• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গৌরনদীতে উন্নয়নের ছোয়ায় বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ দৃশ্যপট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৩, ০৯:১১ পূর্বাহ্ণ
গৌরনদীতে উন্নয়নের ছোয়ায় বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ দৃশ্যপট

হাসান মাহমুদ \ দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদার বরিশালের গৌরনদীতে বর্তমান সরকারের পনের বছরে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয়েছে। শুধুমাত্র উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের মাধ্যমেই বিগত পনের বছরে গৌরনদীতে কমপক্ষে আটশ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সেতু, কালভাট নির্মান, খাল ও পুকুর খনন, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ কমপেক্স, গ্রোথ সেন্টার ও হাট-বাজার, প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র, স্কুল-কলেজের ভবন, কৃষি ভবন, আনসার ভিডিপি ভবন, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সাইক্লোন শেল্টার, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য বসতঘর নির্মান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এবং অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীর নিবাস নির্মান ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সমূহের সংরক্ষনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে উন্নয়নের ছোঁয়ায় গৌরনদী উপজেলার গ্রামীণ জনপদের দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করেছে।
গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলু জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দুরদর্শী পরিকল্পনায় জাতির পিতার ভাগ্নে, মন্ত্রী পদমর্যাদায় থাকা সাবেক চীফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উপজেলার সাত ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রামীণ মাটির রাস্তাকে পাকাকরণ সহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। ফলশ্রæতিতে উন্নয়নের দিক থেকে এক সময়ের পিছিয়ে পরা গৌরনদীর দুর্গম এলাকাগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি তরান্বিত হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. অহিদুর রহমান জানান, ২০০৯ সালে এ উপজেলায় পাকা সড়ক ছিলো ৪০ কিলোমিটার। যা বর্তমান সময়ে এসে দাড়িয়েছে দুইশ’ কিলোমিটার। এছাড়াও গ্রামীণ এলাকার কয়েকটি মাটির রাস্তা পাকাকরনের উদ্বোধন করা হয়েছে। একশ’ কিলোমিটার সড়ক রক্ষনাবেক্ষনের পাশাপাশি তিনশ’ মিটার সেতু, কালভার্ট নির্মিত হয়েছে। আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর ৬২০ মিটারের বৃহত সেতু নির্মানের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, বিগত পনের বছরের মধ্যে নতুন করে একটি উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, দুইটি গ্রোথ সেন্টার, আটটি সাইক্লোন শেল্টার, একশ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ৭০ হেক্টর ও ৩০ কিলোমিটার খাল খনন, ১৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মান, একটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এবং ১৩টি অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা নির্বাস তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ উপজেলায় কমপক্ষে আটশ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। বিগত পনের বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিবি) মাধ্যমে এ উপজেলায় দশ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব জানান, আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ উপজেলায় ৭৪১ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ বসতঘর দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৪৩টি ব্রীজ-কালভার্ট এবং ১৫ কিলোমিটার ইট সলিং নির্মানের পাশাপাশি গত পনের বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু আবদুল্লাহ খান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী প্রত্যন্ত পল্লী অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজিকরণের জন্য পল্লী এলাকার সড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে। যার সুফল পেতে শুরু করেছে পল্লী জনপদের বাসিন্দারা। তিনি আরও বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বসতঘর নির্মানের ফলে ভূমিহীন ও গৃহহীনরা মাথা গোজার ঠাই পেয়েছে। এতে করে গ্রামীণ এলাকার একটি বৃহত জনগোষ্টীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে।