স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে বাস মালিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। এসময় বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেল ও দোকান ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সংঘর্ষ চলাকালে গুলি বর্ষন করা হয়েছে বলে আহতরা জানালে পুলিশ বলছে কোন গুলি বর্ষনের ঘটনা ঘটেনি।
শুক্রবার (০৫ মে) রাতে জেলা শহরের কুয়াডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদ মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানাগেছে, আগামী ২০ মে গোপালগঞ্জ জেলা বাস মালিক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার ছিল প্রতিক বরাদ্দের নির্ধারিত দিন। প্রতিক বরাদ্দ নিয়ে ইলিয়াস-লিটন পরিষদের সমর্থকদের সাথে কামিল–মাসুম পরিষদের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটি হয়। এর জের ধরে রাতে ইলিয়াস-লিটন পরিষদের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কামিল–মাসুম পরিষদের সমর্থকদের উপর হামলা চালায়।
এসময় বাঁধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেল ও দোকান ভাংচুর করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। মারাত্মক আহত ৭ জনকে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কামিল–মাসুম সমর্থক আহত মো: হিসাম বলেন, হঠাত করে ইলিয়াস-লিটনের সমর্থকরা হামলা চালিয়ে আমার মোটর সাইকেল ভাংচুর করে। এসময় আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়া হয়।
কামিল–মাসুম সমর্থক বাস মালিক শফিবুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ছিল প্রতিক বরাদ্দের নির্ধারিত দিন। প্রতিকও বারাদ্দ হয়। পরে রাতে হঠাত করে ইলিয়াস-লিটনের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কামিল–মাসুম পরিষদের সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এসময় ইলিয়াস-লিটনের সমর্থকরা গুলি বর্ষন করে।
ইলিয়াস-লিটন সমর্থক আহত টুটুল বলেন, কামিল–মাসুম সমর্থকরা ইলিয়াস-লিটনের সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এসময় কুপিয়ে আমাদের আহত করা হয়। এমনকি আমাদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে।
এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদ মাসুদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত। সংঘর্ষ চলাকালে গুলি বর্ষনের ঘটনা ঘটেনি। এখন পযর্ন্ত কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। #