• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদুল ফিতরের কতিপয় সুন্নাহ ও আমল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১০, ২০২৪, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
ঈদুল ফিতরের কতিপয় সুন্নাহ ও আমল

শাকিল শাহরিয়ার 

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি: “ঈদ” শব্দটি আরবি, যার অর্থ আনন্দ। “ফিতর” শব্দটিও আরবি, যার অর্থ রোজা ভাঙা, বিদীর্ণ করা। ঈদুল ফিতরের অর্থ রোজা শেষ হওয়ার আনন্দ, আল্লাহর নেয়ামত লাভ করার আনন্দ। হিজরি সনের দশম মাস তথা শাওয়াল মাসের ১ তারিখ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। 

পবিত্র রমজানে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর শাওয়াল মাসের ১ তারিখে মুসলমানদের স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরে যাওয়ার দিনটিই ঈদুল ফিতর। পবিত্র রমজানের এক মাস কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য-এসব রিপুর চর্চা থেকে নিজেকে বিরত রাখার সাধনা চলে। 

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের পরই ঈদুল ফিতর উৎসব পালন শুরু হয়। হজরত আনাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস থেকে জানা যায় যে নবী করিম (সা.) মদিনায় এসে জানলেন, মদিনাবাসী বছরের দুটি দিনে আনন্দ-উল্লাস করে থাকে। জিজ্ঞাসা করে তিনি আরও জানলেন, ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই এই দুটি দিনকে তারা উৎসবের দিন হিসেবে পালন করে। রাসুল (সা.) তাঁদের বললেন, আল্লাহ তোমাদের এই দুইটি দিনের বদলে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। দিন দুটি হলো ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর।

ঈদ কেবল একটি খুশির বা আনন্দের দিন নয়। ঈদ একটি ইবাদতের নাম। এ দিনটি আমলের জন্য এক বিরাট নেয়ামত। এদিনেও বিশেষ কিছু ইবাদত বা আমল রয়েছে, যেগুলোতে অনেক পুণ্য লাভ করা যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত জেগে ইবাদত করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। রাতগুলো হল জিলহজের রাত, আরাফার রাত, ঈদুল আজহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত এবং মধ্য শাবানের রাত। সুতরাং ঈদুল ফিতরের রাতে ইবাদত করা খুবই পুণ্যময় কাজ। এবার আমরা জেনে নেব ঈদের দিন আমাদের কী কী করণীয় রয়েছে।

ঈদুল ফিতরের কতিপয় সুন্নাহ্ ও আমল সমূহঃ

১.ঈদগাহে যাওয়ার আগে উত্তমরূপে গোসল করা।

২. হালকা নাশতা করে ঈদগাহে যাওয়া। হাদিসে খেজুর বা মিষ্টিজাতীয় কিছু খাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

৩. আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা।

৪. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন উত্তম পোশাক পরিধান করা। নতুন পোশাক পরিধান করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধতা নেই।

৫. ঈদগাহে যাওয়ার আগেই সদকাতুল ফিতর আদায় করা।

৬. হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া। তবে হেঁটে যাওয়া সম্ভব না হলে বাহনে চড়ে ঈদগাহে যাওয়া দোষণীয় নয়।

৭. এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া অন্য রাস্তা দিয়ে আসা। এতে দীর্ঘ হাঁটা এবং বেশি মানুষের সঙ্গে মেশার উপকারিতা রয়েছে।

৮. তাকবির বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া। তাকবির বলবে এভাবে, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ। এর সঙ্গে বাড়িয়ে এভাবেও বলা যাবে, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ। আল্লাহু আকবার কাবিরা, ওয়াল হামদুলিল্লাহি কাছিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসিলা।

৯. পারস্পরিক ঈদ শুভেচ্ছাবিনিময় করা। প্রতিটি জাতি তাদের নিজ নিজ ভাষায় শুভেচ্ছাবিনিময় করতে পারে। সাহাবায়ে কেরাম ‘তাক্বাব্বালুল্লাহা মিন্না ওয়া মিনকুম’ (আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে কবুল করুন) এ জাতীয় বাক্য দ্বারা ঈদ শুভেচ্ছাবিনিময় করতেন।

১০. খুতবা শোনা ও দোয়া করা। ঈদের নামাজের পরে ইমাম সাহেব খুতবা প্রদান করবেন এবং মুসল্লিরা তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করবেন। এটি পালন করা ওয়াজিব।

১১. এদিনে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, গরিব-অসহায় নির্বিশেষে সবার সঙ্গে মিশা, সবার খোঁজখবর নেওয়া, সাধ্যমতো তাদের বাসাবাড়িতে নিমন্ত্রণ জানানো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।