• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অভাব অনাটনে ৯ মাসের মেয়েকে হারপিক খাইয়ে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, মেয়ের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৪, ১২:০২ অপরাহ্ণ
অভাব অনাটনে ৯ মাসের মেয়েকে হারপিক খাইয়ে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, মেয়ের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : স্বামী মামুন তালুকদার পেশায় গাছ কাটা শ্রমিক। ফলে সংসারে লেগে থাকতো অভাব আর অনাটন। ফলে মেয়েকে লালন পালন করাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিল মা আঁখি বেগমের (১৮) পক্ষে।

ফলে অভাব আর অনাটন সহ্য করতে না পেয়ে ৯ মাসের মেয়ে আফিয়াকে টয়লেট ক্লিনার হারপিক খাইয়ে মা আঁখি বেগম নিয়ে খেয়েও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় নিজে বেঁচে গেলেও মেয়ে আফিয়া পারি জমিয়েছে পরাপারে। মা আঁখি বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আর এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে।

টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার আমিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আঁখি বেগম টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের গাছ কাটা শ্রমিক মামুন তালুকদারের স্ত্রী।

ওসি খন্দকার আমিনুর রহমান জানান, সংসারের অভাব-অনাটন নিয়ে গাছ কাটা শ্রমিক স্বামী মামুন তালুকদারের স্ত্রী আঁখি বেগম বিভিন্ন সময় মনমালিন্য হয়ে আসছিল। এ কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া-ঝাঁটি লেগেই থাকতো। তাই রাগে, ক্ষোভে, দুঃখে ও অভিমানে বুধবার রাতে আখি বেগম প্রথমে তার ৯ মাসের মেয়ে আফিয়াকে হারপিক খাওয়ান। পরে নিজেও হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক মেয়ে আফিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠানো হয়। মারা যাওয়ার শিশুর মরদেহের ময়নাতদনেতর জন্য গোপালগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হঢ। আজ বিকালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

ওসি আরো বলেন, এ ঘটনায় কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত অভিযোগ করেনি। তবে ঘটনাটির তদন্ত চলছে। কেউ অভিযোগ করলে অথবা তদন্তে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে আইনানানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, হাসাপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়। মায়ের অবস্থা শংকা মুক্ত নয়। তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার রাতেই গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে এলাকাবাসী জানায়, প্রায় ২ বছর আগে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী গ্রামের নূর আলম শেখের মেয়ে আঁখি বেগমের সাথে একই উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মামুন তালুকদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মামুন তেমন কোন কাজ করত না। মাঝে মধ্যে গাছ কাটা শ্রমিকের কাজ করলেও অধিকাংশ সময় বেকার সময় কাটাতেন।

তাই সংসারে অভাব অনটন লেগেই ছিল। এ কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ ও মনমালিন্য চলে আসছিল। দারিদ্রতার মধ্যেই ৯ মাস আগে এ দম্পত্তির একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। তারপরও স্বামী আভাব অনটন দূর করতে কোন আয়-রোজগারের ব্যবস্থা করেনি। বসে না থেকে আয় রোজগার বৃদ্ধির কথা বললেই স্বামী তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হত। এতে স্ত্রীর জীবন অতীষ্ট হয়ে ওঠে। #