• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথে সরকারের খাস ভূমির উপর নির্মিত হয়েছে মুহাম্মদিয়া বর্ডিং ও এতিমখানা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৭, ২০২৩, ২০:২৮ অপরাহ্ণ
বিশ্বনাথে  সরকারের খাস ভূমির উপর নির্মিত হয়েছে মুহাম্মদিয়া বর্ডিং ও এতিমখানা!

সিলেট প্রতিনিধি,

বিশ্বনাথের অলংকারি ইউনিয়নে পনাউল্লাহ বাজার হজরত শাহজালাল (রঃ) ডি.এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা ১৯৮৮ ইংরেজীতে পনাউল্লাহ বাজারের পূর্ব দক্ষিণ প্রান্তে এলাকাবাসীর সর্বসম্মতিক্রমে অক্লান্ত পরিশ্রমে ৪ শতক জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত হয় ।
এই ৪ শতক জায়গা বড়তলা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মরহুম নূরুল হোসেন দান করেন । পরবর্তীতে বড়তলা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোজাম্মেল মুকতাদির ৫ শতক জায়গা দিয়েছেন এবং মৌখিক ভাবে দলিল ব্যতিত বড়তলা গ্রামের মরহুম আব্দুল গণীর পরিবার আরোও ৭ শতক জায়গা মাদ্রাসায় দান করেন বলে জানাগেছে ।
মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠাকালীণ সময় থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ওই সময়ের মধ্যে কয়েক শতকের বেশি কুরআনের হাফিজ তৈরী হয় । ২০১৬ সালের প্রথম দিকে এলাকার বড় খুরমা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাওলানা রফিক আহমদ, বড়তলা, বড় খুরমা ও বড়খুরমা উত্তরের যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অধিবাসীদেরকে নিয়ে হজরত শাহজালাল(রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসার অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য যুক্তরাজ্যে ব্রিকলেইনে একটি বৈঠকের আহবান করেন । ওই বৈঠকে তার আহবানে উপস্হিত সবাই একমত হন এবং উপস্হিত ও অনুপস্হিত অনেকেই মাদ্রাসার ফান্ডে টাকা দেওয়া শুরু করেন ।
সেদিন ব্রিকলেইনের ওই বৈঠকে যারা উপস্হিত ছিলেন তারা হলেন, মাওলানা রফিক আহমদ, মিরন মিয়া, দিলাল আহমদ, আলী আশরাফ, খাবুল মিয়া, কবির মিয়া, এনামূল হক, আনহার মিয়া, মফচ্ছির মিয়া, মজম্মিল মিয়া, রাজু মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম, রেদওয়ান হোসেন শামীম, এমরান হোসেন, সাবরান হোসেন, জুনেদ মিয়া, সুহেল মিয়া, ডাঃ মাসুক আহমদ ও আরো নাম না পাওয়া একাধিকজন ।
সেদিন বৈঠকে হজরত শাহজালাল (রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসার নামে উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে একটি উন্নয়ন কমিটি গঠিত হয় আর এ কমিটির সভাপতি মনোনিত হন বড় খুরমা গ্রামের মিরন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মনোনিত হন মাওলানা রফিক আহমদ । এই কমিটি গঠনের কয়েকমাস পরে মাওলানা রফিক আহমদ যুক্তরাজ্যে মাদ্রাসার কল্যাণে উত্তেলিত বিশাল একটি অংকের টাকা নিয়ে তিনি বাংলাদেশে আগমণ করেন । দেশে এসে মাওলানা রফিক আহমদ পূর্বের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে দেশে মাদ্রাসার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রভাশালী একজন ব্যক্তিকে ম্যানেজ করেন । পরে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিয়ে খুবই সুকৌশলে মাদ্রাসার জেনারেল কমিটি ও এলাকাবাসীর মতামত এবং মাদ্রাসার কল্যাণে যুক্তরাজ্যে বৈঠকের সিদ্বান্তকে অবহেলা করে হজরত শাহজালাল(রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসার মূল নামের সাথে ” মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা” নাম যোগ করে দেন ।
