• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্লীলতাহানির অভিযোগে বখাটেকে জুতাপেটা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ২৩, ২০২৩, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি \ পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ঘটানোর অভিযোগে গোপন সালিশ বৈঠকে বখাটেকে একশ’ জুতাপেটা করে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি শুক্রবার সকালে এলাকায় জানাজানি হওয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া এলাকার।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পানির পাম্প নষ্ট হওয়ায় ১৯ জুন স্থানীয় স্যানিটারী মিস্ত্রি খোকনকে পাম্প ঠিক করার কাজ দেয়া হয়। ওইদিন দুপুরে স্কুলে পাম্প ঠিক করতে এসে পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটায় খোকন। এসময় ছাত্রীর ডাক-চিৎকারে সহপাঠী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এগিয়ে আসলে সেখান থেকে পালিয়ে যায় খোকন।
স্থানীয় একটি সুত্র জানায়, ঘটনার পরপরই বিষয়টিকে ধামাচাঁপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় একটি প্রভাবশালী মহল। তারই অংশ হিসেবে গত বুধবার রাতে অতিগোপনে সালিশ বৈঠক ডেকে বখাটেকে একশ’ জুতাপেটা করে এলাকা থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার রায় ঘোষনা করেন সালিশরা। তবে এ রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি ভুক্তভোগি ছাত্রীর পরিবার। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সালিসের নামে প্রহসন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত খোকন ঘটনাটি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তবে সালিসে জুতাপেটার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যাই ঘটেছে সব সমাধান হয়ে গেছে। এ নিয়ে আর কথা বলতে চাই না।
সালিশকারী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. বাদল হোসেন বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই স্কুল ছাত্রীর পরিবারকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিলো। কিন্তু তারা অভিযোগ না দিয়ে স্থানীয় ভাবে বিষয়টি সমাধান করে দিতে বলায় উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে সালিশ বৈঠক করা হয়েছে। সালিসের সর্বসম্মতিতে অভিযুক্তকে তাঁর চাচা একশ’ জুতাপেটা করেছেন এবং একদিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা মীমাংসা করা অপরাধ, কেন আইনের কাছে সোপর্দ করলেন না জানতে চাইলে বাদল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ দিতে রাজি না হওয়ায় এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সালিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কাউকে জোর করা হয়নি। গৌরনদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম বলেন, বিষয়টি আমাকে বিদ্যালয় থেকে জানানো হয়নি। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।