ভোলা জেলা প্রতিনিধি।।
দ্বীপ জেলা ভোলায় খুদে বিজ্ঞানীদের মেলা বসেছে। এতে স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রচেষ্টায় মেধা খাটিয়ে উদ্বোধন করেছেন বিজ্ঞান বিষয়ক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি।
প্রযুক্তিক এ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে মানুষের জীবন-যাত্রার ও মান উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করছে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষার্থীরাও ধারণা পাবে। মেলায় আসা শিক্ষার্থীরা হয়ে উঠবে বিজ্ঞান মনস্ক।
বুধবার ( ২৩ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় সদর উপজেলা চত্বরে এ মেলার আয়োজন করা হয়। দুই দিনব্যাপী ৪৪ তম জাতীয় বিজ্ঞান প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং সপ্তম বিজ্ঞান অলম্পিয়াডে ঢল নেমেছে দর্শনার্থী ও খুদে বিজ্ঞানীদের।
কেউ আবিষ্কার করছেন স্রোতের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র ও ফসলের ক্ষেত থেকে ক্ষতিকর পোকা-মাকড় দূর করার যন্ত্র, বর্জ্য পলিথিন পুড়িয়ে তৈরি করছেন জ্বালানি তেল এবং গ্যাস, ভোলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান নিদের্শক। প্রযুক্তি নির্ভর এসব যন্ত্র উদ্ভবন করেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। খুদে বিজ্ঞানীদের এ মেলা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ।
আধুনিক নগরী উদ্ভাবন করেছেন ভোলা ফজিলাতুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসম্মৎ ছাদিকা(১৭)। তিনি বলেন, আমি একটি মডেল উপস্থাপন করেছি, যেখানে একটি পরিবেশ বান্ধব নগরীতে কিরকম হতে পারে তাঁর একটি ছবি তুলে ধরেছি। এখানে রয়েছে একটি “স্মার্ট হোম” স্মার্ট হোমটির কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, এতে যদি কেউ বিনানুমতিতে প্রবেশ করে তাহলে এটি বাঁধা দিবে। এবং ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে বাড়ির মালিক কে জানিয়ে দিবে। এবং বাড়িটির সাদে আমরা সাদ বাগান করেতে পাড়ি।
ছাদিকা আরও বলেন, আমরা প্লাস্টিকের সাহায্যে রাস্তা তৈরি করেছি। আমরা জানি প্রতি বছর বাংলাদেশ ১০ লক্ষ মেট্রিক টন প্লাস্টিক বজ্র হয়। আমরা সেই বর্জ্য গুলো কে রিসাইকেল করি না বা ভালো কাজে ব্যবহার করিনা। আমরা চাইলে সেই প্লাস্টিকে বজ্রগুলোকে গলিয়ে রাস্তায় ব্যবহার করি তাই সেই রাস্তা টেকসই হবে। এবং রাস্তা করতে আমাদের খরচ কম হবে। একই সাথে প্লাস্টিকের বর্জ্য পরিবেশ দূষণ করবে না।
বাতাস ও পানি দূষণ সমাধান যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন ভোলা পৌর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তামান্না, হাবিব ও সাথী। তাঁরা বলেন, আমাদের ধারণা এ যন্ত্রের মাধ্যমে বাতাস পানি দূষণমুক্ত করা যাবে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাও হবে।
মেলায় প্রধান আকর্ষণ ছিল টেলিস্কোপ। যা দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে। এটি তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নাজমুল হাসান জাহিদ। তিনি বলেন, এ যন্ত্রের মাধ্যমে মহাকাশ সম্পর্কে জানতে পারবে পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রহ নক্ষত্র দেখতে পারবে। মেলায় আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহাকাশের রহস্য জানার আগ্রহ তৈরি হবে।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞানমনস্ক একটি জাতি গঠনের বিশেষ ভূমিকা পালন করবে এ মেলায়। ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করবেন। দুইদিন ব্যাপী এ মেলায় ২৫ টি স্টল বসেছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা ও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে ভোলা উপজেলা প্রশাসন এ অলম্পিয়াডের আয়োজন করে। এ মেলা উদ্বোধন করেন ভোলা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইউএনও তৌহিদুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইউনুস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হামিদ প্রমূখ।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার ( ২৪ নভেম্বর) পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে এ মেলা শেষ হবে।