মাওলানা রফিক আহমদ দেশে এসে এমন পরিকল্পনা গ্রহণের ফলে যুক্তরাজ্যে মাদ্রাসার কল্যাণে ওই কমিটি ঝরে যায় এবং অধিকাংশ সদস্য কমিটি থেকে স্ব ইচ্ছায় ইস্তেফাদেন । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কমিটির একজন ফাউন্ডার মেম্বার জানান, যুক্তরাজ্যে এমন একটি বৈঠকে উপরোক্ত চালচাতুরীর বিরুদ্ধে তিনি সরাসরি প্রতিবাদ জানান এবং প্রশ্ন রাখেন? কিন্তু বৈঠকে কেউই তার কোনো প্রশ্নের জবাব দেন নাই? তিনি জানান কথা না বলে এক এক করে বৈঠক থেকে সকল সদস্যবৃন্দ বাহির হয়ে আসেন । এ-বিষয়টি নিয়ে এলাকার দেশে বিদেশে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠলেও কিন্তু বিভিন্ন ভাবে দামাচাপা দিয়ে বিষয়টিকে ঢেকে রাখা হয়েছে বলে জানাগেছে ।
এ-বিষয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান রিপোর্টে যে সব তথ্য উদঘাটিত হয়েছে তা এখানে প্রকাশিত হয়েছে ।
২০১৯ সালে হজরত শাহজালাল (রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ সংগঠনের সাবেক ৪৬ জন ছাত্রের সাক্ষরিত মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবর সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য যে কপি প্রেরণ করেছিল তা হচ্ছে ।
বরাবর,
সভাপতি ম্যানেজিং কমিটি
হযরত শাহজালাল (র.) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা
পনাউল্লাহ বাজার, বিশ্বনাথ, সিলেট ।
বিষয়: হযরত শাহজালাল (র.) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও
এতিমখানা নিয়ে তৃনমূল সহ দেশ-বিদেশে ব্যাক্তি বর্গের বিভিন্ন প্রশ্ন প্রসঙ্গে ।
জনাব,
আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ অত্র মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র বৃন্দ । হযরত শাহজালাল (র.) ডি.এস
হাফিজিয়া মাদ্রাসায় আমরা বিভিন্ন সেশনে যথারিতি হিফজ সম্পন্ন করে পাগড়ি নিয়ে বিদায় নিয়েছি ।
আমাদের প্রত্যেক সেশন কালীন সময়ে উক্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে কোন প্রশ্ন ছিল না । উল্লেখ্য যে, এখানে
আমাদের ও সু-প্রিয় এলাকাবাসী এবং প্রবাসীগণ সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের আর্থিক অনুদান,
ত্যাগ ও শ্রমের বদৌলতে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল, এখান থেকে প্রায় অর্ধশতকের বেশী ছাত্র-ছাত্রীরা
হিফজ সম্পন্ন করে বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছে । কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা দেখে
আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় । ২০১৬ সালে এক ব্যক্তি কর্তৃক অত্র মাদ্রাসায় মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও
এতিমখানা” নামকরণে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে দিন দিন রহস্যজনক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায়
এলাকাবাসী ও দেশ-বিদেশ সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কাছ থেকে নানা প্রশ্ন উত্তাপিত হওয়ায়
আমরা আগত প্রশ্নের জবাব দিতে অক্ষম হয়েছি । নিম্নে প্রশ্ন গুলো উপস্থাপন করা হলো ।
প্রশ্নাবলী:
*মাদ্রাসার নাম । হযরত শাহজালাল (র.) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা পনাউল্লাহ বাজার, ওপর
দিকে নতুন প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের নাম মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা” বর্তমানে হযরত
– শাহজালাল (র.) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা নামকরণে
যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে । * প্রশ্ন হচ্ছে এখানে এবং ও মুহাম্মদিয়া শব্দদয়ের ব্যবহারে
কী বুঝানো হয়েছে ? এটা কী দুটি প্রতিষ্ঠানের ইঙ্গিত বহন করে না ?
* অত্র প্রতিষ্ঠানে যদি বোর্ডিং ও এতিমখানা হয়ে থাকে, তাহলে তো এভাবে নামকরণ হওয়ার
কথা যথা “হযরত শাহজালাল (র.) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা বোর্ডিং ও এতিমখানা
পনাউল্লাহ বাজার, বিশ্বনাথ, সিলেট ।
এখানে উক্ত প্রতিষ্ঠানে আলাদা পরিচালক কেন? যাহা বিগত ওয়াজ মাহফিলে অন্য এক ব্যক্তি উদ্ভোধক হয়ে ও উক্ত ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত হল কেন ?এমতাবস্থায় মূল প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কী যানান দেয় ?
