আসাদুল ইসলাম, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বলরাম গ্রাম থেকে নিখোঁজ খন্দকার সোয়ায়েব আলমগীর সীনের (১২) খোঁজে থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।সীনের বাবার নাম বাদশা আলমগীর ও মাতার নাম মরিয়ম বেগম শিরিনা। সীন কুড়িগ্রাম জেলাধীন উলিপুর উপজেলার দারুল এহসান মডেল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গতকাল রোববার সকাল ১১ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম আজমিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, এর আগে গত শনিবার রাতে নিখোঁজ ছেলেটির নানা মো. মোফাজ্জল হোসেন থানায় এসে এ ডায়েরী করেন। ডায়েরী পাওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে পুলিশ ব্যাপক তৎপর আছে বলেও জানান ওসি।’
সাধারণ ডায়েরীতে উল্লেখ আছে, গত ৩০ জুন শুক্রবার সন্ধা সাড়ে ৭ টার দিকে বলরাম এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ছেলেটি। তাঁর চুল ছোট-বড়, মুখের আকৃতি গোলাকার, গায়ের রঙ্গ শ্যামলা, উচ্চতা ৪ ফিট ও ওজন ৪০ কেজি।
মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ দেখা ও কথা হয় নিখোঁজের দিন আছরের নামাযের পর। মসজিদ থেকে নামাজ আদায় করে বাড়িতে ফিরলে। এরপর খেলার কথা বলে বের হয়ে যায়। মাগরিবের নামাজের পরে বাড়িতে না ফিরলে ছেলের নানা-নানীকে খোঁজ নিতে বলি। তখন তাঁরা বলেন হয়তো আছে কোথাও। টেনশন নিয়ো না। দেখো একটু পরেই হয়তো এসে যাবে। কিন্তু সে তো আসছে না। না দেখতে পাচ্ছি ছেলেকে না পারছি তাঁর সাথে কথা বলতে। বলতে বলতে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন এবং অচেতন হয়ে যান মা মরিয়ম বেগম।’
নিখোঁজ ছেলের নানা মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘মেয়ে জামাইর বাড়ি পাশ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায়। ঈদের আগের দিন নাতিকে মেয়ের বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছি। মেয়ে এসেছে ঈদের পরের দিন। সেদিনই সন্ধার পর থেকেই নাতিকে আর খুঁজে পাচ্ছি না। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে প্রায় পাগল এখন আমার মেয়েটা। কি যে বলে ওকে শান্তনা দিবো। ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না বলতেই চোখের কোণে জমে থাকা জল মাটিতে গড়িয়ে পরে।’