• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে ঈদ আনন্দে দুর্ধর্ষ চুরি-ছিনতাইয়ের হানা ক্ষতিগ্রস্তের অভিযোগ নিচ্ছেনা ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ২৪, ২০২৩, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
পটুয়াখালীতে ঈদ আনন্দে দুর্ধর্ষ চুরি-ছিনতাইয়ের হানা  ক্ষতিগ্রস্তের অভিযোগ নিচ্ছেনা ওসি

পটুয়াখালী॥
পটুয়াখালীতে আসান্য ঈদুল আযহাকে র্টাগেট করে একের পর এক ঘটছে দুর্ধর্ষ চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা। দিনের বেলা প্রকাশ্যে সংগঠিত এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন ও আতংকিত হচ্ছে শহরবাসী। এসব চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িত চক্রের বিচ্ছিন্ন ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছরিয়ে পরেছে। এসকল ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং থানা পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ গ্রহন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। থানায় অভিযোগ করতে গেলে সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান নানা ছল-ছুতোয় তাদের ফিরিয়ে দেন বলে দাবি তাদের। চুরি-ছিতাইয়ের ঘটনায় কেনো অভিযোগ নেয়া হচ্ছেনা, ওসি মনিরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগটি কেটে দেন।

জানা গেছে-গত ১৯ জুন বিকাল ৫টায় মুসলীমপাড়া রোডস্ত পৌর শহরের আদর্শ স্কুলের শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিন খানের বাসভবনের গেটের তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে আলমিরা ভেঙ্গে ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা স্বর্নালঙ্কার ও নগদ ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা ডাকাতি করে সঙ্গবদ্ধ একটি চক্র। এঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ থানায় অভিযোগ দিলে অভিযোগ নেয়নি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন-ওইদিন ৬ যুবক তার ঘরের ঢুকে অর্থ-সম্পদ লুট করেন। একই দিন সন্ধ্যায় কলাপাড়া থেকে পটুয়াখালী হাসপাতালে আসা খলিল ফকির(৩৫)কে হাসপাতালের দক্ষিন গেটে দুই যুবক অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৭ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেন।

গত ২০ জুন রাত ৮টায় ব্লু রঙের পালসার মটরসাইকেলটি মুক্তিরমোর সংলগ্ন স্বপ্ন শপিংমলে সামনে শিক্ষার্থী আজমির হোসেন হিমেলের পালসার মটরসাইকেলটি নিয়ে যান চোরচক্র। এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে ওসি প্রচলিত নিয়মে অভিযোগ নেয়নি। গত ১৯ জুন রাতে বাঁধঘাট এলাকার একটি মোবাইলের দোকান ভেঙ্গে ২৫ থেকে ৩০টি মোবাইল এবং নগদ ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা লুটে নেন। এঘটনায় দোকান মালিক জিহাদুল ইসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহন করেনি ওসি মনিরুজ্জামান।

জানা গেছে-গত ১৯ জুনর রাতে শহরের জলের কল সড়কে অবসর প্রাপ্ত কর অফিসার মাহাবুবুর রহমানের বাসার পেছনের গ্রিল ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে আলমিরা অর্থ-সম্পদ লুটের ঘটনা ঘটে। একই দিনে শিমুলবাগের ভাড়াটিয়া বাসিন্দা আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিজানুর রহমানের বাসার তালা ভেঙ্গে দূধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগে ১৬ জুন সাহাপাড়ার প্রবীন আইনজীবী (জাসদ) কালামের মহড়ি সন্তোষ কুমার বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। হেতালিয়া বাধঘাটে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এরকম অসংখ্য চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ অথবা আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

এ প্রসঙ্গে অ্যাডিশনাল এসপি সদর সার্কেল সাজেদুর ইসলাম বলেন-অভিযোগ না নেয়ার কোন কারন নেই। তবে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধিদের আইনের আওতায় আনতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করেন পুলিশ। এসব ঘটনায় আমি নিজে মাঠে কাজ করছি। ##