেনো এদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছিল, জীবন দিয়েছিল, হাজারও মা-বোন কেনো ইজ্জত দিয়েছিল। সেদিন এতো কিছু দেয়ার একমাত্র কারন ছিল সাম্যতা সৃষ্টি হবে, মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে ও ন্যায় বিচার বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু আমরা কি দেখেছি দেশে সাম্যতা বলতে কিছু নেই। মানবিক মর্যাদার ধারে কাছেও নেই এবং ন্যায় বিচারের প্রশ্নেই আসতে পারে না। স্বাধীরতার পর থেকে আমরা বহু দল ও নেতার শাসন দেখেছি কিন্তু আমরা শান্তি পাই নাই। সাম্যতা রক্ষা করতে পারি নাই, সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে পারি নাই। আর ন্যায় বিচার তো বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে।
আজ শুক্রবার বিকলে ৫টার দিকে ভোলা শহরের গোরস্থান মাদরাসার মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা শাখার আয়োজনে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুল করিম এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, পূর্বের ইতিহাস বাদ দিলাম। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। সে সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। মানুষ ভেবেছিল দীর্ঘদিন স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের স্বৈরশাসন দুর হয়ে একটি গণতন্ত্রভিত্তিক রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে। মানুষ শান্তি পাবে। কিন্তু ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দেশ চালানোর পরে মানুষ তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আবার ভেবেছিলাম শেখ সাহেবের কন্যা শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসালে দেশে শান্তি আসবে। কিন্তু না ২০০০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার পর তাদের ভরাডুবি হয়েছে। ২০০১ সালে শান্তির জন্য আবারও বিএনপিকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে। কিন্তু তারা এমনভাবে দেশ চালিয়েছে যে ২০০৬ সালের পর দুই দলের নেতাদেরকে জেলে যেতে হয়েছে। সেনাবাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হয়েছে। সেনাবাহিনী আড়াই বছর দেশ চালিয়েছেন। আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২০২২সাল পর্যন্ত আছে। কিন্তু মানুষ শান্তি পায় নাই।
ফয়জুল করিম বলেন, নির্বাচনে শুধু নেতা আর দলের পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে শান্তি আসবে না। দেশে শান্তি আসতে হলে নীতির পরিবর্তন করতে হবে। কখনো নীতিহীন মানুষ দিয়ে দেশে সাম্য, ন্যায় বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তাই আগামী নির্বাচনে হাত পাখায় ভোট দিতে সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের ভোলা জেলার সহসভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম খাঁন প্রমূখ।