* অত্র প্রতিষ্ঠানের নামে দেশ-বিদেশে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় ও ফান্ডরেইজিং করা হচ্ছে এ বিপুল
পরিমাণ টাকা কার কাছে এবং কোথায় খরচ হচ্ছে ? এর সঠিক হিসাব কার কাছে ?
উক্ত প্রতিষ্ঠানে চারজন শিক্ষকের মধ্যে দুইজন বেতন পাচ্ছেন দুইজন বঞ্চিত হচ্ছেন কিন্তু কেন ?
জানাযায় বোর্ডিং ও এতিমখানায় প্রত্যেক ছাত্রের একজন করে থাকা খাওয়া ও পড়ার জন্য
স্পন্সর বা দাতাগণ ব্যয়বার বহন করেন । এখানে ছাত্ররা ভর্তি ফি সহ মাসিক বেতন দিয়ে
লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে । প্রশ্ন হচ্ছে: দাতাগণের টাকা ও জমাকৃত টাকা কোন খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে ?
ওয়াজ মাহফিল ও বিভিন্ন মৌসুমে ছাত্রদের খাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত চাউল, ডাল ইত্যাদি চাঁদা
বাস্তবায়িত হয় । প্রশ্ন হচ্ছে । দেশ-বিদেশের দাতাগণের জমাকৃত টাকা ও ফান্ডরেইজিং এর
টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে ?
মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিলের দাওয়াতনামা বিভিন্ন খাতে চাঁদা দাতাগণের নিকট যে পত্র প্রেরন
করা হয় তার খামের উপরিভাগে মাদ্রাসার নাম বিলুপ্ত করে শুধুমাত্র মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও
এতিম খানার নাম ব্যবহার করা হয় কেন ?
* বিশ্বনাথে ভর্তি বিজ্ঞপ্তির জন্য ব্যানারে লিখিত ছিল মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা পনাউল্লাহ
বাজার এ ভর্তি চলিতেছে । অনুরূপ একটি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি লিফলেট এ এভাবে লেখা ছিল । প্রশ্ন
হল মূল প্রতিষ্ঠানের নাম লুপ্ত হল কীভাবে ?
অত্র প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা হিফজ পরীক্ষায় বিভিন্ন বোর্ডে অংশ গ্রহণ করেছিল “মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং
ও এতিমখানা পনাউল্লাহ বাজার নামে” এমন কী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্রদের সনদে রয়েছে শুধু
মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা । প্রশ্ন হচ্ছে এখানে মূল প্রতিষ্ঠানের নাম বিলুপ্ত হল কেন?
ইদানিং শুনা যাচ্ছে “মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা উক্ত প্রতিষ্ঠান হতে আলাদা হয়ে
বাজারের উত্তরে ক্রয়কৃত জায়গায় চলে যাবে । প্রশ্ন হচ্ছে অত্র প্রতিষ্ঠানের আশ-পাশে কী
জায়গা নেই ?
* এতিমখানার জন্যে রাগীব আলী ভবনের পূর্ব পাশে বিল্ডিং নির্মানের জন্যে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন
করে থাকলেও এখন কেন বাজারের উত্তরে আলাদা ভূমি ক্রয় করা হয় ?
