• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতায় যুবক নিহত হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচীর ঘোষনা দিয়ে তিন ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ১৬, ২০২৪, ১৩:০৩ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতায় যুবক নিহত  হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচীর ঘোষনা দিয়ে তিন ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহতের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের আন্দোললে আগামী রোববার ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচীর ঘোষনা দিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে স্থানীয় সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নির্দেশ আন্দোলনকারীরা বেলা ১টার দিকে অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেয়।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল সহকারে সদর উপজেলা চন্দ্রদিঘলীয় বাসষ্ট্যান্ডে জড়ো হন। পরে ঢাকা খুলনা মহাসড়কের ওউ স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করে। বেলা ১টা পর্যন্ত ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে চন্দ্রদিঘলিয়া বাসস্ট্যান্ডে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে। এসময় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। পরে আন্দোলন কর্মসূচিতে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা কর্মী কর্মসূচিতে যোগ দেয়। এতে আন্দোলন আরো বেগবান হয়ে ওঠে।

অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের দুই পাশের তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দূরপাল্লার যানবাহন আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পরে সাধারন যাত্রীরা। পরে স্থানীয় সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নির্দেশ আন্দোলনকারীরা বেলা ১টার দিকে অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেয়।

নিহতের মা জবেদ বেগম (৬৭) বলেন, আমার ওসিকুরের চার মাসের ছেলেকে যারা এতিম করলো তাদের ফাঁসি চাই। এতিম বাচ্চা কিভাবে বাচঁবে। আমার ছেলের খুনিদের পুলিশ গ্রেপ্তার না করলে আমি বাড়ি ফিরবো না।

আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ছবেদ আলি ভূঁইয়া বলেন, বুধবার হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জর চেচানিয়াকান্দি অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে হত্যার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্ত হত্যাকান্ডের ৩৬ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসন কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ জন্য বৃহস্পতিবার সাড়ে এগারোটা থেকে দাবী আদায়ের উদ্দেশ্য সর্বস্তরের জনগনকে সাথে নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছি।

আলোচলন চলাকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে পরাজিত প্রার্থী বিএম লিয়াকত আলি বলেন, নিহত ওসিকুর ভূঁইয়া ছিলো আমার নির্বাচনী এজেন্ট। তাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করে আমার প্রতিপক্ষ। নিহত ওসিকুরের ছোট একটি ছেলে। কি অপরাধ ছিলো ওসিকুরের? আজ তার সন্তান এতিম হলো, তার স্ত্রী ও মা-বোনকে কি জবাব দিবো? তাই দোষীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম ভাইয়ের নির্দেশে আজ আন্দোলন তুলে নিলাম।

প্রশাসনের প্রতি ওই হত্যাকান্ডে ব্যবহারিত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এতে ব্যর্থ হলে আগামী রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

প্রসঙ্গত, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরবর্তী সহিংসতায় বিজয়ী প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া লুটুলের সমর্থকে গুলিতে পরাজিত প্রার্থী বিএম লিয়াকত আলির সমর্থক মো. ওসিকুর ভুইয়া (২৭) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অপর ৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে গোপালগঞ্জে সদর উপজেলা চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রদিঘলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এরজের ধরে গতকাল মঙ্গলবার নিহতের লাশ নিয়ে জেলা সদরের চেচানিয়াকান্দি এলাকায় ঘন্টাব্যাপী ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেছিল। #