তারিখঃ ২২ নভেম্বর ২০২২
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর গলাচিপায় প্রধানমন্ত্রীর ঘরের আশায় প্রহর গুণছে বাসুদেব চন্দ্র হাওলাদার (৪৫)। বাসুদেব চন্দ্র হাওলাদার হচ্ছেন উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কিসমত হরিদেবপুর গ্রামের মৃত. যোগেশ চন্দ্র হাওলাদার ও করুন বালা দম্পত্তির ছেলে। মা, স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানের পরিবারটির একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি বাসুদেব নিজেই। বাসুদেবের বড় মেয়ে ১০ম শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে ২য় শ্রেণির ছাত্রী। জীবন যুদ্ধের এক অসহায় দর্জি জীবনের গল্প বড়ই করুন। নিজের বলতে নাই কোন সম্বল, কাজ করেন পরের সাথে। পাঁচ জনের সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী বাসুদেব দর্জি নিজেই। এ বিষয়ে বাসুদেব চন্দ্র হাওলাদার বলেন, আমার কোন জায়গা জমি নাই। বাবার দেওয়া দুই শতক জমির উপরে পুরনো একটি ঘরে থাকি। বৃষ্টি এলেই ঘরের মধ্যে পানি পরে। তখন আমি পরিবার নিয়ে পাশের প্রাইমারি স্কুলে গিয়ে আশ্রয় নেই। ঘর ঠিক করা বা নতুন করে তোলার সামর্থ্য আমার নাই। দর্জির কাজ করে আর কত টাকা আয় করা যায়। তাই প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘর পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছি যদি ভাগ্য সহায় হয় তাহলে একটি ঘর পেয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারতাম। এ বিষয়ে বাসুদেব চন্দ্র হাওলাদারের স্ত্রী ঝর্ণা রানী বলেন, আমি দুটি কন্যা সন্তানের মা। আমার স্বামী গরিব মানুষ। দর্জি পেশায় নিয়োজিত আছেন। বর্তমানে ইদানিং তার মাথা হঠাৎ গরম এবং ব্যাথা অনুভব করেন। তাই ঠিকমত কাজও করতে পারেন না। এদিকে পুরনো ঘরটিতে থাকা অনেক কষ্টকর। বৃষ্টির সময় পানি পরে আর শীতে ঠান্ডা হাওয়ায় খুব কষ্ট হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে একটা ঘর দিলে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারতাম। গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নাসিরউদ্দিন হাওলাদার বলেন, আসলেই বাসুদেব চন্দ্র হাওলাদার গরিব মানুষ। তার একটি ঘর হলে পরিবারটি ভালোভাবে বাঁচতে পারবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, সরকারী ঘর গরিব মানুষের জন্যই। যাচাই বাছাই করে উপযুক্ত হলে অবশ্যই ঘরে পাবে।