ষ্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : একসময় দেশের জাতীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গ্রামের মানুষের চিত্ত বিনোদনের সুযোগ করে দিত ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগীতা। কিন্তু শহরের হাওয়া গ্রামে উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এখন আর তেমন একটা দেখা যায় না।
তাই এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগীতা। নির্মল চিত্ত বিনোদন ভাগাভাগি করতে সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের মাইঝকান্দি গ্রামবাসী এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করে। এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগীতা দেখতে ভীড় করে হাজারো মানুষ। প্রতিযোগীতা শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেয়া হয় নগদ অর্থ।
মাইঝকান্দি গ্রামে গিয়ে দেখাগেছে, সাধারন মানুষের চিত্ত বিনোদন দিতে শুক্রবার (২৪ মে) বিকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের মাইঝকান্দি মাঠে আয়োজন করা হয় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগীতার। এ প্রতিযোগীতায় নড়াইল, মাদারীপুর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ থেকে ৭টি ঘোড়া অংশ নেয়। বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা কয়েক রাউন্ডে প্রায় চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ঘোড়াগুলো। চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ঘোড়ার সওয়ারের দৃষ্টি পরিচালিত করে ঘোড়াকে। দৌঁড় শুরু হবার সাথে সাথে মাঠের চারদিকে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বসিত আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। হর্ষধ্বনি আর করতালি দিয়ে এ প্রতিযোগীতার অনাবিল আনন্দ উপভোগ করেন। এ যেনো চিরায়ত বাঙালির চিরচেনা মিলনমেলা।
এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগীতা দেখতে তীব্র গরম উপেক্ষা করে দুপুর থেকেই মাঠে ভীড় করে নানা বয়সের দর্শনার্থীরা। গোপালগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার শিশু ও নারীসহ হাজার হাজার দর্শনার্থী পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে আসে এই মাঠে। উপভোগ করেন ঘোড় দৌঁড় ও গ্রামীণ মেলা। মেলায় নানা ধরনের পন্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানীরা।
এর আগে ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগীতায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যন শিপন বিশ্বাস সুশীল। এ প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনকারী সকল ঘোড়ার মালিকের হাতে নগদ অর্থ তুলে দিনে তিনি।
ঘোড়া দৌঁড়ে অংশ নেয়া ঘোড়ার মালিক দিবাকর ভৌমিক বলেন, ঘোড়দৌড় হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগীতা। দর্শকদের আনন্দ দিতে এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এখানে নিজের ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগীতায় এসেছি। প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে পেরে খুব ভাল লাগছে।
অপর ঘোড়ার মালিক বংশ পরমপরায় আমি ঘোড়দৌড় প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে থাকি। আমি আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্ঠা করছি। মনের আনন্দ নিতে প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে থাকি। এছাড়া এলাকার মানুষও আনন্দ পাচ্ছে। আমার পুরস্কার পাওয়ার জন্য নয় মানুষকে আনন্দ দিতেই প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহন করি।
ঘোড়দৌঁড় দেখতে আসা স্বপন বিশ্বাস (৬০) বলেন, আগের যে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগীতা হতো তা ছিল দেখার মত। এখন আগের মত এমন একটা হয় না। তারপরেও এখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, দেখে খুব ভালো লাগলো।
স্কুল ছাত্রী রুপা বল ও কলেজ শিক্ষার্থী রোজ বল বলেন, এখানে অনুষ্ঠিত হবে শুনে এবারই প্রথম ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগীতা দেখলাম। মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখতে এসেছি। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগীতা দেখে খুব ভাল লেগেছে। আগামীতেও এমন আয়োজন দেখতে চাই।
দর্শনার্থী গোবিন্দ চন্দ্র বল বলেন, ঘোড়াদৌড় বাংলার একটি ঐতিহ্য, এটা ধরে রাখা দরকার। এজন্য সরকারী ও বেসরকারীভাবে সহযোগীতা প্রয়োজন। আমি চাই প্রতি বছর যেনো এখানে ঘোড়া দৌঁড় প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হোক।
ঘোড় দৌঁড় দেখতে আসা অশোক পোদ্দার বলেন, এমন আয়োজন করায় আমি আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। এখন এসব প্রতিযোগীতা হারিয়ে যাচ্ছে। আশা করি আগামীতেও এমন আয়োজন থাকবে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যন শিপন বিশ্বাস, কালেরক্রমে আমাদের দেশ থেকে ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। মনের শান্তি ও প্রশান্তির জন্য এসব খেলাগুলো ধরে রাখা উচিত। আমরা চাই গ্রাম বাংলায় এসব ঐতিহ্য আবারো ফিরে আসুক। আমাদের ঐহিত্য ধরে রাখতে এমন আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতে গ্রাম বাংলার এসব ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ধরে রাখতে আমার পক্ষ থেকে সব সময় সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে। #