অতএব, বর্ণিত বিষয়াদির আলোকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, ম্যানেজিং কমিটি, জেনারেল
কমিটির মাধ্যমে (আমরা) সরাসরি উপস্থিত হয়ে সদুত্তরের সু-দৃষ্টি কামনা করছি ।
ক্রমিক:
১/ হাফিজ মোঃ কামাল আহমদ
২/ হাফিজ মোঃ আবুল কালাম (আজাদী)
৩/ হাফিজ হেলাল উদ্দিন
৪/ হাফিজ ফারুক আহমদ
৫/ হাফিজ আরশ আলী (১)
৬/ হাফিজ আব্দুল মুমিন
৭/ হাফিজ হুসাইন আহমদ
৮/ হাফিজ নাজর মিয়া
৯/ হাফিজ আব্দুল মালিক
১০/ হাফিজ আছকির আলী
১১/ হাফিজ আরশ আলী
১২/ হাফিজ মোঃ আব্দুল লতিফ
১৩/ হাফিজ মোঃ জুমেল মিয়া
১৪/ হাফিজ মোঃ হুঁশিয়ার আলী (১)
১৫/ হাফিজ মোঃ জসীম উদ্দীন (১)
১৬/ হাফিজ মোহাম্মদ আলী মিটন
১৭/ হাফিজ মোঃ মামুনুর রহমান জুনেদ
১৮/ হাফেজ মো. খসরু মিয়া
১৯/ হাফিজ মোঃ সুলতান আহমদ
২০/ হাফিজ মোঃ এনামুল হক টিটু
২১/ হাফিজ জসীম উদ্দীন (২)
২২/ হাফিজ শফিকুর রহমান
২৩/ হাফিজ খাইরুল ইসলাম
২৪/ হাফিজ আদুল মন্নান
২৫/ হাফিজ এমদাদুল হক তুহীন
২৬/ হাফিজ ওলিউর রহমান
২৭/ হাফিজ আংশাকুর
২৮/ হাফিজ হুশিয়ার (২)
২৯/ হাফিজ জামাল উদ্দিন (১)
৩০/ হাফিজ আব্দুল মালিক (২)
৩১/ হাফিজ আমিনুর রহমান
৩২/ হাফিজ আব্বাস আলী
৩৩/ হাফিজ মোক্তার আলী
৩৪/ হাফিজ মোঃ জামাল উদ্দিন
৩৫/ হাফিজ মঞ্জুর আলী
৩৬/ হাফিজ পারভেজ আহমদ
৩৭/ হাফিজ মুজাহিদুল ইসলাম
৩৮/ হাফিজ আব্দুল হালিম
৩৯/ হাফিজ মোঃ আসিক মিয়া
৪০/ হাফিজ মোঃ আব্দুল মুমিন (২)
৪১/ হাফিজ মোঃ সুহেল মিয়া
৪২/ হাফিজ মোঃ দিলওয়ার হোসেন সুমন
৪৩/ হাফিজ মাইনুল ইসলাম আরিফ
৪৪/ হাফিজ মাছুম আহমদ
৪৫/ হাফিজ মোঃ সাইফুল ইসলাম
৪৬/ মোঃ গিয়াস উদ্দীন।
অন্যদিকে তথ্য অনুসন্ধানে জানায়ায়, হজরত শাহজালাল (রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসার এতিমখানার জন্য মাদ্রাসার রাগীব আলী ভবনের পূর্ব পাশে বিল্ডিং নির্মাণের জন্য ভিত্তি প্রস্তর স্হাপন করে থাকলেও মাওলানা রফিক আহমদ ও তার সহযোগিরা মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকার মানুষের মতামত না নিয়ে অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বাজারের উত্তরে আলাদা ভূমি ক্রয় এবং যুক্তরাজ্য থেকে সংগ্রহীত ওই টাকা দিয়ে মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা নামে একটি ভবন সরকারি খাস ভূমির উপর তৈরী করেন ।
জানায়ায়, প্রতিষ্ঠাকালীণ সময়ে মাদ্রাসার দলিলে নাম ছিল হজরত শাহজালাল (রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া নামে। বি এস রেকর্ডে ২০১১ সালের প্রিন্টে বর্তমানে মাদ্রাসার নাম দেখাযায়, বড় খুরমা হাফিজিয়া মাদ্রাসা কিন্তু এখনও এটার সংশোধনীর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় নাই ।
পরবর্তীতে হজরত শাহজালাল (রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা পনাউল্লাহ বাজার সামনে রাখিয়া মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা হয়েছে । মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানার ১১৯৮/২০১৭নং দলিলের মালিকের কলামে লেখা হচ্ছে হজরত শাহজালাল( রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা । পরবর্তীতে আরেকটি দলিল নং ৪১৩/২০১৯তে মালিকের কলামে মাদ্রাসার কোন নাম নেই । দলিল নং ৪১৩/২০১৯ এ ইঙ্গিত বহন করে মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা হচ্ছে আলাদা একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান।
