প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরী র্ভাচ্যুয়াল কথা বলেন দুই উপকারভোগী
জি.এম রিপন,বানারীপাড়া
মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারে জমিসহ বসত ঘর উপহার দিয়ে সারা বিশে^ ইতিহাস গড়ায় বানারীপাড়া বাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বরিশাল-২ আসনের এমপি মো.শাহে আলম।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌর শহরের উত্তরপার আশ্রায়ণ প্রকল্পের ৮৭টি ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারে জমিসহ পাকা ঘর র্ভাচ্যুয়াল উদ্ধোধন করেন। এ দিন আশ্রায়ণ প্রকল্প উদ্ধোধনী আনুষ্ঠান শেষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বরিশাল-২ াাসনের এমপি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পকীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো.শাহে আলম সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অসহায় ভূমিহীন গৃহহীনদের জমিসহ বসত ঘর উপহার দিয়ে সারা বিশে^ ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সত ব্যাক্তিত্ব হওয়ার কারণে আজ দেশের সরকারী খাস সম্পত্তিতে অসহায় ভূমিহীন গৃহহীনদের জমিসহ বসত ঘর উপহার দিতে পেরেছেন। এটি বিশে^র ইতিহাসে একটি বিড়ল দৃষ্টান্ত। এর পূর্বে বিশে^র ইতিহাসে আর কোন রাষ্ট্রে এমনী ভাবে ভূমিহীন গৃহহীনদের জমিসহ বসত ঘর দেয়ার নজির নেই। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশের অসহায় ভূমিহীন গৃহহীনদের জমিসহ ঘর উপহার দেয়ায় এখন আর তাদেরকে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় থাকতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনকে অভিনন্দন ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রায়ণ প্রকল্পের ভূমিহীন গৃহহীনদের জমিসহ ঘর তৈরীর কাজ বাস্তবায়নে আমরা সব সময় সংশ্লীষ্ট জেলা-উপজেলা প্রশাসনকে সর্বাত্বক সহযোগীতা করে আসছি। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ সারা দেশে ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। তার এসব উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বানারীপাড়া উত্তপার আশ্রায়ণ প্রকল্প র্ভাচ্যুয়াল উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো.জাহাঙ্গীর হোসেন বক্তৃতার শুরুতেই ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে নিহত হওয়া সকল শহীদ স্মরণ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ ভাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের অসহায় ক্ষুদা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা বির্ণিমানের স্বপন দেখে ছিলেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনী বলেছিলেন, মুজিববর্ষে সারা দেশে একটি পরিবারও ভূমিহীন গৃহহীন থাকবে না। সে অনুযায়ী বরিশাল জেলায় ৫৯৩৫টি ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারের মধ্য থেকে ৩২৪০টি ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারকে দুই শতক জমিসহ ঘর প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আজ আপনি আরও ১৫০১টি ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারকে দুই শতক জমিসহ ঘর উপহার দিচ্ছেন। এরই মধ্যে আপনি বরিশালের চারটি উপজেলাকে ভূমিহীন গৃহহীন মুক্ত ঘোষনা করেছেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর পূর্বে আমরা বানারীপাড়ার এই স্থানে প্রায় সাড়ে ৬ একর সরকারী সম্পত্তি উদ্দার করতে স্বক্ষম হয়েছি। এখানে ৮৭টি ঘর নির্মান করা হয়েছে। পর্যায় ক্রমে এখানে মোট ১৪২টি ঘর নির্মান করা হবে। এছাড়া এখানে বসতীদের চলাচলে রাস্তা, মসজিদ, কবরস্থান, শ্মশ^ান ও শিশুদের খেলার মাঠ নির্মান করাসহ পানির চাহিদা মেটাতে আমরা একাধিক গভীর নলকুপ বসানোর পাশাপাশি একটি পুকুর খনন করতে স্বক্ষম হয়েছি। এ সময় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপকারভোগীর সাথে কথা বলার অনুমতি চান। প্রধানমন্ত্রী তাকে অনুমতি দিলে জেলা প্রশাসক তার হাতের মাইকারফোনটি আশ্রয়ন প্রকল্পের ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারের জমিসহ ঘর পেয়ে উচ্ছসিত হওয়া অসহায় বৃদ্ধা মোসাম্মৎ মনোয়ারা বেগম সুন্দরী ও সন্ধ্যা নদী ভাঙ্ণী বিনমজুর মো.