• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এজেন্টদের ঢুকতে বাধা এবং ভোটারদের ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ১২, ২০২৩, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন  এজেন্টদের ঢুকতে বাধা এবং ভোটারদের ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ :
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোট শুরুর আগেই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের কর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে না দেয়া এবং ভোটারদের ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত লাঙল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। তবে দুই একটি কেন্দ্রের বাইরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও কেন্দ্রের অভ্যন্তরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট গ্রহণ চলছে বলে জানিয়েছেন এ রিটার্নিং অফিসার মো. হুমায়ুন কবির।

বরিশাল নগরীর ৫ নং ওয়ার্ডের মতিনপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের টেবিল ঘড়ি মার্কার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপনের ৬ জন এজেন্টকে এবং জাহানারা মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রের সাতজন এজেন্টকে প্রিজাইডিং অফিসার বিভিন্ন অজুহাত উত্থাপন করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এজেন্ট জসিম উদ্দিন জানান, ভোট কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট এর কার্ডের উপর মেয়র প্রার্থীর স্বাক্ষর এবং মেয়র প্রার্থীর ছবি নেই বলে তাকে বের করে দেয়া হয়েছে। জসিমের এ অভিযোগ সম্পর্কে প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন ‘কিভাবে কেন্দ্রের ঢুকানো হবে। প্রার্থী তাকে চায় না আমরা কিভাবে তাকে এজেন্ট নিয়োগ দিব।

জাতীয় পার্টি সমর্থিত লাঙল প্রতীকে মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, ‘সকাল থেকে আমি ফোন পাচ্ছি, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের ছেলেরা রাস্তায় ভোটারদেরকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। ২২ নং ওয়ার্ডের কাজীপাড়াতে এই ঘটনা ঘটেছে। আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজিবি ও পুলিশ কমিশনারকে জানিয়েছি।

ইকবাল অভিযোগ করে বলেন, ‘কিছু কিছু কেন্দ্রে লাঙল মার্কার পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দিচ্ছে না। পাসপোর্ট সাইজের ছবি হবে না স্ট্যাম্প সাইজের ছবি লাগবে বলে অনেক পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে।

সুষ্ঠু ভোটের শঙ্কা জানিয়েছেন টেবিল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা আছে। উনারা চাচ্ছে যেন ভোটটা স্লো হয়। তাহলে উনাদের জন্য সুবিধা। তারা চাচ্ছে, শুধু আওয়ামী লীগের কর্মীরা এসে ভোট দেবে, অন্য কেউ যেন না দিতে পারে।’নগরীর ৫ নং ওয়ার্ডের তার পোলিং এজেন্ট কে বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবে ভোট সুষ্ঠু হলে তিনি ফলাফল মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে বেলা পৌনে ১১ টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম অভিযোগ করে বলেন, ২ নং ওয়ার্ডের কাউনিয়া শেরে বাংলা দিবা-নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬নং ওয়ার্ড বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ওজোপাডিকা-২ (ওয়াপদা অফিস) আমানতগঞ্জ কেন্দ্রে, ১ নং ওয়ার্ডের সৈয়দুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, ৭ নং ওয়ার্ড কাউনিয়া সেকশন রোড আসমত মাস্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেন্দ্রের বাইরে হাতপাখার ক্যাম্প ভেঙে দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রের ভেতরে হাতপাখায় ভোট দিতে বাধা দেয়া হচ্ছে। দায়িত্বরত প্রিজাইডিং ও ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়েছে। তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি বলেন, ২৬ নং ওয়ার্ডের হরিণাফুলিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে নৌকায় জোরপূর্বক ভোট দিয়ে দিচ্ছে। এ কাজ করছে স্থানীয় কাউন্সিলের মেয়ে। এছাড়া ২৫ নং ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২২নং ওয়ার্ড শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ২ নং ওয়ার্ডের এ কাদের চৌধুরী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হাতপাখার কর্মীদের মারধরের অভিযোগ করেছেন।