আসাদুল ইসলাম,গাইবান্ধা:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল ইসলাম মুকুল ও সচিব মো. মিজানুর রহমানের ব্যাপক বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ইউপির ১০ সদস্য।
সোমবার (১৭ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম।
এর আগে, রোববার ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের এসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন সদস্য।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল ইসলাম মুকুল ও সচিব মো. মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে যোগসাজশে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছে। এনজিও কর্তৃক শুধু মাত্র চারটি ষ্টান্ডিং কমিটি গঠন ছাড়া এখন পর্যন্ত বাকি ৯ টি স্টান্ডিং কমিটি গঠন করেন নি। যে কারণে জনগণের কাছ থেকে আদায়কৃত ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স এর টাকা কোন হিসাব-নিকাশ না করে চেয়ারম্যান ও সচিব যোগসাজসে আত্মসাৎ করেন। যা এখন পর্যন্ত কোন রেজুলেশনের মাধ্যমে সদস্যদের অবগত করা হয়নি।
এছাড়াও ২০২২-২৩ অর্থ বছরের মাতৃকালীন ভাতা ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে রেজুলেশন ছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব নিজের ইচ্ছায় সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিয়েছেন। একই অর্থ বছরের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ওয়ার্ড সভা এবং সদস্যদের রেজুলেশন ছাড়া প্রকল্প জমা দিয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ৯ মার্চ ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বরাদ্দকৃত ৬ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকার বরাদ্দ কম্পিউটার থেকে ডাউনলোড করে সচিব মিজানুর রহমান প্যানেল চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদকে স্বাক্ষর করতে বলেন। প্যানেল চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ ইউপির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করে স্বাক্ষর করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন ইউপি সচিব মিজানুর রহমান চেয়ারম্যানের নিজস্ব ব্যক্তি অহেদুল ইসলাম সাদা’র কাছ থেকে চেয়ারম্যানের জাল সাক্ষর নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়। ওই সময় ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করেন।
এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাকে বাদ দিয়ে নতুন করে চেয়ারম্যান তার নিজস্ব লোককে নিয়োগ দেন। অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া নতুন উদ্যোক্তা আতিকুর রহমান হরহামেশায় বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করে আসছে।
এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত হাট-বাজারের ১% ও ১০% বরাদ্দ ইউপি সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করেই চেয়ারম্যান ও সচিব নিজের ইচ্ছামতো বন্টনের বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
শ্রীপুর ইউনিয়নের পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ বলেন, কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম ও সচিব মিজানুর রহমান পরিষদের সদস্যদের না জানিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করে আসছে। তারা মনগড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ করছে। তাদের নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে ১০ জন ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি।
শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এসব মিথ্যা অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী পরিষদের সব কিছু ঠিকঠাক চালানো হচ্ছে।’
এ বিষয়ে শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে শুধু জেলা প্রশাসক নয়, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ দেওয়া হলেও তা তদন্ত করলে মিথ্যা প্রমাণিত হবে ইনশাআল্লাহ।’
গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে ১০ জন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পেয়েছি৷ এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’