• ২৪শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদেশে ভালো চাকরীর প্রলোভন জমিজমা হারিয়ে সর্বশান্ত বামনার একটি পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত নভেম্বর ২০, ২০২২, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

বামনা(বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
বিদেশে দুই লাখ টাকা বেতনের চাকুরী দেওয়া হবে এমন প্রলোভনে নিজের সহায় সম্পত্তি সবটুকু বিক্রি করে ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে টাকা দেয় স্থানীয় এক প্রতিবেশীকে। ওই প্রতিবেশী দালালের মাধ্যমে তাকে বিদেশে ঠিকই নিয়ে যায় তবে যে দেশে নেওয়ার কথা সেখানে না নিয়ে মাঝ পথে অন্য দেশের ভিন্ন দালালের কাছে বিক্রি করে দেয় তাকে। সেদেশে মাত্র ২৫ হাজার টাকা দেয় সেখানের প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিরা। ফলে ওই টাকায় নিজের খাওয়ার খরচটুকু উসুল না হওয়ায় উল্টো বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে চলতে হতো তাকে। এছারাও সেখানে শারিরীক ও মানষিক নির্যাতনও ছিলো বর্বরোচিত। নির্যানের কঠোরতায় একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বাড়ি থেকে বিমান ভাড়া নিয়ে পালিয়ে আসে বাংলাদেশে। এই ঘটনাটি বরগুনার বামনা উপজেলার সোনাখালী গ্রামের। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম ইউনুস মোল্লা। তিনি ওই গ্রামের আশ্রাফ মোল্লার ছেলে।
এঘটনায় বামনা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও অদ্যবধি কোন সুফল পাচ্ছেনা পরিবারটি। ফলে না খেয়ে অর্থাহারে দিন কাটে পরিবারটির। এদিকে বিপুল অঙ্কের টাকা ঋন নেওয়ায় কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেরাচ্ছেন তারা।
অভিযোগে জানাগেছে, সোনাখালী গ্রামের খালেক মোল্লা বিপুল অঙ্কের বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশী ইউনুস মোল্লাকে ইতালী পাঠানোর জন্য তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নগদ ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই টাকা ইউনুস মোল্লা নিজের সবটুকু জমি ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তাকে দেয়। কিন্তু তাকে ইতালীতে না নিয়ে মাঝ পথে তুর্কিস্থানে অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। তারা তাকে সেখানে আটকে রেখে মাত্র ২৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন দিয়ে কাজ করানোর নামে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পরে ৫ মাস সেখানের থেকে বাড়ি থেকে বিমান ভাড়া নিয়ে কোন মতে জীবন নিয়ে ফিরে আসেন বাংলাদেশে।
এদিকে সে বাংলাদেশে আসার পর ওই টাকার কিছু অংশ ফেরত পেতে খালেক মোল্লাকে স্থাণীয়রা অনুরোধ করলে টাকা নেওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করেন তিনি। পরে ইউনুস মোল্লা বামনা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় শালিস ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দেয় পুলিশ। কয়েক দফা মিমাংসার বৈঠক করার পরে গত ৯ নভেম্বর উভয়পক্ষের শালিসগন ইউনুস মোল্লার পক্ষে রায় দেয়। রায় লিখিত হওয়ার পূর্বে গত শনিবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী ইউনুস মোল্লা স্থানীয় সোনাখালী বাজারে আসলে খালেক মোল্লা দলবল নিয়ে তার ওপর অতর্কীত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ইউনুস মোল্লা জানান, প্রতিবেশী খালেক মোল্লার ছেলে বিদেশে থাকে। এজন্য তিনি আমাকে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেয়। তখন কথা হয় তারা আমাকে ইতালীতে নিয়ে যাবে। সেখানে আমাকে ২ লাখ টাকা বেতন দেওয়া হবে। আমি তার এই প্রলোভনের ফাঁদে পরে প্রায় ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা তাকে ও তার স্ত্রী পারুল বেগমকে প্রদান করি। আমাকে বিদেশেও নিয়ে যায় তবে মাঝ পথে তুর্কিস্থানে তারা আমাকে দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। আমি ৫মাস পরে কোন মতে পালিয়ে বেঁচে ফিরি।
অভিযুক্ত খালেক মোল্লা বলেন, আমি কোন টাকা পয়সা নেইনি। যে টাকা দিয়েছে সব আমি দালালকে দিয়েছি। ও যদি সেখানে কষ্ট করে আরো কয়েকদিন থাকতে পারতো তাহলে ওর অনেক ভালো হতো।
বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বশিরুল আলম বলেন আমি অভিযোগ পেয়ে প্রথমে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার জন্য বলেছি। এখন মিমাংসা না হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।