গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি \ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী অংশের মহাসড়কটি ইতোমধ্যে মরনফাঁদে পরিনত হয়েছে। গত ২৬ জুন দক্ষিণাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ মহাসড়কটির ক্ষমতার তুলনায় যানবাহনের চলাচল কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসাথে প্রতিদিন লাশের মিছিলও দীর্ঘতর হচ্ছে।
গৌরনদীর একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান মতে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কের গৌরনদী অংশে ছোট-বড় ১৭০ টি সড়ক দূর্ঘটনা হয়েছে। এরমধ্যে ২৭ জনের প্রানহানি ও ৩৩৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এছাড়াও চলতি এপ্রিল মাসে আরও কয়েকটি দূর্ঘটনায় একজনের প্রানহানি ও একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
সূত্রমতে, অপ্রশস্ত সড়কে দ্রুততম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য চালকদের বিবেকহীন প্রতিযোগিতার কারণে জানমালের ক্ষতির সংখ্যা দিনদিন বেড়ে চললেও তা নিয়ন্ত্রনে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ কিংবা পুলিশ প্রশাসনের তেমন কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে এ মহাসড়কে দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা।
বৃহস্পতিবার সকালে মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী মোটরসাইকেল চালক জসিম হাসান, মিজান সরদার, মেহেদী হাসান সহ একাধিক চালকরা জানান, দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধণের পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা পূর্বের চেয়ে প্রায় চারগুন বৃদ্ধি পেলেও সড়ক প্রশস্ত হয়নি। অপ্রশস্ত সড়কে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পরিবহন চালকদের বিবেকহীন প্রতিযোগিতার ফলে মহাসড়কে দূর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঈদযাত্রায় পরিবহনগুলোর গতিসীমা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে।
এ বিষয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি গোলাম রসুল মোল্লা বলেন, মহাসড়কে দূর্ঘটনারোধে চালকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি গাড়িগুলোর গতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা। যাত্রীদের ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে ইতিমধ্যে এপিবিএন সদস্যদের সমন্বয়ে গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ড ও ভুরঘাটা এলাকায়
চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে এবং হাইওয়ে পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করে যাচ্ছে।