অলিউল্লাহ্ ইমরান, বরগুনাঃ বরগুনা জেলায় ইফতারের অন্যান্য খাবারের সঙ্গে সুস্বাদু ও সতেজকারী বিভিন্ন ফল খেতে পছন্দ করেন বরগুনাবাসী। কিন্তু এবছর সেই ফলের বাজারেই আগুন! বরগুনা সহ পাশ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে বাড়তি দামে ফল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। শুরু হয়েছে রমজান মাস। সারা দিন ধরে উপবাস থেকে সন্ধ্যায় বেশিরভাগ মুসলিমরা ফল খেয়েই উপবাস ভঙ্গ করেন। অথচ ফলের দাম যে ভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তাতে মধ্যবিত্তের পক্ষে ফলের দিকে হাত বাড়ানোটাই যেন সপ্নের জগত হয়ে উঠেছে। বাস্তবতা কঠিন হয়ে যাচ্ছে!
সোমবার (২৭ মার্চ) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বরগুনা প্রায় সব ফলেরই কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বরগুনা পৌর শহরের ফল বাজারের প্রতিটি দোকানেই প্রায় সমান দামে বিক্রি হচ্ছে ফল।
…..
আপেল (ফুজি) ২৬০ টাকা, আপেল (গালা)২৮০ টাকা, আপেল (হানি) ২২০ টাকা, কমলা ২২০-২৫০ টাকা, মাল্টা ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত মাসের তুলনায় আপেল, কমলা ও মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকা বেড়েছে।
বেদানা (ছোট – বড়ো) ৩০০- ৩৫০ টাকা, নাসপতি ৩২০ টাকা, ড্রাগন ফল.. টাকা ও গত মাসের তুলনায় এসব ফলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে কেজিতে ১০-২০ টাকা। আঙ্গুর (লাল- কালা) ৪০০ টাকা, আঙ্গুর (সাদা) ২৪০ টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি করছে। প্রতি কেজিতে – ১৫-২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। খেজুরের দামও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। লোকাল খেজুর কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১৬০টাকা দরে।
এদিকে প্রতি পিস ডাবের দাম ২০-৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১২০- ১৩০ টাকা। আনারস ও কলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
চরকলোনী এলাকার মহিউদ্দিন অপু বলেন, গত মাসে ফল কিনছিলাম যেই দামে এখন এসে দেখি আকাশ-পাতাল ব্যবধান আজকে আর ফল কেনা হবে না আমার। ফলের দামটা একটু কমানো উচিত কর্তৃপক্ষের। যাতে করে সবাই ফল কিনে ইফতারি করতে পারে।
ফল কিনতে আসা আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, কি ফল কিনে ইফতারি করব সকল ফলের বাজারেই তো আগুন লেগেছে। এতো দাম থাকলে আমরা কিভাবে ফল কিনে পরিবার- পরিজন নিয়ে ইফতারি করব।
ফল বিক্রেতা বেল্লাল হোসেন বলেন, আমরা পাইকারি যে দরে ফল কিনে আনি, তার থেকে পাঁচ- দশ টাকা লাভে বিক্রি করি। কাটোনের মধ্যে অনেক সময় আমাদের মালের ঘাটতিও থাকে। তখন আমাদের এই লসের বোঝা পোহাতে হয়।
ব্যাবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক (পাইকারি ফল বিক্রেতা) বাচ্চু মিয়া বলেন, আমরা আমাদের কেরিং খরচাপ পরে অল্প কিছু লাভ নিয়ে খুচরা ফল ব্যবসায়ী দোকানদারদের কাছে ছেড়ে দেই। তবে গত মাসের তুলনায় এই মাসে ফলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজান উপলক্ষে দাম একটু কম হওয়া উচিত। মধ্যবিত্তদের মধ্যে অনেকেই ফল কিনতে এসে হিমশিম খাচ্ছে।
এদিকে বাজার দর ঠিক রাখার জন্য প্রতিনিয়ত ভোক্তা অধিকার ও জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন প্রতিনিধিরা মাঠ পর্যায়ে মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করছেন।