প্রবাস থেকে জানায়ায়, যুক্তরাজ্যে যে সব টাকা ক্যালেকশন হচ্ছে তা হলো হজরত শাহজালাল (রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা সামনে রেখে । বর্তমান বিল্ডিংটি মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা এই জায়গাটি দখলকৃত হচ্ছে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাওলানা রফিক আহমদ। তিনি সরকারের এই জমিনটিকে অন্য কারো কাছে বিক্রি করতে না পেরে চলচাতুরীর মাধ্যমে মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানার কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সুকৌশলে বিক্রি করে দেন। অন্যদিকে বর্তমানে মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা নামে জায়গাটি নামজারি হচ্ছে না সরকারের খাস খতিয়ানের রেকর্ড ভুক্ত জমি হওয়ার কারণে ।
দলিল ঘাটাঘাটি করে জানাগেছে মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানাটি সরকারের খাস যে ভূমিতে স্হাপিত হয়েছে তার মৌজা খুরমা, জেএল নং ৩৭, আরএস বি এস দাগ নং ৭৯৪৪, খতিয়ান নং ১/১, জমির পরিমাণ ০৬ শতক।
উপরোক্ত বিষয়টি নিয়ে এলাকার কিছু সচেতন ব্যক্তিবর্গের কাছে জানতে চাইলে তারা যা ব্যক্ত করেছেন তা হচ্ছে,
যুক্তরাজ্যে মিরন মিয়া ও মাওলানা রফিক আহমদের কমিটি থেকে স্ব ইচ্ছায় ত্যাগকারি তিনজন ফাউন্ডার মেম্বার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা বলেন, আমরা কমিটি থেকে বাহির হয়ে গেছি, এখানে হিসাব নিকাশ কিছুই ঠিক নয় । এক ব্যক্তিই তার মত করেই টাকা পয়সা যা ইচ্ছে তাই করছেন । হজরত শাহজালাল (রঃ) ডি. এস. মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে তিনি মুহাম্মদীয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা নামে সরকারি খাস জমিনের উপর একটি বিশাল ভবন নির্মাণ করেছেন।
এটা তার একটি ব্যবসায়ি প্রজেক্ট বলে এই তিনজনের মধ্যে দুইজন প্রকাশ করেন। অন্য একজন বলেন, সর্ব প্রথম আমার কাছেই ফান্ড জমা ছিল । কিন্তু দেখলাম এক ব্যক্তিই সব! হিসাব নিকাশ কিছুই সঠিক নয় তখন আমি আমার কাছ থেকে ফান্ডের দায়িত্ব হস্তান্তর করে ওই ব্যক্তির হাতেই পৌছে দেই ।
কামাল বাজার ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল ও বাংলাদেশ আন্জুমানে আল- ইসলার কেন্দ্রীয় মহাসচিব বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মুফতি মনোওর আলী বলেন, বিভিন্ন লোকজন আমার কাছে এসে মাদ্রাসা সংক্রান্ত অনেক বিষয় আমাকে শুনিয়েছেন, আমি শুনেছি কিন্তু আমি সরাসরি এসব অভিযোগ গুলো দেখিনাই । তিনি বলেন- যে, যা করবে তার কাজে তার স্হানে তাকে পৌছিয়ে দিবে । সকল কাজের মূলই হচ্ছে ব্যক্তির নিয়ত ।
অলংকারি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ও হজরত শাহ জালাল (রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসার সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মেম্বার আলতাব আলীর কাছে প্রশ্ন উত্তাপিত হয়, ওই মাদ্রাসায় সাবেক ছাত্ররা মাদ্রাসার সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির কাছে লিখিত ১৩টি প্রশ্ন করেছিলেন এ বিষয়ে আপনি কতটুকু জানেন? তখন তিনি বলেন, আমি শুনেছি সাবেক ছাত্ররা মাদ্রাসার সভাপতির কাছে দাবী নিয়ে এসেছিলেন । কি হয়েছে তা জানিনা । তিনি বলেন তবে এসব বিষয়ে আপনারা খুঁজলে অনেক কিছু পাবেন ।
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অলংকারি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হীরা মিয়ার কাছ থেকে জানায়ায়, তিনি বলেন আমি এই মাদ্রাসার সহ- সভাপতি কিন্তু ইচ্ছা করে সেখান থেকে আমি স্বরে এসেছি কারণ তাদের এসব আমার ভালো লাগেনা । তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে মাওলানা রফিক আহমদই নিয়ন্ত্রণ করছেন এই মাদ্রাসার সব ।
মাদ্রাসার সভাপতি হচ্ছেন, চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল । হীরা মিয়ার কাছে প্রশ্ন উত্তাপিত হয়েছিল সাবেক মাদ্রাসার ৪৬ জন ছাত্রের সাক্ষর সম্বেলিত সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির বরাবরে ১৩টি প্রশ্ন তুলেধরে ছিল, এসব কি সমাধান হয়েছে?
