স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : “ওরে আমার সব শেষ হয়ে গেছে রে রে……………তোদের আশা পূরণ হইছে রে….” এভাবেই গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কান্না জড়িত কন্ঠে ফোনে কথাগুলো বলছিলেন স্ত্রী ও মেয়েকে হারানো টুকু মিনা। বড় ভাই হারুন মিনা মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে ছোট ভাই টুকু মিনার স্ত্রী বিউটি বেগম (৪৫) ও তার এসএসসি পরিক্ষার্থী লামিয়াকে (১৫) কুপিয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় রবিবার গভীর রাতে নিহতে স্বামী টুকু মিনা বাদী হয়ে বড় ভাই হারুন মিনা (৫৬), তার স্ত্রী দুলু বেগম (৫০) ও মেয়ে মায়না খানমকে (২৩) আসামী করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলার প্রধান আসামী হারুন মিনাকে ওই দিনই গভীর রাতে কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে এ হত্যান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের টুকু মিনার স্ত্রী বিউটি বেগম (৪৫) ও তার এসএসসি পরিক্ষার্থী মেয়ে লামিয়া (১৫)। লামিয়া এ বছর লামিয়া খালিয়া ইউনাইটেড একাডেমি থেকে ২০২৪ সালের এসএসসি পরিক্ষায় অংশ নিচ্ছিলো।
গোপালগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহা. হারুন-অর-রশীদ জানান, সন্ধ্যায় বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে বড় বোন অন্তরার স্বামী দুলাভাইয়ের সাথে কথা বলছিলো ভাতিজী এসএসসি পরিক্ষার্থী লামিয়া (১৫)। এসময় বড় চাচা হারুন মীনা ভাতিজী লামিয়াকে সরে গিয়ে কথা বলতে বলেন। ভাতিজী না সরায় তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এসময় লামিয়ার মা বিউটি বেগম ও বোন অন্তরা ঘরের বাইরে বের হয়ে আসে। কথা কাটাকাটির এক পয্যায়ে বড় চাচা হারুন মিনা, তার স্ত্রী দুলু বেগম ও মেয়ে ময়না খানম মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে লামিয়া ও তার মা বিউটিকে কোপালে ঘটনাস্থলেই লামিয়া মারা যায়। এসময় অন্তরা ঠেকাতে আসলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা নিহত লামিয়ার মা বিউটি বেগম ও বোন অন্তরাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিউটি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। লামিয়া খালিয়া ইউনাইটেড একাডেমি থেকে ২০২৪ সালের এসএসসি পরিক্ষায় অংশ নিচ্ছিলো।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় রবিবার গভীর রাতে নিহতে স্বামী টুকু মিনা বাদী হয়ে বড় ভাই হারুন মিনা (৫৬), তার স্ত্রী দুলু বেগম (৫০) ও মায়না খানমকে (২৩) আসামী করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকান্ডের পরপরই পালিয়ে যায় প্রধান আসামী হারুন মীনা। এসময় হারুন মিনা কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা এলাকায় মধুমতি নদী পাড় হয়ে পালানো চেষ্ঠা করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত হারুন মিনাকে আজ সোমবার দুপুরে গোপালগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এঘটনায় হত্যাকান্ডের অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের স্বামী টুকু মিনা বলেন, তার মেয়ে লামিয়া বাড়ীর উঠানে বসে কথা বলছিলেন। এসময় তার বড় ভাই হারুন মিনা সরে গিয়ে কথা বলতে বলেন। এ নিয়ে তার মেয়ের সাথে কথা কাটাকটি হলে তার বড় ভাই হারুন মিনা তার স্ত্রী ও মেয়ে মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপালে দুজনে মারা যায়। এ ঘটনায় তিনি হত্যাকারীদের বিচারের দাবী জানান। #