• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ, শ্লীলতাহানির মিথ্যা মামলায় হয়রানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুলাই ২৮, ২০২৩, ১৩:১৪ অপরাহ্ণ
সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ, শ্লীলতাহানির মিথ্যা মামলায় হয়রানি

আসাদুল ইসলাম, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দোকান লুটপাট, গুরুতর জখম, চুরি ও শ্লীলতাহানির মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা গ্ৰামের গোলাম মোস্তফা গংদের সাথে একই গ্রামের রফিজল মিয়া অপু গংয়ের জমিজমা নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে দোকান লুট-পাট গুরুতর জখমসহ পুত্রবধূ শিলা বেগমকে শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন রফিজল মিয়া।

পরবর্তীতে ২৬ জুলাই এ মামলায় জামিন নিতে আদালতে হাজির হলে মোনারুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। অথচ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মারামারির সময় মোনারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেন স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোলাম মোস্তফার বাবা শফিকুল ইসলামের সাথে রফিজল মিয়ার জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর‌ই জেরে ১৭ জুলাই দেশীয় অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রফিজল হক অপু তার লোকজনসহ শফিকুল ইসলামের ভোগ দখলীয় জমি জবর দখলের উদ্দেশ্যে অনধিকার প্রবেশ করেন। এসময় শফিকুল ইসলাম গং বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে শফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। এঘটনায় উভয়পক্ষ থানায় মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, জমি নিয়ে মারামারির বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে দোকান লুট-পাট গুরুতর জখমসহ পুত্রবধূ শিলা বেগমকে শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ এনে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার ৩ নম্বর আসামি মোনারুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন আসামি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও তাদের নামে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন শফিকুল ইসলাম গং।

মোনারুল ইসলামের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, মারামারির সময় আমার স্বামী ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও মিথ্যা মামলায় আসামি হয়ে জেলখানায় বন্দি আছে। বাচ্চারা সারাদিন কান্নাকাটি করছে৷ যারা মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার স্বামীকে জেলখানায় পাঠিয়েছে তাদের বিচার চাই।

রফিজল মিয়ার পুত্রবধূ শিলা বেগম বলেন, মারামারির দিন কেউ আমাকে ধারালো অস্ত্র আঘাত করেনি। আমি হাসপাতালেও ছিলাম না।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজমিরুজ্জামান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধে দুই পক্ষের মারামারি হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। পরে উভয়পক্ষই পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলা দুটি অধিকতর তদন্ত করে আদালতে চার্জশীট দেওয়া হবে।