• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পৌঁছে দিতেই হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৩, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ
পৌঁছে দিতেই হবে

শেখ ফাহমিদা নাজনীন পিয়া

তাদের ভ্রুযুগল কুঞ্চিত হলো,
মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে উঠল বিরক্তিতে,
অতঃপর মুখ ফিরিয়ে নিল,
এবং ঔদ্ধত্য ভঙ্গিতে প্রস্থান করল।
তারা, দেশের সর্বাপেক্ষা ক্ষমতাশালী এক দল লোক,
যাদের আঙ্গুলী হেলনে গোটা আরব ভূখণ্ড চালিত হতো,
বাঘে-মহিষে পানি খেতো এক ঘাটে,
যেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তকেও থামিয়ে দিতে চাইতো তারা,
ক্রুদ্ধ ইশারায়।
একজন যুবক!
একমাত্র আলোকবর্তিকা!
সসম্মানে মাথা তুলে দাঁড়ালো সেই দর্পধারীদের সম্মুখে।
ঘোষণা করল,
লা-শরিক আল্লাহর সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী অবশ্যম্ভাবী বাণী।
বলল,
কল্যাণের পথে এসো,
শান্তির পথে এসো।
আগুন জ্বলে উঠলো কুশপুত্তলিকার গাত্রে,
কেঁপে উঠল লাত, মানাত, উজ্জা,
কেঁপে উঠলো কাবা ঘরে সংরক্ষিত তিনশ ষাটটি পাথরের মূর্তি।
ইবলিশের টনক নড়লো,
পূব থেকে পশ্চিমে,
সহস্র বছরের জমে থাকা জাহেলিয়াতের জঞ্জাল,
ধ্বসে পড়তে শুরু করল।
তারা ক্রুদ্ধ ভঙ্গিতে যখন ফিরে গেল,
তখনো নিরাশ হয়নি যুবকটি,
সে জানতো,
ভোরের সূর্যরশ্মিতে প্যাঁচার চোখ জ্বালা করবেই,
তাই বলে সূর্য কি থেমে যাবে আলো ছড়াতে?
যুবকটি সামনে এগিয়ে গেল,
আরো কিছু মানুষের কাছে,
যারা এখনো রাত্রির অমানিশায় ডুবে আছে।
অথচ কতিপয় নিশাচর জীব,
তাদের হিংস্র দাঁত ও নখরে ক্ষতবিক্ষত করতে চাইলে তাঁকে।
যুবকটি ছুটে গেল অন্য শহরে,
আরো কিছু আঁধারে নিমজ্জিত মানুষের কাছে,
তারা ক্ষতবিক্ষত করে দিল তাঁর ছুটে চলা দুটি পা।
রক্ত যখন গড়িয়ে পড়ছে তাঁর পা বেয়ে,
তখনও সে আশার বাতি জ্বালিয়ে রেখেছে।
তায়েফের নগর প্রান্তরে তাঁর কাতর আর্তি,
প্রভু হে, এই নির্বোধদের তুমি শাস্তি দিওনা,
হয়তো আজ হেরার রশ্মির তীব্রতা
তাদের পেঁচক চোখ সইতে পারছে না,
কিন্তু একদিন,
তাদের বংশধরেরা নিশ্চয়ই অবগাহন করবে,
এই আলোকিত ঝর্ণাধারায়।
অতঃপর উঠে দাঁড়ালো সেই আলোকধারী,
ছুটে চলল ইয়াসরিবের পানে,
ইয়াসরিবকে যে তাঁর মদিনাতুন্নবী করতেই হবে।
তুমি, আমি, আমরা,
সেই আলোকবর্তিকার জীবন্ত প্রতিনিধি।
আমাদের ছুটতে হবে,
ছুটতে হবে এই সত্যের অনুপ্রভা মস্তিষ্কে ধারণ করে,
এই সত্যকে সর্বাঙ্গ দিয়ে বহন করে,
আমাদের পৌঁছাতে হবে,
পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট সহজলভ্য জনপদ থেকে শুরু করে,
সর্বাপেক্ষা দুর্গম জনপদে।
তাওহীদের অমীয় বাণী আমাদের পৌঁছে দিতেই হবে,
এ আমাদের অঙ্গীকার,
অঙ্গীকার সর্বশেষ আলোকবর্তিকার কাছে।