• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া গোপালগঞ্জে বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যুতে স্ত্রীকে উত্তরাধিকার ও প্রার্থী ঘোষণা করলেন আওয়ামী লীগ নেতা লাভলু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ১৩, ২০২৩, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া  গোপালগঞ্জে বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যুতে স্ত্রীকে উত্তরাধিকার ও প্রার্থী ঘোষণা করলেন আওয়ামী লীগ নেতা লাভলু

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক মিহির কান্তি রায় মারা যাওয়ায় তার স্ত্রীকে পরিষদের উত্তরাধিকার ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক খন্দকার মনজুরুল হক লাভলু। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় এ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

জানাগেছে, গত ১১ জুন (রবিবার) বেলা সাড়ে দশটায় সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মিহির কান্তির বাড়িতে এক শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ শোকসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক খন্দকার মনজুরুল হক লাভলু। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাবির মিয়া, বাঁশবাড়িয়া সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল মোল্যা, ননীক্ষীর সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর শেখসহ বিএনপিপন্থি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই ভিডিওতে দেখা যায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক খন্দকার মনজুরুল হক লাভলু বলেন, জলিরপাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিহির কান্তি রায় আমার অত্যান্ত কাছের মানুষ ছিলেন। তাই তার স্মৃতি ধরে রাখতে তার স্ত্রী জলিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের উত্তরাধিকার। আমি যত দিন বেঁচে আছি এই পরিবারের সমস্ত দ্বায়িত্ব আমি দেখবো। মিহিরের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। পরপারে যেনো সে ভালো থাকে।
এছাড়া তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, জলিলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিহিরের আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুর পর আমি তার পরিবারের দেখা করতে গেলে, আমি নিজেই শোকে কাতর ও আপ্লুত হই। এটা সহ্য করা কঠিন। আল্লাহ পাক মিহিরের পরিবারের সদস্যদের উপর রহমত দান করুন ও মিহিরের আত্মার শান্তি কামনা করি। আমি তার পরিবারের সাথে আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ।

এ ঘোষনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা ঝড় শুরু হয়।

এ ব্যাপারে ননীক্ষীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক শেখ রনি আহম্মেদ জানান, ইউনিয়ন পরিষদের কোন চেয়ারম্যান মারা গেলে তার স্ত্রীকে উত্তরাধিকার ঘোষনা করা যায় না। নির্বাচনের মাধ্যমে যিনি জয়ী হবেন তিনিই চেয়ারম্যান হয়ে পরিষদ চালাবেন। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য মনজুরুল হক লাভলু যেটা ঘোষনা করেছেন সেটা আইন পরিপন্থি।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হয়দার হোসেন বলেন, খন্দকার মনজুরুল হক লাভলু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য। কেউ মারা গেলে তার পরিবারকে সমবেদনা জানাতেই পারেন। কিন্তু কাউকে ইউনিয়ন পরিষদের উত্তরাধিকারী ঘোষনা দিতে পারেন না। সেই সাথে একজন বিএনপি নেতার স্ত্রীকে প্রার্থী হবার ঘোষনাও দিতে পারেন না। এটা আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ। তিনি এর আগে ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে হারানোর জন্য কাজ করেছেন। এখনও তিনি যখন এলাকায় আসেন তখন আওয়ামী লীগ বিরোধীদের সাথে চলাফেরা করেন, তাদের নানাবিধ সেল্টারও দেন। যা স্থানীয় নেতা হিসেবে আমাদেরকে বিব্রত অবস্থায় পড়তে হয়। উনি সিনিয়র নেতা, ওনার সম্মান উনিই রক্ষা করে রাজনীতি করা উচিৎ।

মুকসুদপু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান টুটুল বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য হয়েও বিএনপির কোন নেতা মারা গেলে তিনি তার অনুভ‚তি জানাতে পারেন, শোক জানাতে পারেন। কিন্তু কোন সভায় যোগ দিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন না। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগ বিব্রতবোধ করছেন। তিনি কি ভাবে বিএনপির নেতার স্ত্রীকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষনা দিয়ে আসেন। এ বিষয়টি আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জানানো হবে। এরপর সিদ্ধান্ত তিনি নিবেন।

মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল আলম সিকদার বলেন, বিএনপি নেতার স্ত্রীকে তিনি প্রার্থী হিসাবে ঘোষনা দিয়েছেন এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি এর আগেও আওয়ামী লীগের বিরোধীতা করেছেন। তিনি এলাকায় আসলে বিএনপি কর্মীদের সাথে নিয়ে চলেন। তিনি নাকি আগামী সংসদ নির্বাচেন প্রার্থী হবেন। তিনি কি বিএনপি নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচন করবেন তা আমার বোধগম্য নয়। কারন জলিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাদের নেত্রী প্রার্থী দিবেন। তিনি এর বিরোধীতা করেছে। তিনি কিভাবে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য হন এটা আমার বুঝে আসে না। আমি নেত্রীর কাছে দাবী জানাই এমন নেতাদের যেন দল থেকে বহিস্কার করা হোক।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক খন্দকার মনজুরুল হক লাভলু বলেন, মিহির কান্তি রায় আমার এলাকার একজন হিন্দু কমিউনিটির নেতা। তিনি বিএনপি বা আওয়ামী লীগ করেন সেটি কোন বিষয় না। আমি যখন ছাত্র রাজনীতি করেছি সেও তখন ছাত্র রাজনীতি করেছেন। হিন্দুদের মধ্যে তার ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। যেহেতু আমি আগামীতে সংসদ নির্বাচন করবো তাই তার বাড়ীতে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছি।

মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবদুস সালাম খান বলেন, জলিরপাড় পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিহির রায় আমাদের আগের কমিটির সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি ওই কমিটির সাধারন সম্পাদক ছিলাম। বর্তমান আহবায়ক কমিটিতে মিহির কান্তি রায় যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে জেলা কমিটি আহবায়ক শরীফ রাফিকুজ্জামান এবং এম মুনসুর আলী ২০১৯ সালের ২১ আগষ্ট অনুমোদন দিয়েছেন।

এব্যাপারে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, কোন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারমান মারা গেলে নির্বাচন না হওয়া পযর্ন্ত ওই ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান পরিষদ চালাবেন। বাইরের কেউ পরিষদ চালাতে পারেন না। এখন আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানাবো। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে জানাবে। পরে নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহনের আয়োজন করবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ২৮ নভেম্বর জলিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিভা মন্ডলকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি রাজনৈতিক জীবনে মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির য্গ্মু আহবায়ক ছিলেন। তিনি গত ৪ জুন সকালে মারা যান। #