তিনি বলেন অর্ধেক হয়েছে আরো হচ্ছে, হবে অর্থাৎ গোজামিলের আশ্রয় গ্রহণ করা হয়েছে । হীরা মিয়া জানান, তিনজনের সাইনে মাদ্রাসার একাউন্ট থেকে টাকা উঠে । এই তিনজন হচ্ছেন, মাদ্রাসার সেক্রেটারি ও মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফিজ আব্দুল কাদির, বড়তলা মজহারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নাজমুল ইসলাম ও আমি হীরা মিয়া। মাদ্রাসার দুইজন হাফিজ’সাব আমাদের কাছে থেকে চেকে সাইন নেন এরপর ঐ টাকা কোথায় যায় তার কোনো পাত্তাই পাওয়া যায়না ।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীণ সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রুকন নিয়াজি বলেন, মাদ্রাসার সাবেক ছাত্ররা মাদ্রাসা সংক্রান্ত তাদের কিছু কথা নিয়ে মাদ্রাসার সভাপতি চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেলের কাছে তারা গিয়ে ছিলেন। কিন্তু চেয়ারম্যান তাদের কথাতে কোনো সাড়া দেন’নাই । তিনি বলেন, মাদ্রাসার দলিলে ভূলক্রমে রের্কড হয়েছিল বড়খুরমা নামে । এই ভূলটি সংশোধনীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল চেয়ারম্যান নাজমুল রুহেলকে কিন্তু এখনও পর্যন্ত এটার সংশোধনীর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রুৌশন আলী বলেন, বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আমি একজন। বর্তমান কমিটি গঠনের পর আমি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি, তবে চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেলের কাছে সাবেক ছাত্ররা কিছু সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন শুনেছি এবং শুনেছি চেয়ারম্যান সমাধানও করেছেন।

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বড় খুরমার সিতার মিয়া বলেন, বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সাবেক ছাত্ররা চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেলের কাছে তারা এসেছিলেন । চেয়ারম্যান কিছু সমস্যা সমাধান করেছেন আবার কিছু সমস্যা সমাধান করেন নাই, হচ্ছে- হবে বলে এভাবে দিন যাচ্ছে ।

মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র হাফিজ মোঃ আবুল কালাম আজাদি বলেন, ২০১৯ সালে মাদ্রাসার সভাপতির বরাবরে আমরা সাবেক ছাত্ররা ১৩টি প্রশ্ন লিখিত আকারে দাখিল করেছিলাম । ম্যানেজিং কমিটি আমাদের ১৩টি প্রশ্নের মধ্যে মাত্র ৩টির জবাব দিয়েছেন কিন্তু বাকী গুলোর কোনো উত্তর এখনোও পর্যন্ত দেন নাই । আজাদী বলেন, মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা এটি আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান । এটির কার্যক্রম সব কিছু আলাদা । এটি যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাওলানা রফিক আহমদ তিনি নিজে এটি পরিচালনা করেন।

তিনি বলেন, হজরত শাহজালাল (রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও মাদ্রাসার সেক্রেটারি হাফিজ আব্দুল কাদির একদিন আমার কাছে বলেছেন , মাওলানা রফিক আহমদকে আমাদের মাদ্রাসায় স্হান দিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি ।

