স্টাফ রিপোর্টার :
বরগুনার বামনা উপজেলার লক্ষ্মীপুরা গ্রামের ত্রিমুখী বাজার সংলগ্ন এলাকার মেসার্স ইরা ব্রিক্স থেকে ইট ক্রয়ের জন্য অগ্রিম টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা। বাটা কর্তৃপক্ষো টাকা নিলেও ক্রেতাদের ইট না দিয়ে বছরের পর বছর ঘুরানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় ওই ভাটার মালিক ও কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়েছেন ক্রেতারা।
অভিযোগে জানাগেছে, গত ২৯ মার্চ উপজেলার লক্ষ্মীপূরা গ্রামের ইরা ব্রিক্সের অফিস কক্ষে ইট ক্রয়ের জন্য অগ্রীম টাকা দেওয়া ক্রেতারা তাদের পাওনা টাকা অথবা ইট চাইতে গেলে ভাটার বর্তমান পরিচালক মো. কবির হোসেন ইট ও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতান্ডার সৃষ্টি হলে ভাটা কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়ে পাওনাদার ক্রেতারা গুরুতর আহত হয়। এঘটনায় উভয় পক্ষের দুজন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, ক্রেতাদের মধ্যে মো. হারুন খান ও ভাটার কর্মচারী মো. রাজ্জাক।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ইরা ব্রিক্সের একসময়ের বিক্রয় সহকারী হিসাবে কর্মরত ছিলেন ওই গ্রামের মো. হারুন খান। বাটার পরিচালক মো. কবির হোসেন তাকে দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ইট বিক্রি করাতেন। বর্তমানে তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এ কারণে হারুন খানের মাধ্যমে অগ্রিম বিক্রি করা ইট ক্রেতাদের ফেরত দিচ্ছেনা পরিচালক মো. কবির হোসেন।
আরো জানাগেছে, বছরের পর বছর ধরে হারুন খানের মাধ্যমে বিক্রি করা অগ্রিম ইটের টাকা ও ইট ফেরত না দেওয়ায় ক্রেতারা হারুন খানের কাছে পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন। তারপ্রেক্ষিতে গত ২৯ মার্চ হারুন খান সকল ক্রেতাদের নিয়ে টাকা ফেরত চাইতে গেলে পরিচালক কবির হোসেন ও তার কর্মচারীরা ক্রেতাদের ওপর ক্ষীপ্ত হয়ে হামলা চালায়।
এঘটনায় মো. হারুন খান বাদী হয়ে ভাটা পরিচালক মো. কবির হোসেনসহ ৫জনকে আসামী করে বরগুনা আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন।
ইরা ব্রিক্স থেকে অগ্রিম টাকা দিয়ে ইট ক্রয় করেও ইট না পাওয়া বুকাবুনিয়া গ্রামের মো. আফজাল মল্লিক জানান, ২০২১ সালে তিনি হারুন খানের মাধ্যমে ইরা ব্রিক্সের অফিসে গিয়ে পরিচালক মো. কবির হোসেন এর কাছে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ১লাখ ইট ক্রয় করেন। কিন্তু তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর তাকে কোন ইট দেয়নি বাটা কর্তৃপক্ষ। পরের বছরও তাকে ইট না দিলে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বাটায় যান। সেখানে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত দেন সম্পুর্ন টাকা বা ইট না দিতে পারলে ওই টাকার মুনাফা হিসাবে ১০ হাজার ইট দেওয়া হবে। ওই বছর তার টাকার মুনাফা হিসাবে ১০ হাজার ইট প্রদান করে ভাটা কর্তৃপক্ষ। কিন্ত বর্তমান বছরে তারা কোন ইট বা টাকা না দেওয়ায় তিনি পুনরায় পরিচালকের কাছে যান। পরিচালক তাকে জানায় টাকা হারুন খানের মাধ্যমে দিয়েছেন। আপনাকে টাকা বা ইট সে দিবে। ভাটা মালিক তাকে আর কোন টাকা দিতে পারবে না।
এদিকে পার্শ্ববর্তী কাঠালিয়া উপজেলার জাফর মল্লিকের স্ত্রী খুশি বেগম জানায়, তিনি ২০১৩ সালে ইরা ব্রিক্সের কাছে ইট ক্রয়ের জন্য অগ্রিম ৫ লাখ টাকা দেয়। অদ্যবধি তিনি তার টাকা বা ইট কোনটাই ফেরত পায়নি। উপরন্তু ওই টাকা ফেরত চাওয়ায় ভাটা কর্তৃপক্ষ তার স্বামী জাফর মল্লিকের নামে মিথ্য মামলা করেন।
ঘটনার ভুক্তভোগী ও একসময়ের ভাটা পরিচালকের ঘনিষ্ট সহচর মো. হারুন খান জানায়, ২০২১ সালে তার নিকট আত্মীয় মো. কবির হোসেন ভাটা পরিচালনার দ্বায়িত্ব নেওয়ার পর তার মাধ্যমে বিভিন্ন জনের কাছে অগ্রিম টাকা নিয়ে ইট বিক্রি করাতেন। এখন তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় তার মাধ্যমে অগ্রিম টাকা নিয়ে ইট ক্রয় করা ক্রেতাদের কোন ইট অথবা টাকা ফেরত দিচ্ছেনা। পাওনাদার প্রতিদিন তার কাছে টাকা ফেরত চাওয়ায় তিনি গত ২৯ মার্চ কয়েকজন ক্রেতাদের নিয়ে ভাটায় যান। সেখানে তাকেসহ ক্রেতাদের দেখেই পরিচালক কবির হোসেন ও ভাটার কর্মচারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। নিজেরা অফিস ভাংচুর করে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে অভিযুক্ত ইরা ব্রিক্সের পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, হারুন খান এক সময়ে তার ব্যবসায়িক সহযোগী হিসাবে কাজ করতো। হারুন কৌশলে ভাটা থেকে প্যাড ও মানি রিসিভ সরিয়ে জাল স্বাক্ষর দিয়ে ইট বিক্রি করেছেন। তার বিক্রিত ইটের টাকা ভাটায় জমা না হওয়ায় তারা ওইসব ক্রেতাদের ইট দিচ্ছেন না।