আবু তাহের, নিজস্ব প্রতিনিধি:
ভুয়া কাবিননাম তৈরী করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আইনজীবী সহকারী কাদেরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। সোমবার যশোর শহরের বারান্দিপাড়া কদমতলার মৃত ওলিউল্লাহর ছেলে ইমরান হোসেন বকুল বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পলাশ কুমার দালাল অভিযোগের তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলো, বাঘারপাড়ার ইন্দ্রা গ্রামের মেহেদী হাসান শাহিন ও তার স্ত্রী জেসমিন, পান্না শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম, ছেলে ওমর আলী, ঠাকুরগাতি গ্রামের আলাদউদ্দিনের স্ত্রী রেবেকা খাতুন, সদরের বাগডাঙ্গা গ্রামের মুকুল খন্দারের ছেলে রফিকুল ইসলাম তুহিন ও যশোর আইনজীবী সমিতির সদস্য সুদীপ্ত কুমারের সহকারী ফতেপুর কাদের মুহুরী।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ইমরান হোসেন বকুল প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি একটি শিল্প কারখানা করবেন বলে জমি খুজছিলেন। এরমধ্যে আসামি শাহিনের সাথে তার পরিচয় হয়। শাহিন নিজেকে যশোর পিবিআইয়ে কর্মরত আছেন বলে জানান। বকুল আসামি শাহিনের সাথে আলাপচারিতায় শিল্প কারখানা তৈরীর জন্য একবিঘা জমি ক্রয় করবেন বলে জানা। এ সময় শাহিন তার শ্বশুর বাড়ি বাঘারপাড়ার ইন্দ্রা গ্রামের তার স্ত্রী জেসমিনের নামে একবিঘা জমি আছে যা তিনি বিক্রি করবেন বলে প্রস্তাব দেন। বকুল জমি কিনবেন বলে ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে জেসমিনের ব্যাংক হিসাব নম্বরে ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ১০০ টাকা পরিশোধ করেন। এরপর জমি লিখে দিতে বললে শাহিন ও তার স্ত্রী জেসমিন দলিল না করে দিয়ে তলাবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে জেসমিনের পিতা-মা, ভাইসহ আত্মীয়স্বজনের জেনে নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকেন বকুলকে। এ বিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদে অভিযোগ দিলে শালিসে শাহিন ও তার লোকজন টাকা ফেরত দেয়ার লিখিত অঙ্গীকারনামা করে দেন। শাহিন ও তার স্ত্রী জেসমিন টাকা ফেরত না দিয়ে ঘোরাতে থাকেন। গত গত ২০ আগস্ট বিকেলে আসামিরা একটি মাইক্রোসাবে বকুলের বাসার সামনে এসে ডাকাডাকি করতে থাকে। এ সময় বকুল বাইরে আসলে আসামিরা একটি কাবিননাম দেখিয়ে জেসমিনকে তার স্ত্রী বলে একটি কাবিননামা দেখায়। কাবিনমানায় জেসমিনের নাম কন্যা কুমারী উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা দ্রুত পালিয়ে যায়। আসামিরা পরিকল্পিত ভাবে জালজালিয়াতি করে মিথ্যা কাবিনামা তৈরী করে প্রতারনার মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করার চেষ্টার অভিযোগে তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।
উল্লেখ্য, কয়েকমাস আগে প্রতারণা করার সময় কাদেরকে ধরে উত্তম-মধ্যম দেওয়া হয়। তার অপরাধ ছিলো এক বিচারপ্রার্থীর কাছথেকে অহেতুক ১০ হাজার টাকা দাবি করেন নাজেহাল করতে থাকেন । পরে ঘটনাস্থলে হাজির হন কয়েকজন আইনজীবী। এসময় তাদের সাথেও খারাপ ব্যবহার করেন। এক পর্যায় সিনিয়র আইনজীবীরা একট্টা হয়ে তার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে নামেন। এছাড়া কাদেরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি সমিতির নির্ধারিত ড্রেস পরেন না। আইনজীবীদের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরন করে। শুধু আইনজীবীরা নয়, আইনজীবী সহকারীদের অনেকেই এই কাদেরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।