• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায নিহতের মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ১৫, ২০২৪, ১৩:৪৮ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায নিহতের মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত মো. ওয়াসিকুর রহমান ভূঁইয়ার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে ওই মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ ঘটনায় ঘটনাস্থল চন্দ্রদিঘলীয়ায়ও মোতায়েন করা হয়েছে অতিরক্ত পুলিশ। তবে এখন পযর্ন্ত এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অাজকের মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে আগামীকাল অবরোধ কর্মসূচীর ঘোষনা দেয়া হয়েছে।

জানাগেছে, মঙ্গলবার রাতে গোপালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া ও পরাজিত প্রার্থী বিএম লিয়াকত আলীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএম লিয়াকত আলীর সমর্থক মো. ওসিকুর ভুইয়া নিহত ও ৫জন আহত হন।

এ ঘটনায় আজ বুধবার বেলা ১১টায় নিহত মো. ওয়াসিকুর রহমান ভূঁইয়ার মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। বিক্ষোভ মিছিলটি বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠ থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের চেনানিয়াকান্দিতে গিয়ে শেষ হয়। এতে চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের কয়েক হাজার লোক অংশ নেন।

পরে দুপুর ১২ টায় ওই স্থানে ঢাকা খুলনা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ঢাকা-প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী গাজী হাফিজুর রহমান লিকু ও বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া অপসারনসহ দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে গাছের গুড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে অবেরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে মহাসড়ক দিয়ে বন্ধ হয়ে যান যান চলাচল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিজিবি, পুলিশসহ ব্যপক আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম ও পুলিশ সুপার আল-বেলি আফিফা আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা এক ঘন্টা পর অবরোধ তুলে নেয়।

এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল আলম কাকন, উপ প্রচার সম্পাদক শিমুল চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পরাজিত প্রার্থী বিএম লিয়াকত আলী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আলিমুজ্জামান বিটু, জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি শেখ সাহবুদ্দিন হিটু, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জায়েদ মাহামুদ বাপ্পি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।

পরে সমাবেশে সমাবেশ বক্তারা, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সদ্য বিজয়ী চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ভূঁইয়ার অপসারন ও দোষীদের গ্রেফতার করে শাস্তির দাবী জানান। তবে আজ রাতে মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র জব্দ করা না হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর ঘোষনা দেয়া হয়।

এদিকে, এ ঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় আতংকের মধ্যে রয়েছে চন্দ্রদিঘলীয়াবাসী। ফলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক বলেন, যে হত্যার ঘটনা ঘটেছে তা অত্যান্ত ন্যাক্কার জনক। এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। যেহেতু জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আমাদের আসস্ত করেছেন তাই আমরা সাময়িকভাবে অবরোধ তুলে নিয়েছি। আমরা প্রতাশা করছি প্রশাসন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করবে।

কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক শামীম মোল্লা বলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন পরবর্তীতে সহিংসতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু এর জন্য দায়ী।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্যা বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলির সদস্য ও স্থানীয় সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম আমাদের অবিভাবক। তিনি একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। হত্যার ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির সাথে জড়িত নন। নোংরা রাজনীতিকে তিনি প্রশ্রয় দেন না। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় গোপালগঞ্জের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিকসহ অবস্থান ক্ষমতার অপব্যবহার করে গোপালগঞ্জকে অশান্ত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এই অপচেষ্টা কখনোই সফল হতে দেবে না সাধারণ জনগণ।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার আল-বেলি আফিফা বলেন, অবরোধকারীদের সাথে আমরা কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করলে তারা অবরোধ তুলে নিয়েছে। আমার ইতোমধ্য হত্যার বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। এ ঘটনায় এখন পযর্ন্ত মামলা না হলেও আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শান্তি পূর্ণ হয়েছে এবং স্বচ্ছভাবে ফলাফলা ঘোষনা করা হয়েছে। দুই প্রার্থী মধ্যে ভোটের ব্যবধান কম ছিলো। আমাদের দেশে একটা কালচার আছে নির্বাচনে পরাজিত হলে বিভিন্ন প্রকার প্রশ্ন তোলা হয়।

তিনি আরো বলেন, জেলার সার্বিক আইন শৃংখলা ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, বিজিবি, আনসার ব্যাটেলিয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। অবৈধ কোন অস্ত্র ব্যবহার হলে তা উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরবর্তী সহিংসতায় বিজয়ী প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া লুটুলের সমর্থকে গুলিতে পরাজিত প্রার্থী বিএম লিয়াকত আলির সমর্থক মো. ওসিকুর ভুইয়া (২৭) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অপর ৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে গোপালগঞ্জে সদর উপজেলা চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রদিঘলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। #