• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রভাবশালীদের দাপটে দিশেহারা মা-মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৬, ২০২২, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
প্রভাবশালীদের দাপটে দিশেহারা মা-মেয়ে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি॥
এর পূর্বেও বৃদ্ধা রেশমা বেগম(৫০) ও তার একমাত্র মেয়ে জান্নাতি আক্তার দোলাকে গভীর রাতে বাড়ী থেকে বেড় করে দিয়েছিল একই বাড়ীর প্রভাবশালীরা। তৎকালিন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল)মুকিত হাসান খান স্ব-শরীরে গিয়ে মা-মেয়েকে ঘরে উঠিয়ে দেন। এরপর থেকে কিছুদিন ভালো গেলেও পূর্বের মতই নানা ভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে বাড়ীর প্রভাবশালীরা। মোট কথা প্রভাবশালীদের দাপটে অবরুদ্ধ জীবন-যাপন করছেন মা-মেয়ে। এঘটনায় পুলিশের সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি মা-মেয়ে। বরং পুলিশের কাছে নালিশ দেয়ার রেষে নানাভাবে হেনস্তা হচ্ছেন তারা। বদরপুর ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা রেশমা ও মেয়ে এমন জীবন-যাপন করছেন।

ভুক্তভোগী রেশমা বেগম জানান-গত ১১ নভেম্বর বসত ঘরের সামনে সবজির আবাদ করতে গেলে বাড়ীর লোকজনের বাধার মুখে পরেন তিনি। এর রেষ ধরে ওই রাতে জাফর হাওলাদার ও তার স্ত্রী সুজিলা বেগম রেশমাকে মারধোর করেন। মারধোরের শিকার হয়ে সদর থানা পুলিশকে অবহিত করেন তিনি। রাতে সদর থানার এএসআই মিজান ঘটনাস্থলে পৌছায়। কিন্তু ভিকটিমের পক্ষে কোনো স্বাক্ষী না পেয়ে চলে আসেন এএসআই মিজান। পুলিশ চলে আসার পর দ্বিতীয় দফা মারধোরের শিকার হতে হয় রেশমাকে। এঘটনায় রেশমা বেগম গত ৫ ডিসেম্বর পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ দেয়ার পরে ১৩ নভেম্বর সদর থানার ওসি তদন্ত আসাদুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে রেশমাকে আদালতে মামলা দেয়ার পরামর্শ দেন। পরে ১৫ নভেম্বর সদর থানায় জিডি করেন রেশমা। যার তদন্ত রয়েছেন এএসআই পিন্ঠু হালদার।

রেশমা বেগম আরও বলেন-২০২০ সালে একই ব্যক্তিরা শীতের রাতে তাদের ঘর থেকে এক কাপরে বেড় করে দেয়। পটুয়াখালীর গণমাধ্যমকর্মী ও অ্যাডিশনাল এসপি মুকিত হাসান খানের সহায়তায় বাড়ীতে উঠতে সক্ষম হয়েছিল। কিছুদিন না যেতেই তারা নানা ভাবে হয়রানী করছেন। এসব প্রসঙ্গে ওসি তদন্ত আসাদুর রহমান বলেন-উভয় পক্ষ একই বংশের,পারিবারিক ভাবে বিষয়টা মিমাংসা করলে ভালো হয়। উল্লেখিত ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে প্রসিকিউশন দেবো। এসব প্রসঙ্গ পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলামকে অবহিত করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ^াস দিয়েছেন। এদিকে অভিযোগ রয়েছে-আলোচ্য ঘটনায় থানা পুলিশের বারবার নিস্ক্রিয়তার কারনে রেশমার প্রতিপক্ষরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি রেশমার পক্ষে লোকজনকে স্বাক্ষ্য না দিতে হুমকী-ধামকী দিচ্ছেন প্রতিপক্ষ প্রভাবশালীরা। রেশমাকে মারধোর এবং স্বাক্ষীকে হুমকী-ধামকী সংক্রান্ত কিছু অডিও ক্লিপ প্রতিনিধির কাছে হাতে রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বাড়ীর একাধিক ভুক্তভোগী বলেন-থানা পুলিশের সঙ্গে অভিযুক্তদের সু-সর্ম্পক থাকায় ভিকটিমের অভিযোগ আমলে নিচ্ছেনা পুলিশ। পুলিশ তাদের কথিত সোর্স দ্বারা ম্যানেজ হচ্ছেন। যে কারনে আইনী সহায়তা থেকে বঞ্চিত বৃদ্ধা রেশমা ও তার মেয়ে।