• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর এপিএস গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর নিয়োগ বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ৩০, ২০২৪, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ
গোপালগঞ্জে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর এপিএস গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর নিয়োগ বাতিল

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর নিয়োগ বাতিল করায় গোপালগঞ্জে মিষ্টি বিতরণ করেছে সদর উপজেলা নির্বাচনের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা।

আজ বুধবার বিকেলে সদর উপজেলা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের চন্দ্রদীঘলিয়া বাসস্ট্যান্ডে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

আজ বুধবার (২৯ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করে।

ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় “গাজী হাফিজুর রহমান-এর সাথে সরকারের সম্পাদিত চুক্তিপত্রের অনুচ্ছেদ-৮ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ পদে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ১ জুন ২০২৪ তারিখ হতে এতদ্বারা বাতিল করা হলো।”

এ খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে গোপালগঞ্জে টক অফ দ্যা টাউনে পরিনত হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পরার পরে সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়নের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের চন্দ্রদিঘলিয়া বাজারে আন্দন মিছিল, সমাবেশ ও মিষ্টি বিতরণ করে সর্বস্তরের জনগণ। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএম লিয়াকত আলী, চন্দ্রদিঘলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাবেদ আলী মোল্লা, আওয়ামী লীগ নেতা সবেদ আলি ভূঁইয়া বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে বক্তারা গাজী লিকুর চুক্তি বাতিল করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গুলিতে নিহত বিএম লিয়াকত আলীর সমর্থক ও যুবলীগ নেতা ওসিকুর ভূইয়া হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানায়।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপে গোপালগঞ্জ সদরে গাজী হাফিজুর রহমান টেলিফোন প্রতীকের প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূঁইয়ার নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে প্রচার প্রচারণা চালায়। ওই নির্বাচনে কামরুজ্জামান ভূঁইয়াকে বিজয়ী ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা। এতে আনারস প্রতীকের প্রার্থী বিএম লিয়াকত আলি পরাজিত হন এবং কারচুপির অভিযোগ আনেন।

এরপর নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় পরাজিত প্রার্থী বিএম লিয়াকত আলির সমর্থক ওসিকুর ভূঁইয়া কামরুজ্জামান ভূঁইয়ার সমর্থকদের গুলিতে নিহত হয় বলে অভিযোগ করে পরাজিত প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকরা। এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে গোপালগঞ্জ। লাশ নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এছাড়া বিক্ষুব্ধ জনতা গোপালগঞ্জের জেলা প্রশসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে।

এ ঘটনায় নিহত ওসিকুর ভূঁইয়ার বোন পারুল বেগম বাদি হয়ে কামরুজ্জামান ভূইয়াকে প্রধান ও ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এমামলায় এখন পর্যন্ত দুই জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিচুর রহমান। #