• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গোপালগঞ্জ-০১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৮, ২০২৩, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গোপালগঞ্জ-০১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ-০১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানীর একাংশ) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ ফারুক খানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: কাবির মিয়ার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বুববার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে মুকসুদপুর উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের নওহাটা বাজারে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: রবিউল আলম সিকদারকে মোবাইলে বারবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান টুটুলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককের সাথে নয়। রাস্তা দিয়ে চলার পথে গাড়ি ও মোটরসাইকেল ক্রচিং নিয়ে তর্কাতর্কিতে এ সামন্য ঘটনা ঘটে।

হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর তিনজন সমর্থক আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের নওহাটা গ্রামের নুর আলম শেখ, তার ভাগনে মুহিদ ও ভাতিজা রাব্বি শেখ। তাঁদের মধ্যে নুর আলমকে হাতুড়ি পেটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ নুর আলমের। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখন সে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী নুর আলম শেখ বলেন, গতকাল বিকেলে মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: রবিউল ইসলাম সিকদার মোচনা ইউনিয়নের নওহাটা বাজারে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের নির্বাচনী সভা করছিলেন। গোপালগঞ্জ-০১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: কাবির মিয়াকে সমর্থন করায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুহাম্মদ ফারুক খানের সমর্থকরা আমার উপর হামলা করেছে। এর আগেও একাধিকবার স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থকদের হামলা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গতকাল বিকেল চারটার দিকে নুর আলম শেখ মাদারীপুর উপজেলার টেকেরহাট থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। মুকসুদপুর উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের নওহাটা বাজারে পৌঁছালে রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং নুর আলমের মোটরসাইকেল রোধ করে। পরে তাকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামায় বাবলু শেখ ও লায়েক শেখ। পরে ২০-২৫ জন তাকে হামলা করলে আমি অচেতন হয়ে যায়। এসময় কয়েকজন তাকে হাতুড়ি পেটা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: কাবির মিয়া বলেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ ফারুক খানের লোকজন গতকাল আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: রবিউল আলম সিকদারের সামনে এ হামলা করা হলো। তাহলে এ হামলা কার নির্দেশে করা হলো? এর আগে আমার কর্মী- সমর্থকদের হামলা করেছে। হামলাকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান টুটুল ও তার ছেলে ফয়েজ, মোচানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমদাদ, আলিম মোল্লা (বর্তমান শরীয়তপুরের গোসাইহাট পৌরসভার সচিব)। আমার প্রচারে কর্মীদের বাঁধা, পোস্টার ছিড়ে ফেলছে। আমি এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেছি।

তিনি আরো বলেন, মোচনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমদাদ মোল্লার হাতুড়ি বাহিনী দিয়ে হামলা করে। তার হাতুড়ি বাহিনীর প্রধান মোচনা ইউনিয়নের ৬ নম্বার ওয়ার্ড সভাপতির হিরু শেখে ছেলে বাবলু শেখ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোচনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইমদাদ মোল্লা বলেন, আমি বর্তমান ঢাকাতে আছি। আমি কোন ব্যক্তিকে হামলার করতে বলিনি। তাছাড়া আমার কোন বাহিনী নেই।

এ বিষয় জানতে মুকসুদপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: রবিউল সিকদারের মোবাইল ফোন বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে মোবাইল ফোনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান টুটুল জানান, আমরা সবাই মিলে মিশে কাজ করছি। এখানে কোন ঝামেলা নেই। এখানে ভোটাররা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। আর গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে সেটা আমি মোবাইলে জানতে পেরেছি। ওই সড়ক দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের গাড়ি যাচ্ছিলো এ নিয়ে একজনে সাথে একটু ঝামেলা হয়েছে এটা নির্বাচন কেন্দ্রীক নয়।

মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আশরাফুল আলম বলেন, গতকাল মারপিটের ঘটনায় নুর আলম শেখ বাদি হয়ে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামী পলাতক থাকার কারনে প্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামী গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যহত আছে।

উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী একাংশ নিয়ে গোপালগঞ্জ-০১ আসন (সংসদীয় আসন-২১৫)। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রেসিডিয়াম সদস্য মুহাম্মাদ ফারুক খান। তিনি বিগত পাঁচ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন। কিন্তু এবছর সমীকরণ একটু উল্টো দিকে। এবছর মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান মো: কাবির মিয়া। এ আসন প্রার্থী রয়েছেন আরো ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী। #