• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুরঞ্জনার কাশবনে শরৎ উৎসব, প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৩, ১৪:১১ অপরাহ্ণ
সুরঞ্জনার কাশবনে শরৎ উৎসব, প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি :
হঠাৎ কালো মেঘে বরষা আবার কোথাও নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর কাশফুলের শুভ্রতা জানান দিচ্ছে প্রকৃতিতে উৎসবের ঋতু শরতের বারতা। ভাদ্র ও আশ্বিন এ দুই মাস শরতের যৌবন, পর্যটন মৌসুম। বিভিন্ন উৎসবের আগমনী বারতা নিয়ে আসা এমন শরতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ পর্যটন সম্ভাবনাময় জেলা বরগুনায় প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে মাসব্যাপী শরৎ উৎসব।

বিশ্ব পর্যটন দিবসকে সামনে রেখে পর্যটনের অমিত সম্ভাবনাময় উপকূলীয় জেলা বরগুনায় জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সহযোগিতায় এবং সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম এন্ড রিসোর্টের আয়োজনে এ উৎসব শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে বহমান বিষখালী আর খাকদোন নদীর মিলনস্থলে গড়ে তোলা সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম এন্ড রিসোর্টে শরৎ উৎসবের উদ্বোধন করেন বরগুনার জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম। এসময় জেলার পর্যটন শিল্প বিকাশে নানা পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আর পর্যটকদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার আবদুস সালাম।

আয়োজকরা জানান,
বন-বনানীর কোলের এ পর্যটনকেন্দ্রটিতে গ্রামীণ সংস্কৃতির হারিয়ে যাওয়া বধূ উৎসব, ইলিশ উৎসব, পিঠা উৎসব, পুঁথি পাঠ উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, জোছনা উৎসব এবং ফানুস উৎসব সহ ব্যতিক্রমী নানা আয়োজন করা হয়েছে এ উৎসবে।

সুরঞ্জনার কাশবনে ব্যতিক্রমী এই শরৎ উৎসবের প্রথম দিনেই প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল নেমেছে। সেখানে ঘুরতে আসা ইমা বলেন, প্রকৃতির মাঝে এমন উৎসব সত্যি মন জুড়িয়ে দেয়। সব মিলিয়ে এমন উদ্যোগে উচ্ছাসিত সবাই।

স্থানীয় প্রকৃতি প্রেমিক আতিক রহমান বলেন, এখানে এসে সত্যি প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গিলাম। আর সাদা কাশ ফুলের মধ্যে শরতের এমন ব্যতিক্রমী উৎসবে মেতেছি আমরা সবাই।

জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান বলেন, পদ্মাসেতু উদ্বোধনের পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে পর্যটকদের পদচারণা। জেলার পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ।

সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম এন্ড রিসোর্টের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ বলেন, একসময় বরগুনায় দেশের বৃহত্তম ইলিশ উৎসবের পাশাপাশি জোসনা উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও করোনার ধাক্কায় তা বন্ধ হয়ে যায়। শরৎ উৎসবের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়া সকল উৎসব পুনরায় চালুর পাশাপাশি উৎসবের জেলা হিসেবে খ্যাতি পাবে বরগুনা। এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় পর্যটক উদ্যোক্তাসহ স্থানীয় সকলের।