• ২৪শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“জ্বিন-ভূতের কান্ড দেখিয়ে একের পর এক আগুন ধরানোর ঘটনায় পুরো গ্রামে আতংক”

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২০, ২০২৩, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ণ
“জ্বিন-ভূতের কান্ড দেখিয়ে একের পর এক আগুন ধরানোর ঘটনায় পুরো গ্রামে আতংক”

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নড়াইল গ্রামে জ্বিন-ভূতের কান্ড দেখিয়ে একের পর এক বাড়ি-ঘরে আগুন ধরানোর ঘটনা ঘটছে। ওঝা ডেকেও কোন কাজ না হওয়ায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো গ্রামে। অনেকই ভয়ে ছেড়েছেন বাড়ী। আগুন থামাতে মিলাদ দিয়ে ফিরনি বিতরন করেছে গ্রামবাসী। তবে পুলিশ বলছে বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছে। তদন্ত শেষে নেয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারী) সরেজমিনে গিয়ে জানা ও দেখা গেছে, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নড়াইল গ্রাম। এক পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রেল লাইন আর গাছ-গাছালিতে ভরা গ্রামটিতে শুধুই শান্তির পরশ। কিন্তু সেই শান্তিই যেন এখন অশান্তিতে রূপ নিয়েছে।

গত রোববার বেলা ১২ টার দিকে হঠাৎ করে ওই গ্রামের মো: ইস্রাফিল খানের ঘরের মধ্যে দাউ দাউ জ্বলে উঠে আগুন। স্থানীয় লোকজন এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উপস্থিত হয়ে আগুন নেভায়। এর কিছুক্ষণ পরই মো: ইবাদত খান ও মো: শওকত খানের বাড়িতে জ্বলে উঠে আগুন।

পরদিন সোমবার দুপুরে ও সন্ধ্যায় মো: কাশেম খান, মো: ইমরান খান, মো: রফিক খান, মো: জাহিদ খানের বাড়ীসহ গোয়ালঘর, খড়ের পালা, পাটকাঠির গাদাতে জ্বলে উঠে আগুন।

ক’দিন আগেও এ গ্রামের মানুষের নির্ভয়ে রাত্রি যাপন স্বাভাবিক ঘটনা থাকলে এখন শুধু কেবলই আতংক। গতে এক সপ্তাহে অন্তত ২০টি আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ভাবিয়ে তুলেছে গ্রামবাসীকে। অগ্নিকান্ডে হাতহতের কোন ঘটনা না ঘটলেও গুজব উঠেছে জ্বিন বা ভূতের কারসাজিতেই আগুন ধরছে। এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম।

জ্বিনের কান্ড থামাতে সোমবার রাতে গ্রামবাসী উদ্যেগ নিয়ে খেচুড়ী রান্না করে তোবারক বিতরণ ও দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত হুজুর ১১টি জ্বীন এসব কান্ড ঘটাচ্ছে বলে দাবী করেন। তারই পরামর্শে মিলাদ দিয়ে ফিরনি বিতরণ করলেও আবারো ঘটে একই ঘটনা। এতে অনেকেই বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্য গ্রামের আত্মীয়ের বাড়িতে। এমনকি বাড়ির পাশের খড় ও পাটকাঠির গাদা সরিয়ে নিচ্ছে অন্যত্র।

নড়াইল গ্রামের লিয়াকত খান বলেন, দুপুরে হঠাৎ করেই আমার বসত ঘরে আগুন ধরে যায়। বাড়ীর লোক চিৎকার চেচামেচি করলে সকলে এসে আগুন নেভাই। কি ভাবে কি কারনে আগুন লাগলো আমরা তা বুঝতে পারছি না। এটা কি আসলে জ্বিন-ভূতের কান্ড না কি অন্য কোন ঘটনা তা আমরা বুঝতে পারছি না।

একই গ্রামের শিক্ষক হায়দার অালী খান বলেন, আমার বাড়ীর পাশের একটি বাড়ীসহ কয়েকটি স্থানে আগুন ধরার ঘটনা ঘটে। একটি স্থানে আগুন ধরার কয়েক ঘন্টা পর অন্য স্থানে আগুন লাগছে। আগুন লাগার কোন কারন জানাতে না পাড়লেও গ্রামবাসীর ধারনা এটা জ্বিন-ভূতে করছে। আমরা আসল কারন জানতে চাই।

একই গ্রামের মো: র‌ফিক খান বলেন, আমার বাড়ীতেও আগুনের ঘটনা ঘটে। এরপর আমরা হুজুর এনে মিলাদ দিয়ে ফিন্নি বিতরণ করি। মিলাদে হুজুর বলেছে ১১টি জ্বিন এসব আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটাচ্ছে। তিনি গ্রাম বন্ধ করে দিলেও আবারো আগুন লাগায় আমরা আতংকে রয়েছি।

একই গ্রামের হোসনে আরা বেগম ও লাভলী বেগম বলেন, আগুন আতংকে অনেকই বাড়ী ছেড়ে অন্য গ্রামের আত্মীয়ের বাড়ীতে অবস্থান করছে। সকলের মাঝে এখন জ্বিন-ভূত আতংক। ভয়ে কেউ বাড়ী আসছে না।

কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ আলম জানান, আগুন রহস্যের কিনারা করতে তদন্তে মাঠে নেমেছে পুলিশ। আগুন দেয়ার ঘটনাকে কেউ জ্বিনের কারসাজি বলে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছে। ক্ষতিগ্রস্থরা থানায় কোন অভিযোগ না দিলেও পুলিশ স্বপ্রনোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। #