স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মামলা করেছেন গোপালগঞ্জের কশিয়ানী উপজেলার ডোমরাকান্দি নূরুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ জাকারিয়া। অথচ তিনিই জানেন না, দেখেন নি এজাহারে কি লেখা।
মামলার দাবী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ জাকারিয়া বলেন, চাঁদা না চাইলেও চাঁদা দেইনি বলেই আমার নামে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তবে এজাহারে কি লেখা হয়েছে আমি জানিনা, আমাকে স্বাক্ষার দিতে বলেছে আমি স্বাক্ষর দিয়েছি।
কশিয়ানী উপজেলার ডোমরাকান্দি নূরুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ জাকারিয়া বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারী) দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, কাশিয়ানী উপজেলা প্রতিনিধি লিয়াকত হোসেন লিংকন ও প্রতিদিনের সংবাদের কাশিয়ানী প্রতিনিধি মোঃ আসাদুজ্জামানকে বিবাদী করে মামলাটি দায়ের করেন।
জানাগেছে, ডোমরাকান্দি নূরুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ জাকারিয়ার অবৈধ নিয়োগ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে দায়ের করেন।
ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক যুগান্তরে ‘কাশিয়ানীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২৯ ফেব্রুয়ারি ওই অধ্যক্ষ গোপালগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (কাশিয়ানী আমলী আদালত) মামলাটি করেন। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি গ্রহন করে গোপালগঞ্জের ওসি ডিবিকে তদন্ত করে আগামী ৩ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মমলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই দু’ সাংবাদিক তার বাড়িতে গিয়ে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ টাকা না দিলে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে মাদ্রসা থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন দু’সাংবাদিক।
অধ্যক্ষ মোঃ জাকারিয়া এ ব্যাপারে বলেন, ওই সাংবাদিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। আমি তাদের টাকা দেইনি। তাই আমার বিরুদ্ধে তারা সংবাদ প্রচার করেছে। এতে আমার মানহানী হয়েছে। মানহানী মামলার সাথে চাঁদাবাজি জুড়ে দিয়েছি। সাংবাদিকরা টাকা চেয়েছিল কি না? এমন প্রশ্নের জাবব তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
ওই অধ্যক্ষ আরো বলেন, মমালা করতে গেলে সাজিয়ে অনেক কিছুই লিখতে হয়। এজাহারে কি লেখা হয়েছে? তা আমি দেখিনি। না দেখেই বাদী হিসেবে স্বাক্ষর করেছি। এ মমলা থেকে যুগান্তরের সম্পাদকরে নাম কেটে দিতে বলেছি।
সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন লিংকন বলেন, আমরা দুই সাংবাদিক তার বক্তব্য নিতে মাদ্রসায় গিয়েছিলাম। তিনি আমাদের সেখানে বসেই বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা তার বাড়িতে যাইনি। আর আমরা তার কাছে কোন টাকা চাইনি। তিনি হয়রনী করতেই এ মিথ্যা মামলা দিয়েছেন।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তরের জেলা প্রতনিধি এসএম হুমায়ুন কবীর বলেন, এটি হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা। তাই মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
জেলা ডিবির ওসি মুঈদ চৌধুরী বলেন, এ মামলার নথিপত্র আদালত থেকে এখনো পাইনি। নথিপত্র পেলে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। #