মো: ইমন হোসেন, ঢাবি প্রতিনিধি:
১৯৯২ সালে সংগঠিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে পুনরায় উসকানি দিয়ে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতিকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়ার প্রতিবাদে আজ সোমবার দুপুর ১২ টায় সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ভারতের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে সেখানে রামমন্দির উদ্বোধনের প্রতিবাদেই এই মানববন্ধন বলে জানিয়েছেন তারা।
মানববন্ধনের সময় ‘মসজিদ মন্দির ভাঙলো কারা, বিশ্বশান্তির শত্রু যারা’ ‘রাম মন্দিরের উদ্বোধন- সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইন্দন’ ‘সাম্প্রদায়িক চিন্তা, জানাই তীব্র নিন্দা’ সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
উক্ত মানববন্ধনে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের “মোরা একই বৃত্তে দুটি কুসুম হিন্দু- মুসলমান” কবিতা আবৃত্তি করেন আরবি বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থী আবিদ হাসান। এছাড়া ঢাবির বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক বলেন, আজ ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের ভেঙে নির্মিত রামমন্দিরের উদ্বোধন করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে আমাদের আজকের এই মানববন্ধন। আপনারা সকলে জানেন যে, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পর বিশ্বব্যাপী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল। যার রেশ বাংলাদেশেও এসে পৌঁছেছিল।
সারা ভারতবর্ষে প্রায় ২০০০ মানুষ সে দাঙ্গায় মারা গিয়েছিল। সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশের প্রায় ৩০ টি জেলায় ব্যাপক ভাংচুর এবং সহিংসতা চালিয়েছে হিন্দু জনগোষ্ঠীদের উপর। লুটপাট করা হয়েছে মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ অসংখ্য ঘরবাড়ি। সেই একই সাম্প্রদায়িক উস্কানি আজকে দেওয়া হল রাম মন্দির উদ্বোধন করার মাধ্যমে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা সকল ধরনের সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, এই ধরনের যেকোনো সাম্প্রদায়িক উস্কানিতে পা না বাড়িয়ে বরঞ্চ সকল উগ্র সম্প্রদায়িক শক্তিদেরকে রুখে দিতে। কেননা ১৯৯২ সালের ধ্বংসযজ্ঞের পুনরাবৃত্তি আমরা দ্বিতীয়বার দেখতে চাই না।
বাবরি মসজিদের স্থলে রাম মন্দির স্থাপনের মাধ্যমে উগ্র হিন্দু সম্প্রদায়িক গোষ্ঠী হিন্দু মুসলিম ডিভাইডেশন রুল খেলার মাধ্যমে ক্ষীন স্বার্থ চরিতার্থ করার পায়তারা করছে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বাংলাদেশে এই ধরনের কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় এর জন্য দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহবান জানাই। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ দেশের সকল রাজনৈতিক দলসমূহ এই উগ্র বিষবাষ্প ছড়ানো ও অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল। ভারতের সুপ্রীম কোর্ট এটা স্বীকার করেছে যে, বাবরি মসজিদ কোনো মন্দির ভেঙে বানানো হয়নি। বরং বাবরি মসজিদের স্থানে মন্দির নয় মসজিদই ছিলো। আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, বাবরি মসজিদ ভেঙে রাম মন্দির নির্মাণ ও উদ্বোধনকে উস্কানি আখ্যা দিয়ে জাতীয় সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস করার।
পরবর্তীতে রাজু ভাস্কর্য থেকে ভিসি চত্বর হয়ে জাতীয় শহীদ মিনারে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের স্টাডিজের এবি জুবায়ের বক্তব্যের মাধ্যমে ছাত্র মানববন্ধনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন তারা।