আবু তাহের, নিজস্ব প্রতিনিধি:
যশোরের ৪ টি বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় জড়িত চক্রকে শনাক্ত করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি পুলিশ। চোর চক্রের হোতা শামীম ইসলাম শাহীন নামে একজন আটক করেছে। সে শংকরপুর বাস টার্মিনাল মাঠপাড়া এলাকার রবিউল ইসলাম বাবলুর ছেলে । সাথে উদ্ধার করা হয়েছে সোনা, ডায়মন্ড এবং ইমিটেশন গহনা। জড়িত চক্রের অন্য সদস্যকে অটক করার চেষ্টা চলছে।
সূত্র মতে সি.এন্ড.এফ এজেন্ট ব্যবসায়ীর বাড়িসহ গত ২৮ মার্চ যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার সি এন্ড এফ এজেন্ট ব্যবসায়ী মিসেস রোজী জালালের বাসার এ্যাডজাষ্টিং ফ্যান খুলে বাসায় প্রবেশ করে অজ্ঞাতনামা চোরেরা অনুমানিক ১৭ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি করে। মামলার তদন্ত পেয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএম এর নেতৃত্বে এসআই শামীম হোসেন, এসআই আব্দুল্লাহ আল-মামুনদের সমন্বয়ে একটি টিম তদন্তে নেমে পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার আরেকটি বাসায় চুরির ঘটনায় সিসি টিভি ফূটেজ পর্যালোচনা করে চোরকে সনাক্ত করে ।
এক পর্যায়ে ৩০ মার্চ রাতে যশোর রায়পাড়া এলাকায় অভিযান করে চোরাই স্বর্ণালংকারসহ হাতে নাতে সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া চোর শামীমকে আটক করে। তার স্বীকারোক্তি মতে টালিখোলা আরেকটি বাসার চোরাই ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকারসহ , বিভিন্ন চোরাই মালামাল, চুরি কাজে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার হয়। এরমধ্যে চোরের বাসা থেকে ২টি পেনড্রাইভ পেয়ে যাচাই করে দেখা যায় দেখা যায় উপশহর এলাকার একটি বাসায় ২০১৮ সালের চুরির ঘটনার আলামত। চোরের দেখানো মতে ৪টি বাসা শনাক্ত করে এর চুরির ঘটনা তদন্ত করা হয়। আটক চোর শামীমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও উদ্ধারকৃত আলামত পর্যালোচনায় তথ্য মিলেছে আটক শামীম একজন কুখ্যাত সিঁধেল চোর। সে দীর্ঘদিন যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাতের আধারে সঙ্গোপনে গৃহের এ্যাডজাষ্ট ফ্যান খুলে গৃহে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, মুল্যবান জীনিসপত্র, নগদ টাকা চুরি করে। সে দীর্ঘদিনের চুরি করা অর্থ দিয়ে জমিক্রয়, বাড়ী নির্মান করেছে মর্মে তথ্য প্রমান পাওয়া গেছে।
রবিউল এর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ভরি ৮আনা স্বর্ণালংকার, ১টি ইমিটেশনের নেকলেস, ১টি হুয়াইট গোল্ড ডায়মন্ডযুক্ত লকেট, শাড়ি, বাথরুমের শাওয়ার, ঘরভাঙ্গার সরঞ্জাম, বিভিন্ন চুরি করা খালি স্বর্ণের পার্স, পেনড্রাইভ ডিভাইস ও মোবাইল ফোন।