হুমায়ুন কবিরকে তুলে দেন। এ সময় বৃদ্ধা মোসাম্মৎ মনোয়ারা বেগম সুন্দরী র্ভাচ্যুয়াল ঘর উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরী কথা বলার বলেন। এ সময় তিনি ভাল কাজের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আরও এক হাজার বছর বাচিয়ে রাখার জন্য মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আল আমিনের কাছে এ ফরিয়াদ করেন। এ সময় মনোয়ারা বেগম বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানীরা আমার বাড়ির ঘর পড়িয়ে ফেলেছে। ওই সময় আমার বৃদ্ধা মা আমাদের দুই বোনকে সাথে নিয়ে বানারীপাড়ায় এসে এক বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে আমার বৃদ্ধা মা দু’বোনকে নিয়ে বিভিন্ন গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা চেয়ে আমাদের দু’বোনকে খাওয়াতেন। এর পর কয়েক বছর পর সেখান থেকে আমাদেরকে নামিয়ে দেন। এ সময় আমার বৃদ্ধা মা কোন উপায়অন্ত না পেয়ে আমাদের দুই বোনকে নিয়ে উপজেলা হাসপাতালের একটি পুরাতন ভাঙ্গা কাঠের ঘরে আশ্রয় নেন। সেখানে দীর্ঘ ১৫ বছর থাকার পর আমার বৃদ্ধ মা ও এক ছেলে মারা যান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই ঘর থেকে আমাদের নেমে যেতে বলেন। এর পর পৌর সভায় বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় থাকি। সেখান থেকে আশ্রয় হারিয়ে ৫ বার সরকারী খাস সম্পত্তিতে পলিথিনের ছাপরা দিয়ে ঘর তুলে ছিলাম। পরবর্তীতে সেখান থেকে আবার আমাদের উচ্ছেদ করা হয়। তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি একজন মমতাময়ী মা। আপনার মতো একজন অসহায় ভূমিহীন পরিবারকে জায়গাসহ পাকা দালান ঘর দিয়ে মাথাগোজার ঠাই করে দিয়েছেন। এখানে আমি বসবাস করার মত জমিসহ ঘর পেয়ে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনার জন্য মাহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ রাব্বুল আল আমিনের কাছে ফরিয়াদ করছি। তিনি যেন, আপনাকে এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হাজার বছর বাচিয়ে রাখেন। এ সময় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান উন্নয়নকে অব্যাহত রাখার আহবান জানানোর পাশাপাশি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে এক বারের জন্য হলেও বানারীপাড়ায় এসে আশ্রায়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখার দাবী জানান।

পরে জেলা প্রশাসক মো.জাহাঙ্গীর হোসেন পৌর শহরের দক্ষিণ নাজিরপুর এলাকার রাস্তার পাশে অন্যের জমিতে খুপরী ঘরে আশ্রায় নেয়া দিনমজুর মো.হুমায়ুন কবির’র কাছে মাইকারফোনটি ধরিয়ে দেন। এ সময় দিনমজুর হুমায়ুন কবির বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনী একজন মমতাময়ী মা। সন্ধ্যা নদীর ভাঙণে আমার বসতবাড়ি হাড়িয়ে দীর্ঘ দিন ধরে পরিবার নিয়ে রাস্তার পাশে অন্যের জমিতে আশ্রয় থাকি। আমি পরিবারের একমাত্র উপার্জক্ষম ব্যাক্তি। আমার এমন কোন আয় রোজগার নেই, যা দিয়ে আমি একটি বাড়ি বানাতে পারবো। এটা আমি কোন দিন স্বপ্নেও কল্পনা করিনী। আজ আপনি আমাকে পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডের উত্তরপার আশ্রায়ণ প্রকল্পে জায়গাসহ একটি পাকা ঘর উপহার দিয়েছেন। এ জন্য আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাই। সেই সাথে মহান আল্লার কাছে আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করার পাশাপাশি আগামীতেও আপনাকে এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘয়ু কামনা করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-২ আসনের এমপি মো.শাহে আলম, বরিশাল-৪ আসনের এমপি পঙ্কজ দেবনাথ, মহিলা এমপি অ্যাডভোকেট সৈয়দা রুবিনা আক্তার মিরা, সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো.ইউনুস, সাবেক এমপি মো.মনিরুল ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো.আমিনুল ইসলাম, ডিআইজি এস.এম আক্তারুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মো.জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার মো.ওয়াহিদুল ইসলাম বিপিএম, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো.আনিচুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল, কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো.মঈন উদ্দিন আব্দুল্লাহ্, উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, আওয়ামী লীগ নেতা ফাইয়াজুল হক রাজু, ইউএনও ফাতিমা আজরিন তন্বী, উজিরপুর পৌর সভার মেয়র মো.গিয়াস উদ্দিন বেপারী, থানার অফিসার ইনচার্জ মো.মাসুদ আলম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা, জেলা পরিষদ সদস্য মামুন উর রশিদ ম্বপন তালুকদার, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা তালুকদার, সাবেক ছাত্র লীগ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম শাহিন সহ বরিশাল জেলার বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে উপজেলা ত্র্যাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মো.মহসিন উল হাসান জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার উত্তরপার আশ্রায়ণ প্রকল্পের ৮৭টি ঘর র্ভাচ্যুয়াল উদ্ধোধন করেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এর পূর্বে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্ধকৃত ১ম, ২য় ও ৩য় ধাপে ৩৮০টি এবং ৪র্থ ধাপে ২০০টি ঘর গৃহহীন ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান।