• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে ভেঙ্গে গেছে সেতু বেদগ্রাম-সিলনা সড়কে চারদিন ধরে যান চলাচল বন্ধ, দূর্ভোগে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ৩০, ২০২৪, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে ভেঙ্গে গেছে সেতু বেদগ্রাম-সিলনা সড়কে চারদিন ধরে যান চলাচল বন্ধ, দূর্ভোগে মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম-সিলনা সড়কে সিলনা বাজার সংলগ্ন শির খালে নির্মিত একটি সেতু ভেঙ্গে পড়েছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে গত চারদিন ধরে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে দুই উপজেলার মানুষ। ফলে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরে যতায়েত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে তাদের। দ্রুত সেতুটি নির্মাণের দাবী স্থানীয়দের।

আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম-সিলনা সড়কে সিলনা বাজার সংলগ্ন শির খালে উপর নির্মিত সেতুটি বেদ্রগ্রাম-বর্ণি সড়কে সদর উপজেলার একাংশকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
১৯৯৪ সালে ২৭ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ মিটার প্রস্থের এ সেতু নির্মাণ করা হয়। পরে ২০২৩ সালে এপ্রিল মাসে ১২ লাখ ৯৮ হাজার ব্যায়ে তা করা হয় মেরামত। কিন্তু সোমবার সকালে ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে সেতুর পাশের একটি গাছ উপড়ে মাটি সরে গেলে ও তীব্র স্রোতে সেতুটি ভেঙ্গে পড়ে। ফলে বেদ্রগ্রাম-বর্ণি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

সড়কটি দিয়ে টুঙ্গিপাড়ার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জেলা শহর, কোটালীপাড়া উপজেলা এবং সদর উপজেলার অর্ধ লাখ মানুষ টুঙ্গিপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে থাকে। সেতুটি ভেঙ্গে পাড়ায় চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা। ফলে সদর ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় মালামাল আনা নেয়ায় অন্তত ১০ কিলোমিটর পথ বেশি ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে যাত্রীদের।

চলাচলকারী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের আকবর শেখ বলেন, প্রতিদিন আমি এই সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করি। কিন্তু গত সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে সেতুটি ভেঙ্গে গেছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। অতি প্রয়োজনে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এ ভাঙ্গা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত সেতু তৈরীর দাবী জানাই।

স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণ বালা বলেন, সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে ককেটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হয়েছে। এমনিক এখান দিয়ে কোন ধরনের গাড়ী চলাচল করতে পারছে না। ফলে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া, হাটবাজারে যাওয়াসহ সব কিছুতেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

চলাচলকারী শ্যামল কান্তি বিশ্বাস বলেন, গোপালগঞ্জ সদর ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাসিন্দারা এ সেতুটি ব্যবহার করে থাকে। প্রতিদিন অর্ধ লাখের বেশি মানুষ এ সেতুটি ব্যবহার করে। কিন্তু চারদিন পার হলেও যাতায়েতের কোন বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি। এতে জনসাধারন চরম দূর্ভোগে পড়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসিন উদ্দীন বলেন, ‘প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে সারা দেশের মতো গোপালগঞ্জেও কিছু ক্ষতি হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদরের বেদগ্রাম থেকে টুঙ্গিপাড়ার বর্ণী ইউনিয়নের সংযোগ রাস্তায় এলজিইডি নির্মিত একটি সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এ কারণে গোপালগঞ্জ এবং টুঙ্গিপাড়ার একাংশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ওই স্থানে সেতু পুনর্নির্মাণের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহামুদ হাসান বলেন, গোপালগঞ্জ সদরের বেদগ্রাম-সিলনা সড়কের একটি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে জনগণের দুর্ভোগ হচ্ছে। দুর্ভোগ লাঘবে এলজিইডি থেকে একটি বেইলি ব্রিজ অথবা টেম্পোরারি ব্যাম্বো ব্রিজ করে দেওয়া হবে, যাতে মানুষ এবং হালকা যানবাহন এখান দিয়ে চলাচল করতে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। #