স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষনকারী শিক্ষক ইসমাইল হোসাইনসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকেসহ ৫জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে মুকসুদপুর উপজেলার ওই মাদ্রাসা থেকে এদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল আলম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃত ইসমাইল হোসেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া গ্রামের ইয়ার আলি সিকদারের ছেলে ও মাদ্রাসার সুপার ( মোহতামিম)।
মামলার অপর আসামিরা হলেন, ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মাসুম বিল্লা, আলামিন হোসেন, আসাদুজ্জামান, মিজানুর রহমান ও আমেনা বেগম। মামলার আসামি অপর আসামী মিজানুর রহমান পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
ওসি আশরাফুল আলম জানান, গত বুধবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বাঁশবাড়িয়া পরিজান বেগম মহিলা কওমি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়। এ ঘটনায় বৃস্পতিবার রাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে ইসমাইল হোসাইনসহ ৬ জনকে আসামী করে মুকসুদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ( মামলা নং- ১৮/২৪)।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ মামলার আসামী মাদ্রসার আবাসিক শিক্ষক ইসমাইল হোসাইনসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে। অপর একজন পলাতক রয়েছে।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষক তার রুমেই শিক্ষার্থীকে ধর্ষন করে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
পরে আজ শুক্রবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) গ্রেফতারকৃত ওই মাদ্রাসা শিক্ষকসহ ৫জনকে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মুকসুদপুর আমলি আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিজ্ঞ বিচারক ৫জনকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ধর্ষনের শিকার ওই শিক্ষার্থীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
মেয়েটির বাবা বলেন, তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। বুধবার সন্ধ্যার পর মেয়ে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে আসার পর তাকে শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ মনে হচ্ছিল। মেয়েকে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স শারীরিক অবস্থা দেখে মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানায়। পরে নার্স ডেকে মেয়েটিকে প্রাথমিকভাবে পরিক্ষা করা হলে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমান ওই শিক্ষার্থী সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছে। #