স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ
ঈদের দ্বিতীয় দিনে গোপালগঞ্জে বিনোদন কেন্দ্র সাভানা ইকো রিসোর্টে ঘুরতে গিয়ে ছবি তোলা নিয়ে পার্ক কর্মচারীদের হামলায় একটি পরিবারের শিশুসহ ৭ জন আহত হয়েছে।
আহতরা গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ ঘটনায় আহত পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আজ শনিবার বিকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগী টোল গ্রামের সাভানা ইকো রিসোর্টে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, মামুন ফকির (৪০), সোনিয়া আক্তার (২৫), সিয়াম (৭), আসমা বেগম (৫০), সোনা মিয়া ফকির (৬৮) আসাদ শেখ (২২) ও সালমান শেখ (৯)।
হামলার শিকার আহত মামুন ফকির বলেন, আমার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি গ্রামে। আমি ঢাকায় থাকি ও গাড়ী চালক। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়িতে আসলে আজ ঈদের দ্বিতীয় দিন সন্তান আর পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে যাই সাভানা ইকো রিসোর্টে। শিশু, নারী, বৃদ্ধাসহ পরিবারে ১৩ জন মিলে প্রত্যেকে ১০০ টাকা করে টিকিট কেটে ভিতরে প্রবেশ করে ঘুরছিলাম ও যে যার মতো করে ছবি তুলছিল। ছবি তোলার এক মূহুর্তে আমার ছোট শিশুটা রিসোর্টের একটি রেলিং এ দাঁড় করিয়ে ছবি তুলছিলাম। এতে পার্কের এক কর্মচারী বাধা দেয় ও গাড়ী চাপা দিতে চায়। এ নিয়ে আমার সাথে কাটাকাটি হলে এক পর্য্যায়ে আমার আমার পায়ের উপর গাড়ির চাকা উঠিয়ে দিলে আমি তাকে ধাক্কা দেই। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ফোন করে আরো ৪/৫জন কর্মচারীকে নিয়ে আসলে তারা আমাকে লাঠি দিয়ে পিটায় ও মাথায় আঘাত করে। এতে আমার মাথা ফেটে রক্ত বের হয়। এসময় আমার সাথে থাকা বৃদ্ধা মা, বোনরা ঠেকাতে গেলে তাদেরও লাটিপেটা করে। ছোট ছোট বাচ্চাদের কিল ঘুষি লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়।
তিনি ক্ষোভের সঙ্গে আরো বলেন, আমরা গরীব। তারপরও এই ঘটনার বিচার চাইতে প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নিব। কারন আমি যদি মারা যেতাম তাহলে আমার এতিম সন্তান ও মা বাবার কি হতো।
আহত মামুন ফকিরের শ্যালক আসাদ শেখ জানিয়েছেন, ঘটনা খুবই সামান্য। আমার ভাগ্নির ছবি তোলা নিয়ে। নিষেধ করেছে আমরা মেনে নিছি। কিন্তু তারা আমাদের গায়ে হাত তুললো। এটা মেটেও ঠিক করেনি। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
আহত মামুনে মা আসমা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত মারলে আমি ঠেকাতে যাই। ওরা আমাকেও মেরেছে। শুধু আমাকে নয় আমাদের সবাইকে বেদম মারপিট করেছে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিছে। যা করেছে ঠিক করেনি। আপনারা এর বিচার করেন।
আহত সালমান শেখ বলেন, আমাকেও লাখি মেরে মাটিতে ফেলে দিছে। মুখে চড় মেরেছে। আমি ব্যাথা পেয়েছি। এরকম অভিযোগ প্রায় সকলেরই।
গোপালগঞ্জ আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ বিচিত্র বিশ্বাস বলেন, কিছু রোগী এসেছেন আঘাত জনিত সমস্যা নিয়ে। এর মধ্যে একজনের মাথায় সেলাই লেগেছে তার নাম মামুন ফকির। বাকিদের অবস্থা সামন্য। তবে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা চিহৃ দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে সাভানা ইকো রিসোর্টের ম্যানেজার মোঃ আসাদের সঙ্গে মুঠো ফোন (০১৩২১১৪৮৬৯৪) কথা হলে তিনি বলেন, আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম। শুনেছি কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে কিন্তু মারপিটের ঘটনা ঘটেছে এটা আমাকে কেউ বলেনি। তারপরও আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে খুবই খারাপ ঘটনা। #