নাফিজ আহমেদ,,
সুখের সংসারে আনন্দের
প্রদীপ জ্বালিয়ে, দুঃখ নিয়ে
পৃথিবীর মুখ দেখল আবির।
পাঁচ বছর যেতে না যেতেই,
যেকোন বিষয় নিয়ে
সংসারে ফাটল ধরে পরিবারে।
এমনকি ডিভোর্সও হয়ে যায় মা-বাবার।
আবিরকে বাবা রেখে,
মাকে তাড়িয়ে দেয়।
মা ইচ্ছা করলেও তার
সন্তানকে নিজে কোলে
নিতে পারেনি কখনো ।
বাবা সেই সুযোগ দেয়নি।
দুর থেকে নিজের সন্তানকে
দেখে মা শান্তানা নিতেন।
কিন্তু বেশিদিন এই সুখ
থাকলো না তার কপালে।
বাবা ছেলেকে নিয়ে অনেক
দূরে কোন এক অচেনা
শহড়ে চলে গেল।
এ দিকে মা হ’য়ে গেল একা।
একদিন একদিন করে
পার হয়ে গেল চব্বিশটা বছর।
হঠাৎ কোন একদিন
নিজের ছেলের ছবি
দেখে চিনে নেয় মা।
হ্যাঁ এটাই মা ।
সন্তানের কাছে চলে আসে মা,
কিন্তু সন্তান সেটা
মেনে নিতে পারে নাই।
কেননা, সন্তান জানত যে
তার মা তাকে এবং তার বাবাকে
ছেড়ে চলে গেছে বহু দূরে।
মা এতকরে বলা সত্বেও,
সন্তান কখনো বিশ্বাস করেনি।
সব সময় মাকে কষ্ট দিয়ে গেছে।
এমনকি মা সন্তানের বাড়ি
থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
হঠাৎ একদিন সন্তানের
কাছে ফোন আসে যে,
তার মা খুবই অসুস্থ।
হয়তো আর বাঁচবে না বেশিদিন।
সন্তান তখনো নিজের মধ্যে
পুষে রাখা অভিমান ধরে রেখেছে।
পরে সে, সময়ের শাসন মেনে
মায়ের সাথে দেখা করতে যায়।
অবশেষে নিল আকাশটা
অন্ধকারছন্ন করে মা চলে গেল
সকলকে ছেড়ে প্রকৃতির
ডাকে সারা দিয়ে।
সন্তান দেখল যে,
তার মা আর এই পৃথিবীতে নেই।
পরবর্তীতে সন্তান জানতে পারে যে
তার মা তাকে ইচ্ছা
করে ছেড়ে দেয়নি।
এবং সে এটাও জানল যে
তার বাবা কখনো তার মাকে
নিজের কাছে আসতে দেয়নি।
আজ সন্তান হাজার চাইলেও
নিজের মাকে কখনো
নিজের কাছে ফিরে পাবে না।
সে অবগত হলো,
মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তার মা
বার বার নিজের সন্তানের
মুখে দুই যুগ পর মা
ডাকটা শুনতে চাচ্ছিল।
হতভাগা সন্তান তার
মায়ের কাছে আসল না।
এক দুঃখীনি মা চব্বিশ বছর
পর নিজের সন্তানের মুখ থেকে
একবার মা ডাক শুনতে চাইল।
তবুই সন্তান অভিমানে ডাকল না।
আজ সন্তানের কাছে সব আছে
কিন্তু সেই মা আর তার কাছে নাই।