বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
বরগুনায় গাঁজাসহ গ্রেফতার এক পুলিশ সদস্যকে বাঁচাতে নিজেদের ঘরে আগুন দিয়েছেন ওই পুলিশ সদস্যের ভাই। গত শনিবার দুপুরে বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আমড়াঝুড়ি এলাকা থেকে ওই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেফতার ওই পুলিশ সদস্যের নাম মোঃ কাওছাড়। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আমড়াঝুড়ি এলাকার আলম সিকদারের ছেলে। বরিশালে কর্মরত থাকা অবস্থায় কাওছাড়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ মামলা হয়। পরে তাকে বরখাস্ত করে বরিশাল পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এদিকে গাঁজাসহ গ্রেফতারের দিন সকালে বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনে হাজিরার সময় অনুপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদস্য মোঃ কাওছাড়। এ বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করতে চিঠি দিয়েছে বরিশাল পুলিশ লাইনের ফোর্স বিভাগে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোঃ বাদল হোসেন।
গাঁজাসহ গ্রেফতার পুলিশ সদস্য মোঃ কাওছাড়ের বিরুদ্ধে বরিশাল মডেল থানায় গত বছরের ২৫ আগস্ট একটি ধর্ষণের মামলা করেন এক নারী। এরপর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দল কাওছাড়কে গ্রেফতারের অভিযান চালালে ওই বছরের ২৭ আগস্ট কাওছাড় বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে ঝাঁপ দেন। মুহুর্তেই এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এতে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় পুলিশের। এরপর বাড়িতে এসে গাঁজাসহ গ্রেফতার হয় কাওছাড়।
এদিকে গাঁজাসহ মোঃ কাওছাড়কে গ্রেফতারের পর ফেসবুক লাইভে এসে নিজেদের বসত ঘরে আগুন দেন তার বড় ভাই বাবু। আমড়াঝুড়ি এলাকার স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, গাঁজাসহ আটকের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নিজেদের বসত ঘরে আগুন দেন বিজিবি থেকে বরখাস্ত হওয়া তার বড় ভাই বাবু।
আমড়াঝুড়ি এলাকার স্থানীয় অধিবাসী জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, কাওছাড় বরিশাল থেকে প্রায়ই এম্বুলেন্সে করে বাড়িতে আসতো। এবং সবসময়ই সে রাতে বাড়িতে আসতো। গাঁজাসহ যেদিন আটক হয়েছে তার আগের দিন গভীর রাতেও সে এম্বুলেন্সে বাড়িতে এসেছে।
তিনি আরো বলেন, এলাকায় ভদ্রবেশে চলাফেরা করলেও রাতে এম্বুলেন্সে করে মাদক নিয়ে এসে এলাকায় অবস্থান করে তা বিক্রি করতো কাওছাড়।
কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ গোলাম কবীর বলেন, ০১৭১২৯১৫০২৪
এ বিষয়ে বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্য মোঃ কাওছাড়ের ভাই বাবুর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সহিদুল ইসলাম মিলন খান বলেন, মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ঘরে আগুন দেন বিজিবি থেকে চাকরিচ্যুত কাওছাড়ের ভাই বাবু। বরিশাল পুলিশ লাইনে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়াই কাওছাড় বরগুনা আসে। মূলত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কারনেই সে অনুমতি ছাড়াই বরগুনা আসে মাদক বিক্রির জন্য।
তিনি আরো বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাঁজাসহ গ্রেফতারের পর কাওছাড় যে বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্য তা আমরা জানতে পারি। কাওছাড়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের পর আদলতে হাজির করলে, আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।