• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকৃত নকশা না মেনে খাল খনন আদালতের স্থগিতাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৩, ১২:০৫ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকৃত নকশা অনুযায়ী খনন কাজ না করায় বরগুনার বামনা উপজেলা সদরের কলাগাছিয়া গ্রামের স্লুইজ গেট থেকে পশ্চিম সফিপুর গ্রাম হয়ে সোনাখালী বড় খাল পর্যন্ত খালটির খনন কাজে স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত।
আজ সোমবার সকালে বরগুনা সহকারী জজ আদালতে দায়ের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষীতে বিচারক আলতাফ মাহমুদ খালটি খনন কাজে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন। উপজেলার পশ্চিম সফিপুর গ্রামের মো. নেসার উদ্দিন গং খালটি খনন কাজ বন্ধের জন্য আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানাগেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরগুনা থেকে আইপিসিটি প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থ বছরে ২হাজার ৭শত ৪মিটার দীর্ঘ কলাগাছিয়া-বামনা খালটি পুনঃখননের জন্য ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে মেসার্স শিকদার ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটি খালের পূর্ব প্রান্ত কলাগাছিয়া গ্রামের খাদ্য গুদাম এর উত্তর প্রান্ত স্লুইজ গেট থেকে তাদের খনন কাজ শুরু করেন।
মামলায় সূত্রে জানাগেছে, খালের প্রকৃত নকশা অনুয়ায়ী তারা খালটি খনন না করায় ওই গ্রামে বসবাসরত বহু অসহায় ও গরীব পরিবারের মালিকানাধীন সামান্য জমিটুকু বর্তমানে খালে চলে যাচ্ছেন।
জানাগেছে, যে খালটি খনন করা হচ্ছে সেটির জন্য একই অর্থ বছরে ভাঙ্গন রোধে পাইলিং করেন উপজেলা প্রকৌশলী অফিস।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খালটি খনন এর ফলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) কর্তৃক নির্মিত খালের দুই পাশের ৩কিলোমিটার কার্পেটিং সড়ক, ১ কিলোমিটার আর সিসি সড়ক, ২কিলোমিটার ইট সলিং সড়ক খালের মধ্যে চলে যাবে। এছাড়াও জাইকা প্রকল্প কর্তৃক সদ্য নির্মিত ঢাকা-বামনা মহাসড়ক সংলগ্ন যাত্রী ছাউনী বিলীন হয়ে যাবে এবং মহাসড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এব্যাপারে মামলার বাদী মো. নেসার উদ্দিন বলেন. একসময়ের বড় খাল এখন প্রায় নালা খাল হয়ে গেছে। খালের এক প্রান্ত ভেঙ্গে অন্য প্রান্ত ভড়াট হয়েছে। বর্তমানে যেখানে খালের পানি প্রবাহ রয়েছে সেটা পূর্বের প্রকৃত খাল নয়। তাই সরকারী খালের নকশা অনুযায়ী খনন করার জন্য আদালতের দারস্থ হয়েছি। আশা করি আদালতের মাধ্যমে বিষয়টির সুরহা হবে।
বামনা উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, খনন কাজে স্থাগিতাদেশ হয়েছে কিনা এখনো কোন কাগজ আমরা হাতে পাইনি। কাগজ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।