রাবি প্রতিনিধি : ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব, টিউশনি শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে পরিধেয় কাপড় পরিস্কার করা অনেকের কাছেই এক বিরক্তিকর কাজ। আর এই বিরক্তিকর কাজটি করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। নাম দিয়েছে ‘ধুয়ে দেই’।
এই শিক্ষার্থীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের মো. সালমান খান ফারসি, মো. হামিম শেঠ, মো. পলাশ বিন ফারুক ও অভিষেক চৌধুরী বিশাল।
এ কার্যক্রম সম্পর্কে উদ্যোক্তারা জানান, প্রথমে এই ‘কাপড় ধোয়ার’ পরিকল্পনাটা মাথায় আসে তাদের বন্ধু ফারসির। তখন সে এই বিষয়ে আলোচনা করে তার বন্ধু হামিম শেঠের সঙ্গে।পরবর্তীতে তারা চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেন । যেমন কথা তেমন কাজ। চার বন্ধু মিলে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখ ‘ধুয়ে দেই’-এর কার্যক্রম শুরু করে।
এ বিষয়ে ‘ধুয়ে দেই’-এর প্রতিষ্ঠাতা মো. সালমান খান ফারসি বলেন,যখন আমি প্রথম বর্ষে পড়ি তখন একদিন কাপড় ধুতে গিয়ে মনে হলো, ইশ! যদি এমন একটা সুযোগ থাকতো যাতে প্রতিদিন কাপড় ধুতে হচ্ছে না তাহলে খুব ভালো হতো।’
উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথটা সহজ ছিল না’ উল্লেখ করে সালমান খান ফারসি বলেন, ‘যেহেতু আমাদের এই কাজের পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে হয় তাই সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কাজ করি। এর মধ্যে অর্ডার এবং ডেলিভারি দিয়ে থাকি। প্রথমদিকে শিক্ষার্থীদের থেকে বেশ ভালো সাড়া পেলেও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ২০২০ সালের মার্চ মাসে শুরু হওয়া লকডাউন। কারণ ততো দিনে নিজেরা কিছু টাকা বিনিয়োগ করে কিস্তিতে একটা ওয়াশিং মেশিন কিনে ফেলেছিলেন। বর্তমানে ক্যাম্পাসে এখন ‘ধুয়ে দিই’ চালু হয়েছে পুরোদমে। তারা ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও এই সেবা দিচ্ছে।
কাপড় ধুয়ে দেওয়ার এই কার্যক্রম বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, রুয়েট, কাজলা, বিনোদপুর, ভদ্রা এরিয়ায় চালু আছে। তবে ‘ধুয়ে দিই’-এর অন্যতম সদস্য হামিম শেঠ জানান, তারা এই সুবিধা ধীরে ধীরে সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে দিতে চান।
‘ধুয়ে দেই ‘ থেকে সার্ভিস নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জাহিদ হাসান বলেন, আমাদের হল লাইফে বা ব্যাচেলার লাইফে এ প্রতিষ্ঠানটি খুবই কার্যকর। আমরা পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা ক্লাস করে রুমে গিয়ে কাপড় ধোয়া খুবই কষ্ট কর। সেই দিক থেকে ধুয়ে দিই আমাদের অনেকটা পরিত্রাণ দিয়েছে। আমি অনেক দিন থেকে ধুয়ে দেওয়ার সার্ভিস নিয়ে আসছি তাঁরা টাকাও কম নিচ্ছে সেবাটাও ভালো দিচ্ছে।
এবিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ছায়েদুর রহমান বলেন, আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ভিষণ ২০৪১ কে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে আমাদের শিক্ষার্থীরা কাপড় ধোয়ার যে উদ্যােগটা নিয়েছে সেটা এই সময়ের জন্য খুবই উপযোগী। তাদেরকে দেখে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রেরণা পাবে। আমি আমার শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই এমন উদ্যােগ নেওয়ার জন্য।
চার তরুণ মনে করেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ধুয়ে দেই’–এর শাখা খুলতে পারলে এটি একটি টেকসই উদ্যোগ হতে পারে। বর্তমানে টি-শার্ট ধোয়ার জন্য নেওয়া হয় সাত টাকা। শার্ট আট টাকা আর প্যান্ট ধোয়া হয় দশ টাকায়। সোয়েটার ২০ টাকা, জ্যাকেট ৫০ টাকা, সিঙ্গেল কম্বল ৮০ টাকা এবং ডাবল কম্বল ধোয়ার জন্য ১২০ টাকা করে নিচ্ছেন তারা।