যবিপ্রবি প্রতিনিধি
সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কর্মকর্তারা। বুধবার (২৯ মে) সকাল দশটায় যবিপ্রবির মাইকেল মধুসূদন দত্ত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি কাম একাডেমিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠায় নাই’ ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় বৈষম্যের ঠায় নাই’ ‘বৈষম্যমূলক পেনশন মানি না, মানব না’ প্রভৃতি স্লোগান দেন কর্মকর্তারা।
যবিপ্রবির উপ রেজিস্ট্রার নিত্যানন্দ পালের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে কর্মকর্তারা বলেন, চলমান পেনশনের পরিবর্তে সার্বজনীন পেনশন একপ্রকার চক্রান্ত। দেশের গুটিকয়েক সুবিধাবাদী আমলা দ্বারা প্ররোচিত হয়ে এমন বৈষম্যমূলক অন্যায় আইন আমরা মানি না।
কর্মকর্তারা বলেন, সরকারি চাকরি মানে যে বেশি বেতন এমন ধারণা থেকে খুব কম মানুষই সরকরি চাকরিতে আসেন। সরকারি চাকরি করার পিছনে যে কয়েকটা বিষয় সবাই বিবেচনা করে তা হচ্ছে সরকারি চাকরি করলে আমাদের সামাজিক সম্মান ও আর্থিক নিরাপত্তা বজায় থাকে। চাকরি শেষে আমাদের আর্থিক নিরাপত্তা হচ্ছে পেনশন। তাই অনেকে উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেই পেনশন যদি আমরা না পাই, তাহলে একজন সাধারণ চাকরিজীবী এবং আমাদের মাঝে পার্থক্য কোথায়? তবে সরকারি চাকরি আর বেসরকারি চাকরির মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারীরা যদি পেনশন থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে দেশ মেধা শূণ্য হতে বেশি দেরি নেই।
এই সার্বজনীন পেনশন প্রজ্ঞাপন চালু হলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা কখনোই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা হতে চাইবে না। কেউ চাইবে না তার ভবিষ্যৎ এমন হোক। আমাদের দাবি, এই পেনশন প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হোক। এই দাবি শুধু আমাদের একার নয়। এই দাবি সারা বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারীদের। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানাই, এই পেনশন প্রজ্ঞাপন পুনর্বিবেচনা করুন, দেশকে মেধা শূন্যের হাত থেকে রক্ষা করুন।
যতদিন না আমাদের দাবি মানা হচ্ছে আমরা ততদিন আন্দোলন করেই যাবো। সমান সুবিধার নামে যে বৈষম্যমূলক সিস্টেম চালু হতে যাচ্ছে আমরা তার অবিলম্বে প্রত্যাখ্যান চাই। অন্যথায় আন্দোলন আরও বেগবান হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদান করেন, গ্রন্থাগারিক স্বপন কুমার বিশ্বাস, প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ড. দীপক কুমার মন্ডল, পরিকল্পনা উন্নয়ন ও ওয়ার্কস এর পরিচালক আব্দুর রউফ, উপ রেজিস্ট্রার মোঃ ইমদাদুল হক, উপ গ্রন্থাগারিক মেহেদী হাসান, জনসংযোগ শাখার উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) আব্দুর রশিদ, শরীর চর্চা শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াহিদ খোকন প্রমুখ।