পূর্ব বন্ধুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকালীণ ছাত্র বড়তলা গ্রামের হাফিজ মাওলানা ফয়ছল আহমদ জানান, ১৯৮৮ সালে হজরত শাহজালাল( রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা এলাকাবাসীর অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । ১৯৮৬ সালে এবং এর পূর্বে হাফিজি মাদ্রাসা ছিল বড়তলা মজহারিয়া দাখিল মাদ্রাসা । ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামিযে আল ইসলাহ এবং বাংলাদেশ ছাত্র সেনার মধ্যে মাদ্রাসায় খুবই সংঘর্ষ ঘটে । যার ফলে উক্ত দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাফিজ মরহুম আব্দুস সাত্তার তিনি মাদ্রাসা থেকে হিফজ শাখা উঠিয়ে’দেন । এলাকার অনেকে অনুরোধ করলে আবার হিফজ শাখাটি বহাল রাখার জন্য কিন্তু সুপার সাত্তার সাব তিনি অনুরোধ গ্রহণ করেননি। ফলে তখনকার সময়ের এলাকার মুরব্বী যুবক ও তরুণেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পনাউল্লাহ বাজারের পূর্ব দক্ষিণ প্রান্তে হাফিজিয়া মাদ্রাসার সূচনা করেন । এলাকাবাসী বড়তলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে মরহুম হাফিজ আলাউদ্দিন সাহেবকে পনাউল্লাহ বাজার হাফিজিয়া মাদ্রাসায় যোগদান করান । শুরু হয়েগেল হজরত শাহজালাল (রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা ।

হাফিজ ফয়ছল আরো জানান, হজরত শাহজালাল (রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা যে চারশতক জায়গা নিয়ে স্হাপিত হয় ওই চারশতক জায়গা ছিল বড়তলা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী কবি ও সাহিত্যিক হাসনাত মোঃ আনোয়ার হোসেন বাবুল মিয়ার । তার পিতা হচ্ছেন মরহুম মোঃ আতাউর রহমান । ওই জায়গাটি সমপরিমাণ ভূমি তাদেরকে অন্যত্র দেন বড়তলা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী নূরুল হোসেন । পরে নূরুল হোসেন এই চারশতক জায়গা মাদ্রাসার জন্য দান করে’দেন । তিনি বলেন, পরবর্তীতে বড়তলা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোজাম্মেল মুক্তাদির আরোও ৫শতক জায়গা মাদ্রাসার জন্য দান করেন । আমার আব্বাও মৌখিক ভাবে আরো ৭শতক জায়গা দান করেন মাদ্রাসায়। তিনি দুঃখ কন্ঠে বলেন, আমার পরিবার মাদ্রাসার একজন ভূমি দাতা কিন্তু মাদ্রাসার কোনো আশয়-বিষয়ে আমার পরিবার দাওয়াত পায়না । ভুলাই খাঁন সাব যখন মাদ্রাসার সভাপতি ছিলেন তখন আমার পরিবার মাদ্রাসার সকল মিটিং প্রোগ্রামে দাওয়াত পেয়েছিল।
ফয়ছল পরিশেষে জানান, মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানার সাথে এলাকার মানুষজন সংলিস্ট নয়, আমি এলাকার অধিবাসী অনেকের মুখ থেকে শুনেছি ।
হজরত শাহজালাল (রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও মাদ্রাসার সেক্রেটারি হাফিজ আব্দুল কাদির বলেন, হজরত শাহজালাল (রঃ) ডি. এস. হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা নামকরণে মাদ্রাসার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ।
তিনি জানান, মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা হচ্ছে হজরত শাহজালাল (রঃ) হাফিজিয়া মাদ্রাসার একটি শাখা। মাদ্রাসার নামের সাথে মুহাম্মদিয়া বোর্ডিং ও এতিমখানা যোগ করায় মাদ্রাসার সাবেক ছাত্ররা কোনো ধরণের কর্মসূচী পালন করছে কি? হ্যাঁ তারা আমাদের কাছে এসে প্রতিবাদ করেছে । এ নামকরণ করায় এলাকার মানুষ কি সন্তুষ্ট? হ্যাঁ এলাকার সকলেই সন্তুষ্ট ।
মাদ্রাসার সাবেক ৪৬ ছাত্র সম্মেলিত ভাবে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নিকট লিখিত ভাবে ১৩ টি প্রশ্ন তুলে ধরেছিল এর মধ্যে ৩টির প্রশ্নের উত্তর আপনারা দিয়েছিলেন বাকী প্রশ্নের উত্তর গুলো আপনারা এখনো দেন নাই! বিষয়টি কি জানতে পারবো? এ প্রশ্নের জবাবে হাফিজ আব্দুল কাদির বলেন, আপনি এসব কিছু আমাদের চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে ভাল ভাবে জানতে পারবেন ।