মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:-
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি কলেজের ক্যাম্পাস থেকে বেশকিছু গাছ কেটে নিচ্ছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শহীদুল ইসলাম।
১৯৬৬ সালে পাতারহাট রসিক চন্দ্র মহাবিদ্যালয় (আরসি কলেজ) প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে এই গাছগুলি রোপন করেন। কলেজের দীর্ঘ সময় অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম আনোয়ারুল হক। তিনি তার কলেজ ক্যাম্পাসের বাসভবনের ভিতরে অনেকগুলো রেইনট্রি গাছ রোপন করেন। যার একেকটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় লাখ টাকার উপরে।
গত ১৫ জানুয়ারি সর্বশেষ অবসরে যান সাবেক অধ্যক্ষ মাহবুবুল হক। তার স্থলাভিষিক্ত হন কলেজ উপাধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল ইসলাম। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই চোখ পড়ে সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম আনোয়ারুল হকের স্মৃতি বিজড়িত অধ্যক্ষের বাসভবন চত্বরের বড় বড় গাাছের দিকে। দায়িত্ব নেয়ার কিছুদিনের মধ্যে তিনি ছাত্র- শিক্ষক – অভিবাবকদের নিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি সভা ডাকেন কলেজ ক্যাম্পাসে। সেখানে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুননবীর উপস্থিতিতে সকলের নিকট গাছ কাটার অনুমতি চায় উপাধ্যক্ষ শহীদ। কিন্তু তার সেই প্রস্তাবে কেউ সারা দেয়নি।
তারপরেও কলেজের উন্নয়নের কথা বলে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার পায়তারা করেন উপাধ্যক্ষ শহীদ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ সপ্তাহ ধরে ১টি বড় চাম্বুল, ২টি বড় রেইনট্রি, দুর্লভ প্রজাতির ১টি বটবৃক্ষ, ১টি রাবার গাছ এরই মধ্যে কেটে নিয়েছে । আরো বেশ কয়েকটি গাছ কাটার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ করে রেখেছে। সেগুলোও যে কোনো সময় কাটবে বলে ধারনা করছে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অত্র কলেজের গভার্নিং বডির সভাপতি মোঃ নুরুননবীর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার সাথে উপাধ্যক্ষ আলাপ করেছিল ক্লাসরুম উন্নয়নের জন্য একটি মরা গাছ কাটবে, কিন্তু তার বেশি গাছ কাটার কোন সুযোগ নেই। আমি গত সপ্তাহে একাধিক গাছ কাটার অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক লোক পাঠিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। এখন আবার শুনতেছি সে নাকি গাছ কাটতেছে। এটা কোনো প্রকারেই মেনে নেয়া হবেনা।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেনের সাথে আলাপকালে তিনি কলেজের গাছ কেটে নেওয়ার ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান।
গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে অত্র কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শহিদুল ইসলামের মুঠোফোন (০১৭৪০৪৩০৮৭৫) নাম্বারে ফোন করেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের প্রশ্ন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান কিভাবে সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে বৃক্ষ নিধন চালাতে পারে?