• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এক পর্যায়ের দল নয়-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৩, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
যারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এক পর্যায়ের দল নয়-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : যারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে এক করে দেখে তাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেকে অনেক কথা বলে, কেউ কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি’র তুলনাও করে; কেউ কেউ বলে দুই দল। এখানে একটা কথা বলতে চাই ২০০৮ সালের সেই নির্বাচনের বিএনপি পেয়েছিল মাত্র ৩০টি সিট ৩০০ সিটের মধ্যে। আওয়ামী লীগ মহাজোট করেছিল, বিএনপির ছিল ২০ দলীয় জোট; বিএনপির নেতৃত্বে পেল ৩০টি সিট আর বাকি আওয়ামী লীগ, তাহলে এই দুই দল এক পর্যায়ের হয় কীভাবে প্রশ্ন তুলে বলেন, দুই দল এক পর্যায়ের হয় কীভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তুলনা চলে না।

আজ শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গারহাট তালিমপুর-তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, গ্রেনেড হামলা, ৫০০ স্থানে একসঙ্গে বোমা হামলা, ৬৩ জেলায় বোমা হামলা, দুর্নীতিতে পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন, ওরা মানুষকে কিছু দেয়নি; মানুষের অর্থ সব লুটপাট করে বিদেশে নিয়ে গেছে। এমন একটা রাজনৈতিক দল তারা তাদের নিজেদের গঠনতন্ত্র মানে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্রে আছে সাজাপ্রাপ্ত আসামি দলের নেতা হতে পারে না। আর বিএনপি আজকে কি একটা নেতাও পায় না যে অন্তত সাজাপ্রাপ্ত আসামি না? খালেদা জিয়া ও তার ছেলে দু’জনেই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তারা সেই দলের নেতা নিজেরা নিজেদের দলের গঠনতন্ত্র মানে না, নিয়ম মানে না, আইন মানে না তো সেই দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা চলে না।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, যে দলগুলো আছে এরা কারা। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারি জিয়া সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করেছে উচ্চ আদালতের রায় আছে। সেই সময় ক্ষমতা দখলকারী অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে থেকে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দল তৈরি করেছিল সেই দল হচ্ছে বিএনপি। এরা মানুষের কল্যাণও চায় না, মঙ্গলও চায় না। মানুষকে আগুন দিয়ে পোড়ায়, মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। কাজেই এদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা চলে না।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যারা ওই দুই বড় দল বলবেন তারাও ভুল করেন। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মানুষের সংগঠন, এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই দল গড়ে উঠেছে। তাই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নতি হয়। এদেশের মাটি ও মানুষের সংগঠন আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, স্বাধীনতার সুফল আজকে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে। ইনশাল্লাহ পৌঁছাবে।

উপস্থিত জনতাদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের মাঝেই তো আমি ফিরে পাই আমার হারানো বাবার স্নেহ, মায়ের স্নেহ, ভাইয়ের স্নেহ। আপনাদের এই স্নেহ ভালোবাসাই আমার একমাত্র শক্তি। আপনাদের জন্য সবসময় দোয়া করি, আপনারাও দোয়া করবেন। এ বাংলাদেশকে যেন উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে যেন গড়ে তুলতে পারি।

কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শাজাহান খান, কাজী আকরাম উদ্দীন আহমদ, আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহাবুব আলী খান ও সাধারণ সম্পাদক জি এম শাহাবুদ্দিন আজম বক্তব্য রাখেন।

এর আগে দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটে কোটালীপাড়ার জনসভা মাঠে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখান থেকে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার ৪৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভার শুরুতে এসব উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে কোটালীপাড়ায় আসেন।৪৯টি প্রকল্পের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৩১টি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ৪টি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৩টি, কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদের ২টি, গোপালগঞ্জ পৌরসভার ২টি, গণপূর্ত বিভাগের ২টি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২টি, কোটালীপাড়া পৌরসভার ১টি, গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের ১টি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণায়লের ১টি প্রকল্প করেছে।

উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে : কুশলী জিসি-ধারবাশাইল জিসি ভায়া মিত্রডাঙ্গা, সোনাখালী সড়কে ১৪৭০ মিটার চেইনেজে ৯৯ মিটার গার্ডার ব্রিজ। কুশলী জিসি ধারাবাশাইল জিসি ভায়া মিত্রডাঙ্গা সোনাখালী সড়কে ১৬ হাজার ৬০০ মিটার চেইনেজে ২০ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। সিঙ্গিপাড়া আরএইচডি-মুন্সিরচর ভায়া শেখ কামাল সড়কে ১২৭০ মিটার চেইনেজে ২০ মিটার আরসিসি স্লাাব ব্রিজ। কুশলীহাট জিসিসি ধারবাশাইল জিসিসি ভায়া মিত্রডাঙ্গা সোনাখালী সড়কে ৭৭৫০ মিটার চেইনেজে ৭৫ মিটার আরসিসি ব্রিজ। কুশলী ইউনিয়ন কৃষক সেবা কেন্দ্র। বাঁশবাড়িয়া জিসি ঝনঝনিয়া-ঘাঘর জিসি সড়ক (চেইনেজে০০-১২৬৩৫মিটার)। বাঁশবাড়িয়া জিসি-বিশারকান্দি জিসি ভায়া করফা বাজার, তরু বাজার, কাচারিভিটা বাজার সড়ক প্রশস্থ ও শক্তিশালী করণ (চেইনেজে ০০-৯২২৫ মিটার)।

