• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন মন্ত্রী কন্যার সাথে মতানৈক্যে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি, নেতা-কর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ১৩, ২০২৪, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ
মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন মন্ত্রী কন্যার সাথে মতানৈক্যে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি, নেতা-কর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এক তরুণ ব্যবসায়ির পক্ষে প্রচার প্রচারণায় অংশ নেয়ায় মন্ত্রী কন্যা ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেত্রী কানতারা কে খানের সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মতনৈক্য প্রকট ধারণ করেছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সাধারণ ভোটারদের কাছে বিষয়টি ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। চরম অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা। এ মতনৈক্যের কারণে নেতা-কর্মীর মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব বিভাজন ও অস্বস্তি নির্বাচনে কেমন প্রভাব ফেলবে এনিয়ে সচেতন মহলে চলছে জল্পনা কল্পনা ও নানা হিসেব নিকেশ।

জেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানাগেছে, আগামী ২১ মে দ্বিতীয় পর্বে মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগেরই চার জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে রয়েছেন। তারা হলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কাবির মিয়া (ঘোড়া), উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএম মহিউদ্দিন আহমেদ (মোটর সাইকেল), তরুণ ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম রাজ (দোয়াত কলম) ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য মোঃ কাইমুজ্জামান রানা (আনারস)।

মুকসুদপুর উপজেলা ঘুরে জানাগেছে, ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে মুকসুদপুর উপজেলা গঠিত। উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৮৯ জন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান এই এলাকার সন্তান। গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলার ৭ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত) থেকে তিনি ষষ্ঠ বারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জাতীয় নেতা মুহাম্মদ ফারুক খানকে তাদের অভিভাবক মনে করেন। সুষ্ঠু ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কৌশলগত কারণে এবছর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেয়নি। বরং মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বজনদের নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করার জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়।

গত উপজেলা নির্বাচনে এমএম মহিউদ্দিন আহমেদের পক্ষে সমর্থন দেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাবির মিয়ার কাছে পরাজিত হন। মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ প্রত্যাশা করছিলেন চেয়ারম্যান পদে এবারও তিনি এমএম মহিউদ্দিন আহমেদকে সমর্থন দেবেন। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মুহাম্মদ ফারুক খান এব্যাপারে মুখ খোলেননি।

অপরদিকে, তরুন ব্যবসায়ী ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেম রাজের পক্ষে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খানের মেয়ে কানতারাকে খানের গণসংযোগ নিয়ে দেখা দিয়েছে যত বিপত্তি। এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। উপজেলা জুড়ে চাউর আছে মুখরোচক কথাবার্তা। কেউ কেউ বিষয়টিকে দলের ঐক্য বিনষ্টের কারন হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে এটাকে কোন সমস্যাই মনে করছেন না।

নাম না প্রকাশের শর্তে মুকসুদপুর উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যান গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, জননেতা মুহাম্মদ ফারুক খান আমাদের অবিভাবক। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মুকসুদপুর আওয়ামী লীগ এম এম মহিউদ্দিন আহমেদের পক্ষে কাজ করছে। মন্ত্রীর মেয়ে কানতারা কে খান যদি অন্য কোন প্রার্থীকে নিয়ে মাঠে নেমে ভোট চান-তা মোটেও শোভনীয় নয়। এতে নেতা-কর্মীরা বিভ্রান্ত হবে। মতনৈক্য মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে।

মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও খান্দারপাড় ইউপি’র চেয়ারম্যান মোঃ সাব্বির খান বলেন, জননেতা ফারুক খান আমাদের অবিভাবক। আমরা দলের জন্য নিবেদিত এম এম মহিউদ্দিন অহম্মেদের পক্ষে কাজ করছি। আমাদের উপর কোন চাপ নেই। তবে সাংসদ কন্যা কানতারা কে খানের এখন মুকসুদপুর থাকাটা আমাদের প্রার্থীর জন্য মোটেও সুখকর নয়।

মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও রাঘদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান টুটুল বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের সুযোগ্য কন্যা কানতারা কে খান কারো পক্ষে ভোট চাননি। তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, যিনি এলাকার উন্নয়ন করতে পারবেন এবং আওয়ামীলীগ বিরোধী নয়-এমন উপযুক্ত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুণ। এতে আমি খারাপ কিছু দেখি না।

মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সভাপতি রবিউল আলম সিকদার বলেন, মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ৯৯ ভাগ নেতা-কর্মী এমএম মহিউদ্দিন আহম্মেদকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হলে এবারও তিনি প্রার্থী হতেন। কানতারা কে খান যাকে নিয়ে প্রচারনা প্রচারণা করছেন-তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে নবাগত। এনিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও অনৈক্যের সৃষ্টি হচ্ছে।প্রিয় নেতা ফারুক খানকে যারা পছন্দ করেন না তারা লাভবান হবেন। ভবিষ্যতে রাজনীতিতে এজন্য তাঁকেই খেসারত দিতে হবে।

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য ও বে-সামরিক বিমান ও পর্যাটন মন্ত্রীর কন্যা কানতারা কে খানের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগের কথা অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচনে আমরা এমন একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে চাই যিনি হবেন তারুণ্য ও সততার প্রতীক। যিনি তরুণদের নিয়ে চিন্তা করেন। এলাকার উন্নয়নের পাশাপশি স্মার্ট বাংলাদেশ নিয়ে যিনি ভাবেন।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের কেবল ভদ্রলোত হলেই চলবে না।যিনি যে কোন দুর্যোগে মানুষের পাশে থেকে সহায়তার হাত বাড়বেন,নিজ উদ্যোগে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেবেন-এরকম নেতা খুব দরকার। আগামী ৫ বছর যার হাত ধরে মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর উন্নয়ন হবে-এমন উপযুক্ত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে। দল নির্বাচন উম্মুক্ত করেছে। নেতা-কর্মীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীর জন্য কাজ করবে।এখানে বিভক্তির কিছু দেখছি না। সবাইতো আওয়ামী লীগ করে-তাহলে সমস্যা কোথায়। যদি কোন ভুল হয়েই যায়-ওই ভুল থেকে আমরা শিক্ষা নেব। কারন রাজনীতি বলে কথা। #