ষ্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে (মুকসুদপুর কাশিয়ানী) ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঈগল প্রতীতকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: কাবির মিয়া।
আজ সোমবার (৮ জানুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৫টায় মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের নিজ নির্বাচনী কায্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সময় তিনি ভোটারদের আঙুলের ছাপ পরীক্ষা ও ভোট পুনঃগণনার জন্য নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এরপর মুকসুদপুর উপজেলার মুকসুদপুর-বরইতলা সড়কের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা।
সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: কাবির মিয়া বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের মুহাম্মদ ফারুক খানের কর্মী সমর্থকরা কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়। এরপর তারা ওই সব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অবস্থান করে জাল ভোট দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে প্রশাসন ও নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বরং জাল ভোটারদের আটকের পর আবার তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পরও জনগণ আমাকে মুকসুদপুরের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেছিল। নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এবারো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করি। আমার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন এসব নিয়ম ও কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে বলে আমি মনে করি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: কাবির মিয়া আরো বলেন, কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়ার ফলে প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে তারা রেজাল্ট সিট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়। নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে সূক্ষ্ম কারচুপি করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়াও মুহাম্মদ ফারুক খানের লোকজন বিভিন্ন স্থানে তার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা, বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করেছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যহতি দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সাধারণ মানুষ আমার পক্ষে থাকায় নির্বাচনে আমি জয়লাভ করবো। কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুহাম্মদ ফারুক খান পেশী শক্তি ও টাকার বিনিময়ে প্রভাব বিস্তার করে।
এ সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট মো. ইকবাল মিয়া, মো. কাবির মিয়ার মেয়ে তানিমা মাহনুরসহ কয়েক হাজার কর্মী সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, গোপালগঞ্জ-১ আসনের ভোট কারচুপি ও নির্বাচনী ফলাফল বাতিল করে ভোট পুন:গ্রহনের দাবীতে মানববন্ধন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: কাবির মিয়ার সমর্থকেরা। কমলাপুর এলাকার মুকসুদপুর-বড়ইতলা সড়কের উপর দাঁড়িয়ে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী করে তারা। এসময় তারা ‘ভোট চোর ভোট চোর, ফারুক খান ভোট চোর’ প্রহসনের নির্বাচন মানি না মানবো না, নির্বাচন চাই নির্বাচন চাই পুনরায় নির্বাচন চাই’সহ বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দেয় ।
প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মুহাম্মদ ফারুক খান ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর তিনি পান ১ লাখ ৮ হাজার ৯৩৪ ভোট। #