কোটালীপাড়া উপজেলার বঙ্গলক্ষী বাজার হতে রামশীল ইউপি অফিস সড়কে ৬৮১৫ মিটার চেইনেজে ৯৯ দশমিক ৭০ মিটার আরসিসি ব্রিজ। উত্তরপাড়া হাটখোলা ব্রিজ হতে পারকোনা পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড ভায়া কুঞ্জুবন সড়কে ৩৫০০ মিটার চেইনেজে ৪২ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। ছিকুটিবাড়ী মাইকেল চেয়ারম্যানের বাড়ীর সড়কে ৫৬০ মিটার চেইনেজে ১৮ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। রাধাগঞ্জ ইউপিসি-উত্তরপাড়া হাটখোলা-নাগরা বাজার সড়কে ০০ মিটার চেইনেজে ২৫ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। দেবগ্রাম আশ্রায়ণ প্রকল্পের সামনে ০০ মিটার চেইনেজে ৩০ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। রাধাগঞ্জ ইউপিসি-ডগলাস হাইস্কুল-ভাঙ্গারহাট জিসি সড়কে ১০ মিটার চেইনেজে ৩৯ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। রাজৈর-কোটালীপাড়া সড়ক হতে লুৎফর রহমান বাচ্চুর বাড়ী ছোট দিঘলিয়া জিপিএস সংযোগ সড়কে ০০ মিটার চেইনেজে ৩০ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। কুশলা ইউপি হতে টুপুরিয়া আরএ্যান্ডএইচ সড়কে ২৪৩০ মিটার চেইনেজে ৩৬ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। টুপুরিয়া আরএ্যান্ড এইচ হতে কুশলা ইউপিসি ভায়া জামুলা সড়কে ০৮ মিটার চেইনেজে ৩০ মিটার গার্ডার ব্রিজ। হরিণাহাটি ডিবি-হরিণাহাটি জিপিএস সড়কে ১০ মিটার চেইনেজে ৫১ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। সাদুল্যাপুর ইউপিসি হতে চলবল বাজার সড়ক (চোইনেজে ৮০০-৬৩৪০ মিটার)। নাগরা আরএইচডি-বান্ধাবাড়ী-রামশীল-শশীকর জিসি সড়ক চেইনেজে ৫২০০-১৪৪০৫ মিটার প্রশস্ত ও শক্তিশালী করণ। নাগরা বাজার-রামশীল ইউপি সড়ক চেইনেজে ৩২০০-৫৯৯০ মিটার প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ। কদমবাড়ী-কালিগঞ্জ-গান্ধিয়াশুর জিসি সড়ক নির্মাণ চেইনেজে ০০-৬২৫৬ মিটার। কোটালীপাড়া সদর ভূমি অফিসের সামনে আর এ্যান্ড এইচ বিশারত বাড়ী পর্যন্ত সড়কে ০০ মিটার চেইনেজে ১৮ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। কাগডাঙ্গা চেয়ারম্যান বাড়ী হতে কাটাভিটা ভায়া এমএ সাইদ স্কুল এ্যান্ড কলেজ সড়ক ( চেইনেজে ০০-১৩২০ মিটার) ইউনিব্লক দ্বারা উন্নয়ন। চাটখালি ব্রিজ-মহিষডাঙ্গা ভায়া ফুলবাড়ি জিপিএস সড়ক নির্মাণ (চেইনেজে ০০-৮১৬০ মিটার)। চিতশী জিপিএস কান্দিপাড়া ওয়াপদা বেড়িবাঁধ সড়ক নির্মাণ (চেইনেজে ২৫০০-১১১০০ মিটার)। আশুতিয়া শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোক্তার হোসেন দাড়িয়া মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর। শুয়াগ্রাম ইউনিয়ন কৃষক সেবাকেন্দ্র। কেটালীপাড়া উপজেলা হেডকোয়ার্টার হতে ধারবাসাইল কান্দি সড়ক নির্মাণ (০০-১১৩৪৪ মিটার)।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্পগুলো হচ্ছে, কোটালীপাড়া উপজেলার আটাশীবাড়ী, তালপুকুরিয়া ও ধারাবাশাইল এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ও রামচন্দ্রপুর গ্রামে আধুনিক যান্ত্রীক কৃষির সমলয় চাষাবাদ পদ্ধতি প্রকল্প।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রাম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নব নির্মিত ৪ তলা বিশিষ্ট আধুনিক একাডেমিক ভবন। শেখ হাসিনা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের ১০০ আসনের নব নির্মিত ছাত্রী হোস্টেল ও কোটালীপাড়া এসএস ইনস্টিটিউশনের নব নির্মিত ৪ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া ইউনিয়নে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্রামীন পানি সরবরাহ প্রকল্প ও কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ইউনিয়নে ১টি রুরাল পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই স্কীম।

কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ বাস্তবায়িত ভাঙ্গারহাট-তালিমপুর-তেলিহাটি উচ্চবিদ্যালয়ে স্থাপতি শেখ রাসেল পাঠাগার প্রকল্প। গোপালগঞ্জ পৌরসভার কর্তৃক বড়বাজারে নির্মিত অত্যাধুনিক বানিজ্যিক ভবন ও স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড। গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদ বাস্তবায়িত কোটালীপাড়ায় কবি সুকান্ত ভট্টাচর্যের পৈত্রিক ভিটায় নির্মিত একটি মুক্ত মঞ্চ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়িত কোটালীপাড়া উপজেলার লাখিরপাড় রমমোহন উচ্চবিদ্যালয়ে বণ্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্র। কোটালীপাড়া পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত পৌরসভা কিচেন মার্কেট।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণপূর্তের গোপালগঞ্জ জেলা তথ্য কমপ্লেক্সে, কোটালীপাড়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সংস্কৃতিক কেন্দ্র, এলজিইডি’র কোটালীপাড়া উপজেলায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের ওপর মুর‌্যাল নির্মাণ প্রকল্প, রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারহাট বাজার উন্নয়ন প্রকল্প ও কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ কর্তৃক গৃহীত ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ফলক স্থাপন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
জনসভাস্থলে ছুটেছেন শিশু থেকে বৃদ্ধ : এ যেন বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার। চারিদিক থেকে ¯্রােতের মতো ছুটে আসছে মানুষ। নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী কেউই ঘরে নেই। মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে এসেছিলেন জনসভায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখেলেন আর ফিরলেন একরাশ ভালবাসা নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পেরে খুশি কোটালীপাড়ার মানুষ।

শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ভাঙ্গারহাট তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ খবরে কোটালীপাড়া মানুষের মধ্যে ছিল আনন্দ আর উদ্দীপনা। জনসভায় যোগ দিতে ভোর থেকে জনসভাস্থলে ছুটেছেন শিশু থেকে বৃদ্ধ। ঘরের মেয়ে শেখ হাসিনাকে দেখেতে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে রইলেন জনসভাস্থলে। এরপর দুপুরে আসলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঞ্চে উঠার সাথে সাথে তাকে স্বাগত জানায় সমাবেশস্থলে আসা সাধারন মানুষ। এরপর সেই মহেন্দ্রক্ষণে প্রধানমন্ত্রী শুরু করলেন তার বক্তব্য। মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনলেন জনসভা আসা সাধারন মানুষ। দীর্ঘ ৪ বছর পর প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে খুশি সাধারন মানুষ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার বক্তব্য শেষ হবার পর করতালি আর শ্লোগানে শ্নোগানে ঘরের মেয়েকে অভিবাদন জানান। আগামী নির্বাচনেও ভোট দিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রী করবে এমন ইচ্ছা আর আকাংখা প্রকাশ করলো জনসভায় আসা সাধারন মানুষ। জনসভা শেষ হতেই আবার ছোট বড় নৌকা নিয়ে মিছিল করতে করতে বাড়ী ফিরলেন তারা। কোটালীপাড়ার মানুষ বার বার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের ভালবাসার প্রমাণ রেখেছেন। তাদের ভোটে আবারো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে কোটালীপাড়ায় আসবেন শেখ হাসিনা এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

বর্ণিল সাজ : দীর্ঘ ৪ বছর পর নিজ নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সেজেছে নবরূপে। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে কোটালীপাড়া। সড়কগুলোতে নির্মাণ করা হয় অসংখ্য তোরণ ও দুই পাশে টাঙানো হয়েছে ডিজিটাল পোস্টার-ব্যানার। ঘরের মেয়েকে এক নজর দেখতে আনন্দ-উদ্দীপনা বিরাজ করেছে নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষের মাঝে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে শুধু কোটালীপাড়া বা গোপালগঞ্জই নয় এর আশপাশের জেলায় ও লাগে আমেজ। এ জনসভায় বরিশাল, মাদারীপুর, বাগেরহাট, নড়াইল, পিরোজপুর, খুলনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়াতপুরসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় যান। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে বঙ্গবন্ধু ও ৭৫ এর ১৫ আগস্ট নিহত শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো জেলা নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। #