• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জেলেদের কাছ টাকা নেয়ার অভিযোগ নলছিটি মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ২৪, ২০২৩, ১৪:১২ অপরাহ্ণ
জেলেদের কাছ টাকা নেয়ার অভিযোগ নলছিটি মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

নলছিটি(ঝালকাঠি)প্রতিনিধিঃ

ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উপকরণ হিসেবে নলছিটি উপজেলার জেলেদের মাঝে ১৭টি বকনা বাছুর ও ৮০টি ছাগল বিতরণ করা হয়। যার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রতি বকনা বাছুর ২৮হাজার টাকা ও ছাগলের ঘরসহ ২০হাজার টাকা। তবে এই বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম ও জেলেদের কাছ টাকা নেয়ার অভিযোগ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ।

মৎস্য অফিসের দেয়া বকনা বাছুর ফেরত দিয়ে দিয়েছি। এই দুধের বাছুর নিয়ে আমি কি করবো দুইদিন পরই এটা মারা যাবে। শুনেছি গরীব জেলেদের জন্য সরকার প্রতিটা বাছুর ক্রয়ের জন্য ২৮হাজার টাকা দিয়েছে। কিন্তু মৎস্য অধিদপ্তর আমারে যে বাছুর দিয়েছে বাজারে এর মূল্য আছে বড়ছোড় ১৫হাজার টাকা। তাই আমি আমার বাছুর ফেরত দিতে এসেছি। কথাগুলো ক্ষোভের সাথে বলছিলেন জেলার নলছিটি উপজেলার পৌর এলাকার বাসিন্দা ও জেলে পরান সিকদার।

এ বিষয়ে জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের দেয়া বকনা বাছুর ও ছাগল বরাদ্দকৃত টাকার অর্ধেক দামেও ক্রয় করা হয়নি। এছাড়া ছাগলের জন্য যে ঘর দেওয়া হয়েছে সেটাও অতিনিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। আর চু্ক্তিপত্র তৈরির কথা বলে জন্য প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে ৮৫০টাকা করে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় অনেক জেলে তাদের ছাগল ও বাছুর নিয়ে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সামনে উপস্থিত হয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের জেলে নুরে আলম বলেন, আমাকে যে ছাগল দেয়া হয়েছে তার বাজার মূল্য ৭-৮হাজার টাকার বেশি হবে না। কিন্তু আজ মৎস্য দপ্তরের সামনে এসে অফিসসহ অন্যান্য মারফত জানতে পারলাম আমাদের ছাগল দেয়ার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২০হাজার টাকা। তারা আমাদের সহজসরল পেয়ে ঠকিয়েছে।

এই সময়ে উপস্থিত সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য খোন্দকার মুজিবুর রহমান,সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন আলো,যুবলীগ নেতা মাসুম হোসেন জেলেদের অভিযোগ শুনে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই অসাধু কর্মকর্তাদের জন্য সরকারের বিভিন্ন কাজের বদনাম হয়। সেই সাথে দলেরও ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। আমরা আশাকরি এই দূর্নীতির সাথে যারা জরিত তাদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। আর যদি সেটা না হয় তাহলে আমরা দুদককে বিষয়টি অবহিত করবো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেণ, বকনা বাছুর যাছাইবাছাই করেই ক্রয় করা হয়েছে এখানে কোন অনিয়ম হয়নি। আর ষ্টাম্প খরচবাবদ ৩৬০ নেয়া হয়। এর বেশি যদি কারও কাছ থেকে নেয়া হয়ে থাকে তাহলে সেটা ফেরত দেয়া হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ ঘটনা স্থলে উপস্থিত ছিলেন তখন সাংবাদিকরা জানতে চাইলে বলেন অনিয়মের কথা শুনলাম জেলেদের মুখ থেকে। বকনা বাছুর ও ছাগল দেখে আমারও মনে হয়েছে দামে কিছুটা গড়মিল আছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি ও জেলেদের কাছ থেকে নেয়া টাকাটা ফেরত দিয়ে দিতে বলেন মৎস্য কর্মকর্তা কে ।