বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ২০২৪ এ ১০৯ বরগুনা-১ আসনে বেআইনি ভাবে ভোট গণনা ফলাফল বীবরণী প্রস্তুত ও একত্রিকরণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
মঙ্গলবার (৯জানুয়ারি) বরগুনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহা. রফিকুল ইসলাম বরাবর এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
লিখিত আভিযোগে বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৪ এ ১০৯- বরগুনা-০১ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করি। বিগত ৭ জানুয়ারি-২০২৪খ্রি. ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গণনা, ফলাফল প্রস্তুত ও একত্রিকরণ প্রক্রিয়ায় বেআইনীভাবে বরগুনা সদর উপজেলার ০৯ নম্বর বরগুনা সরকারী কলেজ ভোট কেন্দ্রে, ৪৩ নম্বর আঙ্গারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৫২ নম্বর রায়েরতবক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৫৫ নম্বর হাজারবিঘা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৫৭ নম্বর কামড়াবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৯৩ নম্বর গাজী মাহামুদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে। ৫৩ নম্বর মানিকখালী বড় লবনগোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৬৯ নম্বর নলী চরকগাছিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৩ নম্বর বরগুনা সরকারী মহিলা কলেজ ভোট কেন্দ্রে, ৫৬ নম্বর ছোট লবনগোলা হাজারবিঘা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৭৮ নম্বর মধ্য পাঠাকাটা সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৪৭ নম্বর লেমুয়া স্বতন্ত্রী ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে, ৩৮ নম্বর পশুয়া সরকারী প্রাথমিক
বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৭১ নম্বর নং দক্ষিণ বাঁশবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৫১ নম্বর পূর্ব কেওড়াবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে, ১২ নম্বর বাওয়ালকর ডিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসারগণ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়ালে উল্লেখিত দায়িত্ব সমূহ যথাযথভাবে পালন না করে নৌকা প্রতীকের পক্ষে উপস্থিত পোলিং এজেন্টদের জোর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ভোট গণনায় ব্যাপক অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্তের মাধ্যমে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করে ঈগল প্রতীকের প্রর্থীকে বিজয়ী করার গভীর ষড়যন্ত্র লিপ্ত হন। প্রস্তুতকৃত জতীয় সংসদ নির্বাচন ভোট গণনার বিবরনীতে নৌকা মার্কার প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টের স্বাক্ষর গ্রহণ না করে পক্ষপাতমূলক ও বেআইনী ফলাফল প্রস্তুত করা হয়। উক্ত ফলাফলের বিরুদ্ধে নৌকা মার্কার সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এজেন্ট এর প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারগণ তাদের আপত্তি আমলে না নিয়ে ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ভোট গননার বিবরনী প্রস্তুত করেন, যা কিনা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৩৬ অনুচ্ছেদের (১৩) দফার বিধান সরাসরি অমান্য করা হয়।
প্রমাণ স্বরূপ-০৯ নম্বর বরগুনা সরকারী কলেজ ভোট কেন্দে, ৫৭ নম্বর কামড়াবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র, ৯৩ নম্বর গাজী মাহামুদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৫২ নম্বর রায়েরতবক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ৬৯ নং নলী চরকগাছিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৪৩ নং আঙ্গারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৫৫ নং হাজারবিঘা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৭৮ নম্বর মধ্য পাঠাকাটা সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ৫৬ নম্বর ছোট লবনগোলা হাজারবিঘা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে, ১২ নম্বর নং বাওয়ালকর ডিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ফরম-১৬ এ ৫৩ নং মানিকখালী বড়লবন গোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ভোট গণনার বিবরণীতে নৌকা প্রার্থীর উপস্থিত এজেন্ট এর স্বাক্ষর নহে। ৩ নম্বর বরগুনা সরকারী মহিলা কলেজ ভোট কেন্দ্রের ভোট গণনার বিবরণী প্রিজাইডিং অফিসারের সীল বিহীন ভোট গণনার বিবরনী।
৪৭ নম্বর লেমুয়া স্বতন্ত্রী ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে ও ৩৮ নম্বর পশুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এবং ৫১ নম্বর পূর্ব কেওড়াবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে ভোট কেন্দ্রের ভোট গণনার বিবরনীতে নির্বাচনী এজেন্টদের স্বাক্ষরে গড়মিল। ৭১ নম্বর দক্ষিন বাঁশবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ভোট গননার বিবর ৩/১৯ নির্বাচনী এজেন্টদের স্বাক্ষর একিহাতে লেখা দৃষ্ঠ হয়।
যেহেতু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৪ এ ১০৯, বরগুনা-০১ আসনে নির্বাচনী ফলাফল নৌকা প্রতীকের উপস্থিত এজেন্টদের জোর আপত্তি উপেক্ষা করে আইন সংগত ভাবে প্রস্তুত না করায় ফলাফলে ব্যাপক কারচুপি, অনিয়ম ও বেআইনী কর্যকলাপ দৃষ্ঠ হয়। উক্ত ফলাফলে নৌকা প্রতীকের এবং ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর ফলাফলে ব্যাপক তারতম্যের মাধ্যমে ঈগল প্রতিকের ভোট বেশি দেখানো হয়। যার প্রেক্ষিতে নৌকা প্রতীকের সুনিশ্চত বিজয় কেড়ে নেয়া হয়, এবং ঈগল প্রতীকের প্রার্থীকে অন্যায় ও বেআইনী ভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।