• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দাবি রেখে গেলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ২৭, ২০২৩, ০৮:০২ পূর্বাহ্ণ
দাবি রেখে গেলাম

প্রতিবছর তোমার কালো চাদর আবৃত ঘরের আঙ্গিনায়
যারা ছুটে যায় নেকীর সন্ধানে,
তাদের সারিতে আমার সহজলভ্য নামখানা লেখা না থাক,
লেখা না থাক আবে জমজমের পানির বোতল
আর খুরমা-খেজুর নিয়ে যারা মিলিত হয়,
হজ্জ পরবর্তী পুনর্মিলনে তাদের জমায়েতে।
তবু যে হত দরিদ্র কৃষকের মাটির কুঁড়ে থেকে,
মাঝরাতে শোনা যায় আত্মসমর্পণের কান্নার আওয়াজ,
হয়তো মাটির পিদিম তার নিভু নিভু,
হয়তো পিদিম নিভে গেছে কেরোসিনের অভাবে।
তবুও তার আবদারের পসরা,
তারকাগুচ্ছের মত আলোকিত হয়ে,
যদি পৌঁছে যায় তোমার হৃদয় সিংহাসনে,
যদি অসম্ভব মমতার উষ্ণতায় বিগলিত হয়ে যায়,
তোমার রহমের জমাট বরফ,
তবে সেই হতদরিদ্র চাষাদের তালিকায়,
আমার সহজলভ্য নামখানা লিপিবদ্ধ করার,
দাবি রেখে গেলাম।
পৃথিবীর মিলনায়তনে সে চাষার মূল্যহীন নামখানা,
উচ্চারিত হবে না হয়তো,
তবে ফেরেশতাদের মিলনায়তনে,
তার নাম উচ্চারিত হয় সসম্মানে,
তা আমি জানি।
আমার হৃদয়ে যে কাবার আসন,
তা এই বিশ্বলোকে নেই।
পিতা ইব্রাহিমের সাথে বায়তুল মামুর তাওয়াফ করার,
দাবি রেখে গেলাম।
পিতা-কন্যার সেই সম্মিলিত তাওয়াফে,
যদি ফুল ফোটে শহীদি ঈদগাহে,
যদি গান গেয়ে ওঠে বেহেশতি বুলবুল,
তবে সেই কবুলিয়তের তালিকায়,
আমার মতো গুটিকতক উচ্চাকাঙ্ক্ষীর নাম,
লিপিবদ্ধ করার অসম্ভব দাবি রেখে গেলাম।
এ দাবি কাবার দ্বারে পৌঁছাবে কিনা আমি জানিনা,
তবে আমাদের হজ্জ হোক বায়তুল মামুর,
আমাদের হজ্জ হোক পিতার সাথে।

শেখ ফাহমিদা নাজনীন